উপেক্ষিত চা শ্রমিক দিবস!

প্রকাশ : ২০ মে ২০১৯, ১০:০৭ | আপডেট : ২০ মে ২০১৯, ১৫:৪৫

হাবিব সরোয়ার আজাদ, মানবাধিকার কর্মী

ব্রিটিশ গোর্কা বাহিনীর নির্বিচারে গুলিতে মাতৃভূমিতে ফিরে যাবার পথে শতশত চা শ্রমিকের প্রাণ হারানোর মধ্যদিয়ে ইতিহাসে রচিত সেই কালো দিনটিকে শক্তিতে বরণ করে বরাবরের মতো ২০ মে ঐতিহাসিক চা শ্রমিক দিবস পালন করে চা শ্রমিক জনগোষ্ঠীর লোকজন।

১৮৫৪ সালে ভারতের অনুর্বর অঞ্চলে অর্থাৎ উড়িষ্যা, মাদ্রাজ, বিহার, মধ্যপ্রদেশসহ বিভিন্ন অঞ্চলে অভাবপীড়িত মানুষ অনাহার-অর্ধাহারে দিন কাটাতো। গরিব মানুষের অর্থ সংকটের এ সুযোগটিকে সুকৌশলে কাজে লাগায় তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার।

সিলেটের ‘মালিনীছড়া’ চা বাগান প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে চতুর ব্রিটিশরা এ অঞ্চলে প্রাথমিকভাবে চায়ের বাণিজ্যিক চাষ শুরু করে। খুব সংগত কারণেই চা বাগান প্রতিষ্ঠার জন্য শ্রমিকের প্রয়োজন হয়।

ব্রিটিশ কোম্পানি উড়িষ্যা, মাদ্রাজ, বিহার, মধ্য প্রদেশসহ আশপাশ এলাকা থেকে অভাবপীড়িত মানুষদের আর্থিক লাভের প্রলোভন দেখিযে মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে সিলেট অঞ্চলের চা বাগানেতে নিয়ে আসে। তাদের চা বাগানে শ্রমিক হিসেবে নিয়োগ করে।

কোম্পানির মালিকরা এসব শ্রমিককে সিলেট অঞ্চলের গহিন বনে নামমাত্র মজুরিতে অমানবিক কাজে বাধ্য করে। দিন-রাত খাটুনির পর যে মজুরি পেত, তা দিয়ে শ্রমিকদের ঠিকমতো একবেলা খাবারও জুটত না। একদিকে মালিকদের অত্যাচার-নির্যাতন, অন্যদিকে শ্রমিকরা মানবেতর জীবনযাপন করতে থাকে। ব্রিটিশ কোম্পানির মালিক শ্রেণীর শোষণ, নির্যাতন, অত্যাচার আর মিথ্যা আশ্বাসের ফাঁদ ও দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র থেকে বেরিয়ে আসতে শ্রমিকরা তখন ঐক্যবদ্ধ হয়।

১৯২১ সালের এই দিনে ব্রিটিশদের অত্যাচার থেকে মুক্ত হতে সিলেট অঞ্চলে থাকা বাগানগুলো থেকে প্রায় ৩০ হাজার চা-শ্রমিক নিজেদের জন্মস্থানে ফিরে যেতে চেষ্টা চালায়। কিন্তু চাঁদপুরের মেঘনাঘাটে গুলি চালিয়ে  ১৯২১ সালের এই দিনে নির্বিচারে হত্যা করা হয় সুবিধাবঞ্চিত পিছিয়ে পড়া চা শ্রমিকদের। এরপর থেকে চা-শ্রমিকরা সেই বর্বোরিত হত্যাকাণ্ডের দিনটিকে স্মরণ রাখতে ‘চা শ্রমিক দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছেন।

তবে বারবার দাবি জানানো এবং অনেক আন্দোলনের পরও ৯৮ বছরেও রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি মেলেনি দিবসটি। ঘুচেনি সুবিধাবঞ্চিত চা শ্রমিকদের শোষণ বঞ্চনা। এই দিবসের স্বীকৃতি পেতে প্রতি বছরের মতো সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জের বিভিন্ন চা বাগানে আজ কর্মবিরতি পালন করবেন চা শ্রমিক জনগোষ্ঠীর লোকজন।

চা শ্রমিক ইউনিয়নের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক চা শ্রমিক নিপেন পাল জানান, এই দিনে চা শ্রমিকদেরকে হত্যা করা হয়েছিল বলে বিভিন্ন চা বাগানে কর্মবিরতি পালন করে র‌্যালি ও আলোচনাসভার আয়োজন করা হয়ে থাকে। তবে কোনো কোনো বাগানে শ্রমিকরা আজ সারাদিন কাজ বন্ধ রাখবেন এছাড়া বিভিন্ন বাগানে ২ ঘণ্টা কর্মবিরতি পালন করা হবে।

লেখক : গণমাধ্যম ও মানবাধিকার কর্মী

পিডিএসও/হেলাল