শিক্ষক নিবন্ধন : সঠিক শূন্যপদ দিতে কড়া নির্দেশ জরুরি

প্রকাশ : ১৫ আগস্ট ২০১৮, ১৯:৪৯

জাহিদ হাসান, ঢাবি শিক্ষার্থী

সারাদেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে যোগ্য শিক্ষক নিয়োগের দায়িত্ব দিয়ে ২০০৫ সালে গঠন করা হয়েছিল নন গর্ভনমেন্ট টির্চাস রেজিস্ট্রেশন এন্ড সার্টিফিকেশন অথরিটি (এনটিআরসিএ)’র। যাদেরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল উত্তীর্ণ প্রার্থীদেরকে সনদ প্রদান করার। যে সনদের মাধ্যমে উত্তীর্ণ প্রার্থীরা কমিটির মাধ্যমে নিয়োগ পাবে। এতে করে স্বজনপ্রীতির বিস্তর অভিযোগ থেকেই যায়। এ সমস্ত অভিযোগ থাকলেও তা মাথায় না নিয়ে নিয়মিত সার্কুলার দিয়ে পরীক্ষা নিতে থাকে প্রতিষ্ঠানটি। যদিও কমিটির হাতে নিয়োগ প্রদানের ক্ষমতা থাকায় স্বজনপ্রীতির কাছে পরাস্ত হয়ে চাকরি পায়নি বহু সার্টিফিকেট অর্জনকারী। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে যখন দীর্ঘ ১০ বছরে এমন হাজার হাজার স্বজনপ্রীতির অভিযোগপত্র এলো এবং রীট হলো তখন হাইকোর্টের রায়ে ২০১৫ সাল থেকে নিয়োগ দানের সকল ক্ষমতা দেওয়া হলো এনটিআরসিএর হাতে। পরীক্ষা পদ্ধতিতেও আনা হল ব্যাপক পরিবর্তন। সে অনুযায়ী ১৩তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা পিএসসির আদলে (প্রিলি. রিটেন, ভাইভা)’র মাধ্যমে নেওয়া হল।

শিক্ষামন্ত্রী জানালেন, এ পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণদেরকে সরাসরি নিয়োগপত্র ইস্যূ করা হবে। এ দিকে নিয়োগের দায়িত্ব এনটিআরসিএর কাছে আসার পর ২০১৬ সালে ১-১২ তম নিবন্ধনধারীদেরকে শূন্য পদের বিপরীতে আবেদন চাওয়া হয়। এরপর কয়েক ধাপে ৮ হাজারের মত প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু একই প্রার্থীকে বহু প্রতিষ্ঠানের জন্য মনোনীত করা হলে বহু প্রতিষ্ঠানে আবেদন করা সত্ত্বেও কোনও প্রতিষ্ঠানে মনোনয়ন না পাওয়ায় রীট করে বসে নিয়োগ বঞ্চিতরা। আটকে যায় এনটিআরসিএর নিয়োগদান কার্যক্রম। অবশেষে ২০১৭ সালের ১৪ ডিসেম্বর আদালত থেকে রায় পায় ১-১২ তম নিবন্ধনধারীরা। রায়ে বলা হয়- রায়ের পূর্নাঙ্গ কপি প্রকাশ হবার ৯০ দিনের মধ্যে ১-১২ তমদের মেধা তালিকা এনটিআরসিএর ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে ।

এদিকে শিক্ষামন্ত্রীর আশ্বাস অনুযায়ী পিএসসির আদলে (প্রিলি. রিটেন, ভাইভা)’র মাধ্যমে উত্তীর্ণ ১৩ তম নিবন্ধনধারীদের সরাসরি নিয়োগপত্র ইস্যূ করার কথা থাকলেও এনটিআরসিএ তা বাস্তবায়ন না করায় তারাও রীটের মাধ্যমে আদালতের দারস্থ হয়েছে। গত কয়েকদিন আগে শিক্ষামন্ত্রী জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন সারাদেশের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক হারে শিক্ষক সংকট আছে বলে বাকী মামলা দ্রুত নিস্পত্তি করে নিয়োগদানের ব্যবস্থা করা হবে। এ খবরে ১-১২ তম এবং ১৩ তম উত্তীর্ণ নিবন্ধনধারীরা অধির আগ্রহে বসে আছে নিয়োগ পাবার অপেক্ষায়। 

এদিকে শিক্ষক নিবন্ধনধারীদের একটি বড় অংশের অভিযোগ হলো প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির যোগসাজশে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শুন্যপদ থাকলেও তা এনটিআরসিএর কাছে পাঠানো হচ্ছেনা। প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির ধারণা যদি আবার নিয়োগ দানের ক্ষমতা তাদের হাতে ফিরে আসে তাহলে তো সোনায় সোহাগা।

আশাব্যঞ্জক খবর হলো- তাদের এ দুরভিসন্ধি অনেকটাই ফাঁস করে দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। গত ২৩ জুলাই শিক্ষাবিষয়ক সাংবাদিকদের সংগঠন এডুকেশন রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইরাব) নবনির্বাচিত নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সারা দেশে বর্তমানে প্রায় ৩৮ হাজার বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা আছে। ওইসব প্রতিষ্ঠানে গত দুই বছর ধরে (সহকারি শিক্ষক ও প্রভাষক) শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ আছে। মৃত্যু, পদত্যাগসহ নানা কারণে ওইসব প্রতিষ্ঠানে ৬০ হাজার শিক্ষকের পদ বর্তমানে খালি আছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, এনটিআরসিএ’র মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সার্কুলার অনুযায়ী এসব পদ পূরণ হওয়ার কথা। এদিকে বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (মাদ্রাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা ২০১৮ তে দেখা গেছে মাদ্রাসার সহকারী মৌলভী ানয়োগের ক্ষেত্রে আগের নির্ধারিত পদের চেয়ে আরেকটি পদ বাড়ানো হয়েছে। আর আলিম মাদ্রাসায় আরবী প্রভাষক ৩ জনের স্থলে ৪ জন, ফাজিল মাদ্রাসায় ৪ জনের স্থলে ৬ জন করা হয়েছে। এতে আরো পরিস্কার যে, শুন্যপদের সংখ্যা আরো বহুগুনে বেড়ে গেছে।

মেধার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে শিক্ষকতার মহান পেশায় আসার মানসে সার্টিফিকেট প্রাপ্ত সকল নিবন্ধনধারীদের ‘মাদার অব এডুকেশন’ খ্যাত মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে দাবী আপনি দেশের সকল জেলা প্রশাসক এবং জেলা শিক্ষা অফিসারের মাধ্যমে সারাদেশের বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সকল শুন্যপদের সঠিক হিসেব নিতে চিরুনী অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দিন। এবং এনটিআরসিএর মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়ার ব্যবস্থা করুন। এবং গরীব মেধাবীদের মহান শিক্ষকতার পেশায় আসার সুযোগ বহাল রাখুন। তাহলেই বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ‘সোনার বাংলা’ গড়ার প্রত্যয়ে আরেক ধাপ এগিয়ে যাবে দেশ। এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ঘরে ঘরে চাকুরীর দেওয়ার প্রতিশ্রুতিতে আরেক ধাপ এগিয়ে যাবেন আপনি নিজেও।

পিডিএসও/রিহাব