বট গাছের অস্তিত্ব এখন আর নেই

প্রকাশ | ৩০ আগস্ট ২০১৮, ১৯:৩২

ফারুক আহমেদ চৌধুরী

সীমান্তবর্তী জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী গবাদিপশুর হাট বটতলা। দেশি গরুসহ গবাদিপশু, হাঁস- মুরগি ও কবুতরের জন্য বটতলা হাট সূদীর্ঘকাল থেকেই বিখ্যাত। তথ্যমতে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম গরুর হাট এটি। নামকরণ হওয়া ২শ বছরের পুরোনো বট গাছের অস্তিত্ব এখন আর নেই। জনশ্রুতি আছে, যে জায়গায় বটগাছটি ছিলো সেখানে বহুতল ভবন। শুরুর দিকে কোন ধরণের পণ্য কেনা বেচা হতো আর কবে থেকে গবাদিপশুর হাটে রুপান্তরিত হয় সেটিও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। জনজীবনে ব্যবহৃত সকল পণ্যের সমাহার থাকলেও এটিকে এখনও গরুর হাট নামে ডাকা হয়। শাড়ি, লুঙ্গি, দেশি মাছ, কাঁসা পিতল, মাটির তৈরি গৃহস্থালির আসবাবসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যদ্রব্য পাওয়া যায় এ হাটে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের অসংখ্য মানুষ গরু ব্যবসার সাথে জড়িত। গৃহপালিত আর চোরাইপথে আসা গরু কিনতে দেশের বিভিন্ন জেলার ব্যবসায়ীদের ভিড় দেখা যায়। আশির দশকে ঢাকা, চট্রগ্রাম, বরিশাল, সিলেট, কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার গরু ব্যবসায়ীরা প্রতি হাটেই আসতেন । বিভিন্ন কারণে এ হাটের কদর কমলেও এখনও ট্রাকযোগে দেশের বিভিন্ন জেলার ব্যবসায়ীরা আসেন এ হাটে। শুরু থেকেই শুক্রবার ও মঙ্গলবার করে বসে এই হাট । গবাদিপশু এ হাটের মুল আকর্ষণ।

পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডে (রাজারামপুর মৌজায়) অবস্থান। জনশ্রুতি মতে, ১৮০০ সালের প্রথম দিকে হাটটির যাত্রা শুরু। নামকরণ হওয়া সেই বটগাছটি ব্রিটিশ আমলেই বিলুপ্ত হয়ে যায়। হাটটির খুব কাছেই মহানন্দা নদী। এক সময় নৌকা ও গরুর গাড়িতে করে হাটে আসতেন ক্রেতা-বিক্রেতারা। সোনালী আঁশ হিসেবে পরিচিত উৎপাদিত পাট,  কৃষি পণ্য, ঐতিহ্যবাহী কাঁসা পিতল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের নির্ভরযোগ্য হাট বটতলা। এ হাটে বিভিন্ন পণ্যের স্থায়ী বিক্রেতার সংখ্যা প্রায় ২ শতাধিক। ১৯০৩ সালে চাঁপানবাবগঞ্জ পৌরসভায় রুপান্তরিত হওয়ার আগে সব কাঁচা রাস্তা ছিলো। ক্রেতা বিক্রেতাদের পণ্য পরিবহন ও যোগাযোগর অন্যতম মাধ্যম ছিলো গরুর গাড়ি।  গরুর গাড়িতে করেই বিক্রেতারা পণ্য নিয়ে আসতো ক্রেতারাও নিত্যপ্রজনীয় পণ্য ক্রয় করে নিয়ে যেতেন গরুর গাড়িতে। এক সময় ঘোড়ার গাড়িরও প্রচলন ছিলো এ এলাকায়।

মাঝারি শহর উন্নয়ন প্রকল্প-২ এর অধিনে ২০০১ সালে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সুবিধার্থে অবকাঠামো বিনির্মাণ করা হয় এ হাটের। পৌরসভা সুত্রে জানা যায়, ৯০ দশকের দিকে এই হাটটির ইজারা মূল্য ছিলো প্রায় দেড় কোটি টাকা। পার্শবর্তী জেলা রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার সুলতানগঞ্জে করিডোর আর সীমান্ত এলাকায় বিট খাটাল স্থাপনের পর গরুর হাটটির জনসমাগম কমতে থাকে। জনসমাগম কম হওয়ায় বর্তমানে বার্ষিক ইজারা মূল্য মাত্র ৫০ থেকে ৬০ লক্ষ টাকা। নব্বয়ের দশকে এ হাটের ইজারা মূল্য ছিলো প্রায় আড়াই কোটি টাকা ।
 
একাধিক প্রবীন ব্যাক্তির কাছ থেকে জানা যায়, এক সময় বেশিরভাগ বিক্রেতা ছিল নারী। নারী ক্রেতাদের সমাগম ছিল। সদর উপজেলার গ্রামাঞ্চলের পাঁচটি ইউনিয়নের মানুষ এক সময় এ হাটের উপর নির্ভরশীল ছিল। দুরদুরান্ত থেকে ক্রেতারা আসতেন এ হাটে।

খুব সকাল থেকেই বিক্রেতারা হাটে আসতে শুরু করে। ক্রেতারাও খুব সকালে আসে কেনাকাটা করতে। সকাল  থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে বেচা কেনা। মাংস, মাছ, সবজি বাজারের বেচা কেনা দুপুরের মধ্যেই শেষ হয়ে যায়। গরু, ছাগল, হাঁস, কবুতর, শাড়ি-লুঙ্গি, অন্যান্য পণ্যের বেচা কেনা চলে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত। বাঁশ বা বাঁশের তৈরি বিভিন্ন পণ্য বিক্রি হতো। যা এখনও পাওয়া যায় এ হাটে। চাহিদা কমতে থাকায় উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন শিল্পটি নানান কারণে পরিসর কমলেও এখনও এ হাটে পাওয়া যায় মাটির তৈরি সামগ্রী।

পিডিএসও/রিহাব