‘ক্যাফেটেরিয়া যখন মিলনের মেলা’

প্রকাশ : ০৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৫:৩৭ | আপডেট : ০৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৫:৪৭

সাজ্জাদ হোসেন, লেখক

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়া প্রতিষ্ঠিত হয় ২০০১ সালে। প্রতিষ্ঠার পরবর্তী দীর্ঘ সময় ব্যবহারের ফলে এটি সংস্কারের অভাবে পরিত্যাক্ত ছিল। তবে  ২০১৬ সালের ২৯ আগস্ট প্রশাসনিক উদ্যোগে পুনঃসংস্কার করে নতুন করে উদ্বোধন করা হয়। বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তন সংলগ্ন ক্যাফেটেরিয়াটি যেন শিক্ষার্থীদের এক মিলন মেলার স্থান। এটি আরো প্রাণবন্ত হতে থাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম যখন সকাল ৯ টায় শুরু হয়ে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত চলে।

ক্যাফেটেরিয়া শব্দটি ভোজনালয় হিসেবে ব্যবহৃত হলেও ইবির এ স্থানে হরেক রকমের চর্চা দেখা যায়। শুধু ক্ষুধা মেটানোর তাগিদে স্থাপিত জায়গাটি কখনো কখনো গান চর্চার উৎকৃষ্ট স্থান মনে করেন ক্যাম্পাসের অনেক দলীয় ব্যান্ড ও সংগীত শিল্পীরা। গিটারের তারের ছন্দবদ্ধ শব্দ, ঝনঝুনির ঝংকার, বাঁশির হৃদয়স্পর্শী সুরে গায়কের কণ্ঠে ধ্বনিত হয়, ‘ওরে নীল দরিয়া/ ছেলে আমার বড় হবে, মাকে বলতো সে কথা/ আমায় ভাসাইলি রে, আমায় ডুবাইলি রে’ নানান গানের বিজয় কথা। 

গানের লোকতৃপ্তির কতোটা স্বার্থকতা সেটি অন্যান্য টেবিলে বসা দর্শকদের গোচরীভূত করলে স্পষ্ট হয়। শ্রোতারা অভিভূত হয়ে গান শ্রবণ করে। মাঝেমাঝে তালে তালে বেগবান হয়ে তাদেরও ঠোঁটে গানের গুণগুণ আওয়াজের অপ্রতিরুদ্ধ সাড়া শিল্পীমনকে আরো বেশি অনুপ্রেরণা জাগায়। এ যেন অনুভূতির এক অজানা পিছুটানের মতই।

শুধু কি গান দিয়েই শেষ? ‘দক্ষিণ-পশ্চিমাংশের অন্যতম সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ বলে কথা।’ তাই বিদ্যানুরাগী হওয়াটা খুব অস্বাভাবিক কিছু নয়। শ্রেণিকক্ষের বাইরে কখনো দলবদ্ধ হয়ে পড়াশোনা, ভবিষ্যৎ চাকরি-বাকরি চিন্তার কথা ফোটানো যেন নিত্যনৈমিত্তিক কাজ কারবার। এ ধরনের ক্যারিয়ার আড্ডা, সাহিত্যের আসর কিংবা অধ্যয়নরত পড়াশোনার জুড়িও বেশ লক্ষণীয় বিশ্ববিদ্যালয়টির এ কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ায়।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বৈশিষ্ট্য সেখানে সামাজিক সংগঠনের উপস্থিতি। কেউ কেউ ব্যস্ত ভোক্তার অধিকার সংরক্ষণে, কেউ বা তারুণ্যের জয়গানের উচ্চ উদ্দীপনার আলো ছড়িয়ে দিতে, আবার অনেকেই সমাজের মঙ্গল ও নদী নিয়ে অন্যত্র নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। ক্যাম্পাস চলাকালীন সময়ের বাইরে প্রায়শই এমন কল্যাণমুখী সংগঠনগুলোর জরুরি সভা, পরিকল্পনা ও বিভিন্ন কার্যক্রমের বৈঠক লক্ষ্য করা যায় সেখানে।

মাঝেমধ্যে সমবেত কণ্ঠের ছন্দময় স্বর উচ্চারিত হয়। একটু আড়ি পাতলেই ‘হ্যাপি বার্থ ডে টু ইউ.. হ্যাপি বার্থ ডে টু.....!  এমনই সব গলাভাঙা শব্দের তরঙ্গ নিঃসরিত হয়। সেদিন ভেবে নিতে হবে, নিশ্চই কারো জন্মদিন উদযাপন নিয়ে চলছে আন্দনঘন মূহুর্তের অবিরাম ভোগবিলাস। জন্মদিন উপলক্ষ্যে ট্রিট নামক যে অত্যাধুনিক পরিচিত শব্দটি সেটার হিসেব চুকাইতে হাড়ে হাড়ে টের পায় বার্থডে বয় কিংবা বার্থডে গার্ল।

নির্ধারিত বিষয়সমূহের পড়াশুনার বাইরে একজন শিক্ষার্থীর দরকার হয় মানসিক প্রশান্তি। কেননা যান্ত্রিকতার একঘেয়েমি জীবন কখনোই মানুষের মাঝে আত্মতৃপ্তির বাতাস বয়ে আনতে পারে না। প্রয়োজন পড়ে একটুখানি অবকাশের। চলমান বিশ্বের প্রতিযোগিতায় টিকতে একনিষ্ঠ বন্ধুত্বের বিকল্প নেই। সেরকম বন্ধুদের সঙ্গে অবসরে মিলিত হওয়ার জায়গার আরেক নাম ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়া!

পিডিএসও/অপূর্ব