কবি কাজী শেলী সমাজকর্মী থেকে মমতাময়ী মা

প্রকাশ : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৯:০৪ | আপডেট : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৯:২৩

মিজানুর রহমান নয়ন
ama ami

একজন মানুষ কী আর করতে পারে, কি-ইবা হবার ইচ্ছা তার জীবনে। জানি চাহিদার কোনো শেষ নেই জীবনে, তবুও কিছু পাওয়ার নেশা সব সময় তাড়া করে বেড়াই বেপরোয়া মন। সৃষ্টির জন্য সৃজনশীল হয়ে উঠে প্রাণ।

তেমনি একজন মানুষ কাজী শেলী, বেপরোয়া মনের তাড়নায় কখনও সমাজকর্মী হিসেবে নিজেকে মেলে ধরেছেন সমাজে, কখনও বা মমতাময়ী মা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ। তার গভীর দেশপ্রেমবোধ, মানুষের প্রতি অগাধ ভালবাসা ও সম্মান, সমাজের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধ আজ তাকে মমতাময়ী থেকে একজন কবি হিসেবে নতুন রূপে দাঁড় করিয়েছে।

যেভাবে বেড়ে উঠা কাজী শেলীর : একজন নারী, একটা পুরুষের সঙ্গিনী, একটা পরিবারের গৃহিনী, সন্তানের মা,এ কজন গুনী লেখক, একজন সমাজকর্মী, একজন শিক্ষক, একজনআলোকিত মানুষ এরূপ হাজারো গুণের অধিকারী আমাদের গর্ব অহমিকা কাজী শেলী।

মান্ধাতা আমলের ন্যায় মেয়ে হয়ে পৃথিবীতে আসার অপবাদ আর অপরাধ নিয়ে যার বেড়ে ওঠা। শৈশব তার কখনও পুষ্প সজ্জিত ছিলনা, বরং বড্ড কন্টাকীর্ণ। নিজের মেধা, শ্রম,যোগ্যতা দক্ষতা প্রমাণ করে আজকের আলোর পথে আসার পথ খুব একটা সহজ ছিলনা। তবুও সব বাঁধা পেরিয়ে, সব পথ পেরিয়ে আজকের সমাজকর্মী ও মমতাময়ী মা কাজী শেলী।

কাজী শেলী ১৯৭৬ সালে ঢাকার খিলক্ষেতে কাজী পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন।বাবা কাজী সিরাজুল ইসলাম ও মা জান্নাতুলে মাওয়া। দাদা কাজী আলী আহম্মেদ আবু তার জন্মের পর মন খারাপ করে।কিন্তু সেই মেয়েই তার পরিবারের উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত এবং  তার নামেই  পরিবারের পরিচিত। তার আক্ষেপ তার কাজ দাদা দেখে যেতে পারেননি।

পরিবারে মেয়েরাও যে অভিশাপ নয়, আশির্বাদ এখন তা প্রমাণিত হচ্ছে ঘরে ঘরে। তিনি মনে করেন, মেয়ে-ছেলে কিসের এত বিভেদ, উভয়ই মানুষ। প্রত্যেকের স্ব স্ব মেধা, যোগ্যতা,দক্ষতা, মানবতা এবং দায়িত্ববোধ নিয়ে কাজ করলে দেশ ও মানুষ নিশ্চয় অগ্রসর হয়।এনজিওর মাধ্যমে প্রত্যন্ত এলাকায় অসহায় সুবিধবঞ্চিত নারী ও শিশুদের নিয়ে কাজ করছেন। ফলে ঢাকায় ১৫৪ জন এতিম শিশুর মা হতে পরেছেন এই মহীয়সী।

সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া অবস্থায় কাজী শেলীর মধ্যে দরিদ্র, অসহায় ও বঞ্চিত মানুষের নিয়ে কাজ করার প্রত্যয় তৈরি হয়।

১৯৯২ সালে ঢাকার কুর্মিটোলা স্কুল থেকে এসএসসি পাশ করেন তিনি।১৯৮৯ স্কুল জীবনে আন্তঃথানা ভলিবলে চ্যাম্পিয়ন হয় শহীদ রমিজ উদ্দিন স্কুল এন্ড কলেজের সঙ্গে। পরে তেজগাঁও কলেজ থেকে এইচএসসি ও টঙ্গী সরকারি কলেজ থেকে স্নাতক এবং এশিয়ান ইউনির্ভাসিটি থেকে স্নাতকোত্তর করেন।

১৯৯৭ সালে মহাখালী কড়াইল বস্তিতে আর্বান প্রজেক্টে স্যানিটেশন প্রোগামে কাজ করেন। ২০০০-২০০৩ পর্যন্ত প্রশিকা মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্রে সমাজকর্মী হিসেবে ময়মনসিংহেরর ১৩টি ইউনিয়নে বিভিন্ন নারী ও শিশুদের উন্নয়নমূলক কাজ করেন। সে সময় প্রশিকা কাজী ফারুক, শাহরিয়া কবির,মুনতাসীর মামুনদের সঙ্গে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির স্বাক্ষর অভিযানে স্বাক্ষর সংগ্রহ কর্মীর কাজ করেছেন।

২০০৪ সালে বাংলাদেশে প্রথম পদক্ষেপ কনসোর্টিয়ামেরর সঙ্গে এইডস, প্রোগাম অফিসার হিসেবে উত্তরবঙ্গের ৭টি জেলায় সচেতনতামূলক কাজ করেছেন। ২০০৬ সালে শ্রীপুর,গাজীপুরে পরিচালিত ব্রিটিশ হোম ফ্যামিলির ফর চিলড্রেন শিশু পল্লীতে প্যাট্রিয়াসিয়া ক্যাবের অধীনে সমাজকর্মী হিসেবে পুনর্বাসনের দায়িত্ব পালন করেন ২০০৮ সাল পর্যন্ত।

২০০৯ সালে ফ্যামিলিজ ফর চিলড্রেন কানাডার একটি হোম যার দায়িত্বে ছিলেন সান্ড্রা সিমফন, সেখানে তিনি সমাজকর্মী হিসেবে প্রধান ওভান্ডেন্ট ফাইন্ডের পুনর্বাসন প্রোগামে কাজ করেন।

২০০৯ সালে বাংলাদেশ সরকার যখন জন্মনিবন্ধন সংক্রান্ত আইন জারি করেন তখন ফ্যামেলিস ফর চিলড্রেন, কানাডা হোম ঢাকার উত্তরা থেকে ১৫৪ জন ছেলে-মেয়ের মা বাবা হয়ে জন্মনিবন্ধন করান ঢাকার উত্তর সিটি কর্পোরেশন কার্যালয়ে। এসব ছেলে মেয়েদের মাঝে অনেকেই ১২ থেকে ১৪ বছরের ছেলে মেয়ে ছিলো। তিনি ১৫৪ জন এতিম ছেলে মেয়েদের আইনি অভিভাবক হন। 

এরপর তিনি ঢাকা থেকে স্বামীর কর্মস্থল চট্রগ্রামের সীতাকুন্ডে আবুল কাশেম রাজ হাইস্কুলে শিক্ষক হিসেবে কর্মরত হন।কাজী শেলী কুষ্টিয়া কুমারখালী উপজেলার সাজ্জাদ হোসেন এর সহধর্মিনী।

পাশাপাশি লাইব্রেরি এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ লাইভ টাইম সদস্য তিনি। ভবিষ্যতে এখানে কাজ করবেন বলে লাইব্রেরি সায়েন্স মাস্টার্স করছেন। এছাড়াও বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রে মনোনীত স্যাকাইপ প্রোগামেরও সংগঠক তিনি।

পিডিএসও/তাজ