‘বঙ্গবন্ধু’ শব্দের প্রবক্তা রেজাউল হক মুশতাকের জন্মদিন আজ

প্রকাশ : ১১ আগস্ট ২০১৮, ১৫:৫৮ | আপডেট : ১১ আগস্ট ২০১৮, ১৬:২৪

রফিক আহমদ খান, ফ্রিল্যান্স লেখক
রেজাউল হক চৌধুরী মুশতাকের পাশে লেখক (বামে)

একাত্তর সালের পর থেকে 'একাত্তর' বাঙালি জাতির জন্য তথা স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য মহান গৌরবের। ঊনসত্তরের আন্দোলন, সত্তরের সাধারণ নির্বাচন আর সর্বোপরি বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলন ও মহান বিজয় বীর বাঙালির চির অহংকারের বিষয়। সেই অংহকারপূর্ণ গৌরবপূর্ণ সময়গুলোতে বঙ্গবন্ধুর সাথে, আওয়ামী লীগের সাথে, মুক্তিকামী জনতার সাথে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালনের জন্য তোফায়েল আহমেদ এখনো দেশবাসীর কাছে জীবন্ত কিংবদন্তিতুল্য ও পরম শ্রদ্ধেয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। পৃথিবী থেকে চলে গেলেন তৎকালীন বিখ্যাত ছাত্রনেতা আবদুর রাজ্জাকসহ আরো অনেকেই। টুকটাক রাজনৈতিক ধারণা অর্জনের পর থেকে তোফায়েল আহমেদ-আব্দুর রাজ্জাকদের অনুসরণীয় ছাত্রনেতা জানি।

মুক্তিযুদ্ধে চট্টগ্রামের ইতিহাস পড়তে গেলেই দেখি আমাদের আনোয়ারার কৃতি সন্তান শহীদ বশীরুজ্জামানকে। মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী জাতীয় রাজনীতিতে বিশাল অবদান রাখায় আমরা গৌরববোধ করি আনোয়ারার সন্তান মরহুম আতাউর রহমান খান কায়সার ও আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু'কে নিয়ে। গৌরববোধ করি মরহুম এম. ইদ্রিচ বি কম, এম.এ হক, শামসুদ্দীন আহমেদ চৌধুরী, আবুল মুনসুর চৌধুরীসহ আনোয়ারার সকল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে। গৌরববোধ করি মরহুমা নিলুফার কায়সার ও আবুল কালাম চৌধুরীর মত রাজনীতিবিদের নিয়ে।

আর আমরা যখন ঊনসত্তর, একাত্তরের কিংবদন্তিতুল্য জাতীয় ছাত্রনেতাদের ইতিহাস দেখি, তখনকার ছাত্রনেতাদের তালিকা দেখি তখন জাতীয় পর্যায়ে বিশাল  অবদান রাখা আনোয়ারার একমাত্র কৃতি সন্তানকে দেখি। যিনি সেই কিংবদন্তি  রাজ্জাক-তোফায়েলদের সহযোদ্ধা ছিলেন। জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমান'কে 'বঙ্গবন্ধু' নামে যে উপাধী তোফায়েল আহমেদ তখনকার ছাত্রনেতাদের পক্ষে দিয়েছিলেন, সেই 'বঙ্গবন্ধু' উপাধীর আসল প্রবক্তাও তিনি। তখন পাকিস্তানের শাসন-শোষণ থেকে বাঙালি জাতিকে মুক্তি দেওয়ার আন্দোলনে নেতৃত্বদানের মহানায়ক শেখ মুজিবুর রহমানকে কী উপাধীতে ভূষিত করা যায় তিনিই প্রথম ভেবেছিলেন।

রাজধানী ঢাকার বুকে এক খন্ড চট্টগ্রাম খ্যাত 'চট্টগ্রাম সমিতি'তে আনোয়ারার যে কৃতি সন্তান কৃতিত্বের সাথে শীর্ষ পর্যায়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন সেটাও তিনি। প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আনোয়ারার যে সব সন্তান অধ্যায়ন করার গৌরব অর্জন করেছেন তাদের মধ্যে প্রথমদিককার এবং অগ্রগণ্যদের একজনও তিনি।সর্বোপরি আমাদের আনোয়ারা উপজেলা যে ক'জন তার কৃতি সন্তানের জন্য গৌরব করতে পারেন তাদেরই একজন তিনি। যার কথা বলছিলাম- হ্যাঁ, তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল হক চৌধুরী মুশতাক। ষাটের দশকের দেশের অন্যতম ছাত্রনেতা তিনি। ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগ থেকে শুরু করে ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগে সাহসী নেতৃত্ব প্রদানের মাধ্যমে তিনি সেই ষাটের দশকেই বঙ্গবন্ধুর স্নেহধন্য ছিলেন। শেখ কামালের সাথে তার বন্ধুত্বের সম্পর্ক ছিলো। সেই সুবাদে শেখ কামালের সাথে বঙ্গবন্ধুর বাড়িতেও যাতায়াত ছিল তার।

৭৫-এ বঙ্গবন্ধু হত্যার পর থেকে মনের কষ্টে আড়ালে চলে যাওয়া রেজাউল হক চৌধুরী মুশতাক ঢাকায় চট্টগ্রামের মানুষের প্রিয়ভাজন হয়ে ওঠেন চট্টগ্রাম সমিতি-ঢাকার নেতৃত্ব প্রদানের মাধ্যমে। চাকরি, ব্যবসা বা পড়াশোনার জন্য চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় নতুন আগন্তুকদের জন্য তিনি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন সব-সময়। তাই তো তিনি ঢাকায় বসবাসরত চাটগাঁবাসীদের প্রিয় মানুষদের একজন। বর্তমানে এই প্রবীণ বয়সেও তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ও ঢাকায় অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ুয়া আনোয়ারার মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের নিজ উদ্যোগে বৃত্তি দিয়ে পড়ালেখায় সহযোগিতা করেন। এছাড়া নিরবে সমাজসেবামূলক কাজ করেন। পৃষ্ঠপোষকতা করেন সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে। 

এই প্রবীণ ব্যক্তিত্বের সাথে ব্যক্তিগতভাবে আমার পরিচয় ছিলো না। তবে, আনোয়ারার একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে সেই নব্বই দশক থেকে ওনাকে আমি এভাবেই চিনি, এভাবেই হৃদয়ে ধারণ করি। গত কয়েক বছর ধরে স্যোশাল মিডিয়ার মাধ্যমে এই বিশাল ব্যক্তিত্বের সাথে আমার যোগাাযোগ ও ব্যক্তিগত চেনাজানা আছে। শুধু আমার সাথে নয়, আমার মত অনেক তরুণের সাথে স্যোশাল মিডিয়ায় তার ভাববিনিময় হয়। আনোয়ারার তরুণ লেখকদের সংগঠন আনোয়ারা সাহিত্য পরিষদ-আসাপের মাসিক অনলাইন সাহিত্যাসরেও মাঝেমধ্যে তিনি অংশ নেন। তরুণদের লেখায় উৎসাহমূলক মন্তব্য করেন। ফেসবুকে পোস্ট করা আমার অনেক লেখায়ও তিনি মন্তব্য করে আমাকে প্রেরণা যুগিয়েছেন। তাতেই বোঝা যায় তরুণদের তিনি উৎসাহিত করেন, প্রেরণা দেন।

এখন আমি গর্ববোধ করি রেজাউল হক চৌধুরী মুশতাকের মতো একজন বড় মাপের ব্যক্তিত্বের সাথে আমার পরিচয় আছে ভেবে। মহান মুক্তিযুদ্ধের এই অগ্র সেনানীর জন্য অকৃত্রিম শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।

গত জুলাই মাসে ঢাকায় চট্টগ্রাম ভবনে ওনার সাথে প্রথম দেখা হয়। সেখানে অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে আমাদের সাথে মতবিনিময় করেছেন তিনি। আজ ১১ আগষ্ট শ্রদ্ধেয় রেজাউল হক চৌধুরী মুশতাক'কে জানাই শুভেচ্ছা। কারণ আজ ওনার ৬৮তম শুভ জন্মদিন। 

পিডিএসও/রিহাব