পোস্টমর্টেম

কবি ইকবাল চৌধুরী : সমস্ত অবয়ব জুড়ে তার কবিতার খেলা

প্রকাশ : ০৭ অক্টোবর ২০১৯, ১৫:২৩

সাহিদা সাম্য লীনা, সাংবাদিক ও সাহিত্যিক

একটা মানুষ কতগুলো গুণ নিয়ে জন্ম গ্রহণ করে! তা বাস্তব জীবনে নানা ক্ষেত্রে আমরা অনুধাবন করি। কারোটা বেশি নজর কাড়ে, কারোটা কম। এই নজর কাড়ার কারণও থাকে। শুধু যে বেশি গুণ থাকলে তিনি সকলের নজর কাড়বেন তা নয়। একটা গুণ দিয়েও নিজেকে বেশ করে উপস্থাপন করা যায় অন্যের চোখে। আর এটাই দক্ষতা। আমার নজরে আলোর বিচ্ছুরণ স্পর্শটা জটিল ! সহজে কাউকে পজিটিভ একশো নাম্বারিং আমার অসম্ভব। আমার খতিয়ানে ফুল মার্কস পাওয়া খুব কম সংখ্যক ব্যক্তি থাকেন। কম সংখ্যকের সফল তালিকায় থাকা ফেনীর সাহিত্য সংস্কৃতি জগতের একজন কবির পোস্টমর্টেম করতে যাচ্ছি।

চোখগুলো কথা বলে তার। নারী হলে অনেক উপমা জুড়ে যেত এ নিয়ে। জীবনানন্দের বনলতার মতো! নারী যে হবেন কেউ সব ক্ষেত্রে; এসবের জন্য তা নয়। পুরুষও হতে পারেন!  চোখ তার অনেক কিছুই বলে এমনি একজন- ফেনী শহরের পরিচিত এক তারকা মুখ কবি মুহাম্মদ ইকবাল চৌধুরী। হাসাতে ভালোবাসেন। হাসতে ভালোবাসেন। 

পেশায়, মননে, সমস্ত অবয়ব জুড়ে তার কবিতার খেলা, উপস্থাপনার নৈপুন্যতা, বডি বিল্ডারে নায়ক প্রতিমা, ব্যক্তিত্ববোধ, শব্দের স্পষ্টতায় একজন ইকবাল চৌধুরী। নতুন সব অনুষ্ঠানাদির পরিকল্পনা, তরুণ কবিদের সুযোগ দেয়া। যার প্রতি মুহূর্ত চিন্তার ঘরে বাস করে।

ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠান পরিকল্পনা করে তিনি আলোচনায় এসেছেন। এফটিভি, টিভি বাংলা, টেলিফিল্ম, নাটক, ছাতার নিচে ছন্দ, আড্ডার কবি, কবিদের নিয়ে তার নানা থিম, অনুষ্ঠান আয়োজন। এ নিয়ে তার নিত্য সময় পার। মজার খাবার খেতে ভালোবাসেন, তবে পরিমিত। রান্নাবান্নায়ও তার পাকা হাত আছে। নিজে রান্না করে পরিবেশনে তার জুড়ি মেলা ভার। ড্রেসআপে অনন্যতা। ফ্যাশনেবল কবি, কখনো গেঞ্জি, ট্রাউজার, ব্লেজার, পাঞ্জাবী, শার্ট, টি-শার্ট বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি স্টাইল ! সব পরিবেশে রুপ তার ফুটে উঠে কোনও না কোনও পোজে। ইতোমধ্যে তার বেশকিছু ছবি ভিলেন অমরেশপুরীর মতো বলে অনেকে মন্তব্য করেছেন।

৭০ দশক থেকে লেখালেখির সাথে জড়িত তিনি। সম্পাদনা হতে শুরু করে গান লেখা, ও সুর করেছেন। বেশ কয়েকটি কবিতার বই ও গানের বই এর জনক তিনি। নিয়মিত লিখছেন গান ও কবিতা। সাহিত্যপত্র শব্দ সম্পাদনায় তার পান্ডিত্য এখন দেখতে পাচ্ছে ফেনীর উদীয়মান লেখকরা। তন্বী তরুণী হতে শুরু করে মাঝবয়সী বুড়ো সবার এক পছন্দ ইকবাল ভাই। যার ছায়াতল নিশ্চিন্ত!  সারাদিন নাচে গানে কবিতায় মুখোর রাখতে পছন্দ করেন এই সংস্কৃতিমনা কবি। সংস্কৃতি যেন তার রক্তের সাথে মিশে একাকার!

ফেনীর আনাচে কানাচে তার অসংখ্য ভক্ত-অনুরাগি। কোন অনুষ্ঠান মানেই ইকবাল ভাই। তিনি নেই তো অনুষ্ঠান পণ্ড বা নিষ্প্রাণ! 

ফেনীর বিনোদন মিডিয়াকে আলোকিত করে রেখেছেন ইকবাল চৌধুরী। সাংবাদিকদের চোখে তিনি সফল একজন কবি ও সংসকৃতিকর্মী ও তরুণ লেখকদের পথের দিশারী। মিডিয়ায় সাহিত্যের কোনও অংশ থাকা মানেই ইকবাল চৌধুরীর ডাক। যে কোনও অনুষ্ঠান পরিকল্পনায় তার দক্ষতা শহর জুড়ে! এমন কোনও দিন তিনি ঘরে একাকী থাকেন বলে মনে হয় না। তার ভাষায় কাজ আর কাজ। ও কথাটি বলতেও খাবারের স্বাদ বলছেন যেন! সবই তার সৃজনশীল ভাবনা। কবিতাকে ভালোবাসেন আপাদমস্তকে। তাই কবিদের ঘিরেই তার দিন-রাত্রির রসায়ণ।

বেড়াতে ভালোবাসেন কবি ইকবাল চৌধুরী। দেশের বেশ অংশ তিনি ঘুরে দেখেছেন। সুযোগ পেলেই কবিতা সঙ্গীদের নিয়ে তিনি বেড়িয়ে পরেন।

পরনে পছন্দের সব পোশাক। কখনো সানগ্লাস, বিভিন্ন ডিজাইনের টুপি, ক্যাপ, মাফলার তার সংগ্রহে। পরিবেশ অনুযায়ী ওয়াক করা তার আর একটি রুচি। টিম মেইন্টেন, ভালো সংগঠক হওয়াতে যে কোনও সমস্যা মোকাবিলায় তিনি সিদ্ধ হস্ত! হঠাৎ রেগে যেতে পারেন। আবার রাগ ভাঙতেও দু’মিনিট এর সময় লাগেনা। আবার দেখা যায় সহজে রাগেনওনা। উদীয়মান তারকাদের চোখে তিনি তাই সবচেয়ে প্রিয়!

পিডিএসও/রি.মা