তবুও, সড়ক দুর্ঘটনা থামবে কী?

প্রকাশ : ০৭ আগস্ট ২০১৮, ১৯:১৬

জাহিদ হাসান, ঢাবি শিক্ষার্থী

বর্তমানে দেশে সড়ক দুর্ঘটনা যে একটি জাতীয় সমস্যায় পরিণত হয়েছে, তা আমরা সবাই উপলব্ধি করতে পারছি। প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনার পাশাপাশি সড়কে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে প্রায় ৫২ জনের মত মানুষের মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ার মত লোমহর্ষক সংবাদও আমরা গত কয়েকদিনে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ হতে দেখেছি। বহু দিনের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও, মহাসড়কে প্রাণ হারানোর অভিশাপ থেকে পরিত্রাণের যেন কোনো কুল কিনারা করে উঠতে পারেনি সংশ্লিষ্টরা। প্রতিনিয়ত যেন জীবন-মৃত্যুকে অনেকটা নিয়তির হাতে ছেড়ে দিয়েই আমাদেরকে সড়কে চলতে হচ্ছে। আমাদের কারোরই যেন তেমন কিছুই করার নেই। এই নিরুপায় দশা দেশের বোদ্ধাদের পাশাপাশি ভাবিয়ে তুলেছে দেশের আপামর জনসাধারণকে। ঠিক এমনই পরিস্থিতিতে আমাদের জন্য আশাব্যঞ্জক খবর হলো, সড়ক দুর্ঘটনায় এই অপমৃত্যুর কষ্টগুলো ছুঁয়ে গেছে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীকে। গত ২৫ জুন সোমবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ খ্যাত মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সড়ক দুর্ঘটনা রোধকল্পে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছেন।

জনসাধারণ বলছে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া এই নির্দেশনাগুলো যেন সড়ক দূর্ঘটনা থেকে ‘মুক্তির সনদ’। সরকারের শীর্ষ পর্যায় স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা থেকে এই সমস্যার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করায় যেন স্বস্থির সু-বাতাস বইতে শুরু করেছে। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দেয়া ৬টি নির্দেশনা হলো- ১. বাসের চালক ও হেলপারদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। ২. লংরুট বা দীর্ঘপথে কখনই একজন চালক ৫ ঘণ্টার বেশি গাড়ি চালাতে পারবেন না। সে ক্ষেত্রে বিকল্প ড্রাইভারের ব্যবস্থা করতে হবে। ৩. রাস্তার পাশে চালক ও হেলপারদের জন্য বিশ্রামাগার নির্মাণ করতে হবে। ৪. যাত্রীদের অনিয়ন্ত্রিত রাস্তা পারাপার বন্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। ৫. সড়ক পথের সিগন্যাল শতভাগ মেনে চলতে হবে। সবাই যাতে সিগন্যাল মেনে চলে তার ব্যবস্থা করতে হবে। ৬. প্রত্যেক পরিবহনে চালক ও যাত্রীদের সিটবেল্ট বেঁধে রাখতে হবে। সিটবেল্ট না থাকলে তার ব্যবস্থা করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া নির্দেশনাগুলোর দ্বিতীয়টি হলো- যানবাহনের কোনো চালক টানা পাঁচ ঘণ্টার বেশি যান চালাতে পারবেনা। একথা বলার অপেক্ষা রাখেনা যে, সড়ক দূর্ঘটনা রোধে এ পর্যন্ত যে সকল কথা এসেছে এ কথাটি যেন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কথাগুলো দ্বারা মোক্ষম জায়গাতেই হাত দেওয়া হয়েছে। কারণ, একটানা দীর্ঘ সময় যান চালানো দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকাংশেই বাড়িয়ে দেয়। দ্বিতীয়ত, প্রধানমন্ত্রী যানবাহনের চালক ও সহকারিদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিয়েছেন। এটিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, অনেক সময় সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে চালকদের প্রশিক্ষণের অভাব ও অদক্ষ সহকারিদের কারণেও। প্রধানমন্ত্রী শুধু যে চালক এবং তার সহকারিদেরকে নিয়েই কথা বলেছেন তা কিন্তু নয়। জনসাধারণ যেন অনিয়ন্ত্রিতভাবে রাস্তা পারাপার না হয় প্রধানমন্ত্রী এদিকেও যথার্থই দৃষ্টি দিয়েছেন। সেই সাথে তিনি আরো বলেছেন যে, জনসাধারণকে সিগন্যাল মেনে চলতে হবে, জেব্রাক্রসিং ব্যবহার করতে হবে।

উক্ত নির্দেশনাগুলো পড়ে বুঝাই যাচ্ছে সরকারের তরফ থেকে সড়ক দূর্ঘটনা রোধে সর্বোচ্চ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এখন সেই নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়নের পালা। আর এই ভূমিকা পালনে সর্বপ্রথম এগিয়ে আসতে হবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দেখভালকারী মন্ত্রীদেরকে। তাদেরকে সড়ক দুর্ঘটনা রোধের উপায় হিসেবে ট্র্যাফিক পুলিশ, পরিবহনমালিক, শ্রমিক ও যাত্রীসাধারণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এগিয়ে আসার দিকে তাগিদ দিতে হবে। আর যানবাহনের মালিকদের আন্তরিকতার সাথে এগিয়ে এসে একই চালককে দিয়ে দীর্ঘ সময় যানবাহন না চালানোর ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে হবে। পাশাপাশি সড়ক দূর্ঘটনারোধে গবেষক ও বিশেষজ্ঞদের প্রদত্ত সুপারিশ-পরামর্শসমূহ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেগুলোকে সক্রিয় উদ্যোগ নিতে হবে। সেই সাথে প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিদের নিকট দেশের আপামর জনসাধারণের চাওয়া, যেসকল সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অযোগ্যদের ড্রাইভিং লাইসেন্স দিয়ে সড়ক দূর্ঘটনার নামে সারা দেশব্যাপী যে ঠান্ডা মাথার খুন চলছে তা থেকে জনসাধারণকে বাঁচাতে এগিয়ে আসুন। (কারণ, মন্ত্রীদের সদিচ্ছার পাশাপাশি দেশ পরিচালনার মগজখ্যাত আমলাদের কলমের এক খোঁচাও পারে সড়কের মৃত্যুর মিছিল থামাতে।) সেই সাথে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর দেয়া সড়ক দূর্ঘটনা রোধে ‘মুক্তির সনদ’ খ্যাত নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়ন করুন। তাহলেই, সড়কে অনাকাঙ্খিত মৃত্যুর মিছিল চিরতরে বন্ধ হবে।   

  পিডিএসও/রিহাব