নিবন্ধিত শিক্ষকদের নিয়োগ হোক কেন্দ্রীয় ভাবেই

প্রকাশ : ১০ আগস্ট ২০১৮, ১৭:১৩

জাহিদ হাসান, ঢাবি শিক্ষার্থী

সারাদেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষক নিয়োগে যখন পরিচালনা পর্ষদের অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে অযোগ্য শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে জাতির মেরুদণ্ড ভাঙ্গার একটা পায়তারা চলছিল ঠিক তখন দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যোগ্য শিক্ষক নিয়োগের দায়িত্ব দিয়ে ২০০৫ সালে গঠন করা হয়েছিল নন গর্ভনমেন্ট টির্চাস রেজিস্ট্রেশন এন্ড সার্টিফিকেশন অথরিটি (এনটিআরসিএ)’র। যাদেরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল উত্তীর্ণ প্রার্থীদেরকে সনদ প্রদান করার। যে সনদের মাধ্যমে উত্তীর্ণ প্রার্থীরা কমিটির মাধ্যমে নিয়োগ পাবে। এতে করে স্বজনপ্রীতির বিস্তর অভিযোগ থেকেই যায়। এ সমস্ত অভিযোগ থাকলেও তা মাথায় না নিয়ে নিয়মিত সার্কুলার দিয়ে পরীক্ষা নিতে থাকে প্রতিষ্ঠানটি। যদিও কমিটির হাতে নিয়োগ প্রদানের ক্ষমতা থাকায় স্বজনপ্রীতির কাছে পরাস্ত হয়ে চাকরি পায়নি বহু সার্টিফিকেট অর্জনকারী। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে যখন দীর্ঘ ১০ বছরে এমন হাজার হাজার স্বজনপ্রীতির অভিযোগপত্র এলো এবং রীট হলো তখন হাইকোর্টের রায়ে ২০১৫ সাল থেকে নিয়োগ দানের সকল ক্ষমতা দেওয়া হলো এনটিআরসিএর হাতে। পরীক্ষা পদ্ধতিতেও আনা হল ব্যাপক পরিবর্তন। সে অনুযায়ী ১৩তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা পিএসসির আদলে (প্রিলি. রিটেন, ভাইভা)’র মাধ্যমে নেওয়া হল।

শিক্ষামন্ত্রী জানালেন এ পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণদেরকে সরাসরি নিয়োগপত্র ইস্যূ করা হবে। এ দিকে নিয়োগের দায়িত্ব এনটিআরসিএর কাছে আসার পর ২০১৬ সালে ১-১২ তম নিবন্ধনধারীদেরকে শূন্য পদের বিপরীতে আবেদন চাওয়া হয়। এরপর কয়েক ধাপে ৮ হাজারের মত প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু একই প্রার্থীকে বহু প্রতিষ্ঠানের জন্য মনোনীত করা হলে বহু প্রতিষ্ঠানে আবেদন করা সত্ত্বেও কোনও প্রতিষ্ঠানে মনোনয়ন না পাওয়ায় রীট করে বসে নিয়োগ বঞ্চিতরা। আটকে যায় এনটিআরসিএর নিয়োগদান কার্যক্রম। অবশেষে ২০১৭ সালের ১৪ ডিসেম্বর আদালত থেকে রায় পায় ১-১২ তম নিবন্ধনধারীরা। রায়ে বলা হয়- রায়ের পূর্নাঙ্গ কপি প্রকাশ হবার ৯০ দিনের মধ্যে ১-১২ তমদের মেধা তালিকা এনটিআরসিএর ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে ।

এদিকে শিক্ষামন্ত্রীর আশ্বাস অনুযায়ী পিএসসির আদলে (প্রিলি. রিটেন, ভাইভা)’র মাধ্যমে উত্তীর্ণ ১৩ তম নিবন্ধনধারীদের সরাসরি নিয়োগপত্র ইস্যূ করার কথা থাকলেও এনটিআরসিএ তা বাস্তবায়ন না করায় তারাও রীটের মাধ্যমে আদালতের দারস্থ হয়েছে। গত কয়েকদিন আগে শিক্ষামন্ত্রী জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন সারাদেশের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক হারে শিক্ষক সংকট আছে বলে বাকী মামলা দ্রুত নিস্পত্তি করে  নিয়োগদানের ব্যবস্থা করা হবে। এ খবরে ১-১২ তম এবং ১৩ তম উত্তীর্ণ নিবন্ধনধারীরা অধির আগ্রহে বসে আছে নিয়োগ পাবার অপেক্ষায়। 

কিন্তু, গত ২৭ জুন আবারও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি এনটিআরসিএর মাধ্যমে নিয়োগ পদ্ধতি বাতিল করে ফের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির হাতে বহালের সুপারিশ করেছে। নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ দেশের লক্ষ লক্ষ শিক্ষিত বেকার বলছে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক নিয়োগে কী ফের অশনি সংকেত আসছে? এ সুপারিশ দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংসের এবং জাতিকে পঙ্গু করার অপপ্রয়াস। দেশের শিক্ষাখাতে অভাবনীয় সফলতা অর্জনকারী ‘মাদার অব এডুকেশন’ খ্যাত মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আকুল আবেদন টাকার বিনিময়ে কমিটির মাধ্যমে যে অযোগ্য শিক্ষক নিয়োগের মহোৎসব আপনি বন্ধ করে এনটিআরসিএকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন তা চলমান রেখে গরীব মেধাবীদের মহান শিক্ষকতার পেশায় আসার সুযোগ বহাল রাখুন। এবং দেশের মেধার বিনাশকারী এমন অযৌক্তিক সুপারিশকে অঙ্কুরেই বিনষ্ট করে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ‘সোনার বাংলা’ গড়ার প্রত্যয়ে আরেক ধাপ এগিয়ে যান। 

 

পিডিএসও/রিহাব