কবিতা

মনে পড়ে

প্রকাশ : ১৪ জানুয়ারি ২০২০, ১১:৪৩ | আপডেট : ১৪ জানুয়ারি ২০২০, ১২:৪২

সনজু খান

কত দিন, কত রাত, কত মাস, কত বছর কেটে গেল—কই এমন করেতো কোনদিন তোমায় মনে পড়েনি! এই হৃদয়তাড়নার মধ্যে যে এক ধরণের প্যারানোইয়া কাজ করছে, তাতে সন্দেহ নেই।

আজ হয়তো আমরা পারস্পরিক সান্নিধ্য, হার্দিক বিনিময়ের মধ্যে অস্তিত্বের বহু বুননে আশ্রিত অর্থ খুঁজে পাবার চেষ্টা করি। যা করার উচিৎ ছিল বহু আগেই।

জানো, এখন আমি তিরিশ হাজার ফুট উপর দিয়ে মাটি, জঙ্গল, পাহাড়, সমুদ্র এক এক করে অনিশ্চয়তার মাঝ দিয়ে পাড়ি দিচ্ছি। একটু অসাবধানতায় সবার মৃত্যু নিশ্চিত।

প্লেন ভেঙে পড়ুক, এটাই বোধহয় চাইছি। তোমার কথা মনে হতেই সেই চাওয়া ক্রমশ তীব্র থেকে তীব্রতর হয়ে উঠছে। হয়তোবা মনের এই গহন কামনা থেকেই আমার এই ইচ্ছে।

প্লেনটা কোন পাহাড়ের চূড়ায় বা সমুদ্রের উপরে বা জঙ্গলের মধ্যে কিংবা কোন শহরে বা গ্রামে ভেঙে পড়ুক, কিংবা হারিয়ে যাক বারমুডা ত্রিকোণের ম্যাজিক আবর্তে, সেটা আমি চাইছি না।

আমি চাইছি, প্লেন শূন্য থেকে ঘুরপাক খেতে খেতে পড়ুক তোমার উপর। ক্ষতবিক্ষত তোমার শরীর হয়ে উঠবে আকাশের নিচে বিস্তীর্ণ সবুজ, সুগন্ধি আরণ্য গীতিময় শম্পভূমি।

চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে করছে—Lie down lie easy, Let me shipwreck in you things! হয়তো এটাও আমার একধরনের উম্মাদনা।

আমার এই উন্মাদনা দেখে রবার্ট গ্রেভস হয়তো বলতেন—the greatness, the rareness, the muchness. এই উন্মাদনা ছাড়া ডাইলান টমাস কোনদিনও লিখতে পারতেন না—Through I sang in my chains like the sea.

জানো আফরোজা, প্রেমের জন্মমুহূর্ত ঠিক শিল্পের জন্মমুহূর্তের মতোই এক অনিঃশেষ সম্ভাবনার সীমারেখায় দাঁড় করিয়ে দেয়, যেখান থেকে যতদূর দেখা যায়, মনে হয়—from the sun to the sea but the flaming gate of Eternity.

পিডিএসও/হেলাল