ঢাকা মেডিকেলে করোনাজয়ীদের প্লাজমা সংগ্রহ শুরু

প্রকাশ : ১৬ মে ২০২০, ১০:৩৫ | আপডেট : ১৬ মে ২০২০, ১০:৪৯

অনলাইন ডেস্ক

দেশে প্রথমবারের মতো করোনা জয়ীদের দেহ থেকে প্লাজমা সংগ্রহ করতে যাচ্ছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (ঢামেক)। সফলতার সঙ্গে নির্ধারিত মানের প্লাজমা সংগ্রহ সম্ভব হলে, এন্টিবডি হিসেবে দেওয়া হবে সংকটাপন্ন করোনা রোগীর দেহে।

চিকিৎসকরা বলছেন, এ কাজে এগিয়ে এসেছেন তিনজন স্বেচ্ছাসেবী চিকিৎসক। ঢামেক হাসপাতালের ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিভাগের অধীনে প্লাজমা গ্রহণের পুরো প্রক্রিয়াটি শুরু হবে আজ শনিবার থেকে।

চিকিৎসকরা মনে করেন, যেকোনো ভাইরাস থেকে সেরে ওঠা রোগীর দেহে তৈরি হয় ওই ভাইরাসেরই অ্যান্টিবডি। ধারণা করা হয়, মারাত্মক সংক্রমণ ঘটানো ভাইরাস করোনায় ক্ষেত্রেও তেমনটি হয়, এজন্য সুস্থ রোগীর রক্তের প্লাজমা দিয়ে আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসা দেওয়ার বিষয়েও কথা হচ্ছে বিশ্বব্যাপী।

প্লাজমা থেরাপির বিষয়টি এখন পর্যন্ত আলোচনার পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকলেও এবার প্রথমবারের মতো কোভিড-১৯ বিজয়ীদের দেহ থেকে প্লাজমা সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে ঢামেক হাসপাতাল। দাতা হিসেবে এগিয়ে এসেছেন তিনজন স্বেচ্ছাসেবী চিকিৎসক।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্বাস্থ্য অধিদফতরের গঠিত কমিটির সুপারিশে এ প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। এরই মধ্যে মিলেছে নৈতিক অনুমোদন। ঢামেক হাসপাতালের অধ্যাপক ডা. মাজহারুল হক তপন বলেন, আগে আমরা রোগীর শরীর থেকে সম্পূর্ণ রক্ত নিয়ে প্লাজমা তৈরি করতাম। আর এখন মেশিনের মাধ্যমে রোগীর শরীর থেকে লাল ও সাদা অংশ বের হয়ে প্লাজমা থেকে বাকি অংশ আবার শরীরে চলে যাবে।

ঢামেক হাসপাতাল পরিচালক বলছেন, কোনো প্রতিষেধক আবিষ্কার না হওয়ায় এ উদ্যোগ আশার আলো করোনা চিকিৎসায়। ঢামেক হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির বলেন, ধারণা করা হচ্ছে এই ভাইরাসেরও অ্যান্টিবডি তৈরি হয়।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে সেরা ওঠা ব্যক্তি থেকে প্লাজমা সংগ্রহের কার্যক্রম আজ শনিবার শুরু হচ্ছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্লাড ট্রান্সফিউশন বিভাগ করোনাজয়ী তিনজন চিকিৎসকের কাছ থেকে প্লাজমা সংগ্রহ করবে। প্রাথমিকভাবে এই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৪৫ জন গুরুতর অসুস্থ করোনা রোগীর ওপর আশা জাগানিয়া ‘প্লাজমা থেরাপি’ প্রয়োগ করা হবে। ‘প্লাজমা থেরাপি’ প্রয়োগের বৈজ্ঞানিক গবেষণার (ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল) কাজটি আগামী জুন মাসে শেষ হতে পারে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, করোনায় আক্রান্ত গুরুতর অসুস্থ রোগীদের সুস্থ করতে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বহু দেশে প্লাজমা থেরাপির ব্যবহার শুরু হয়েছে। একইভাবে বাংলাদেশের করোনায় আক্রান্ত গুরুতর অসুস্থ রোগীদের সারিয়ে তোলার জন্য প্লাজমা থেরাপি প্রয়োগের জন্য প্রাথমিকভাবে গবেষণা করার (ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল) প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশে প্লাজমা থেরাপি প্রয়োগসংক্রান্ত বিশেষজ্ঞ কমিটির প্রধান ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হেমাটোলোজি বিভাগের অধ্যাপক এম এ খান বলেন, ‘বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও করোনা রোগীদের সুস্থ করে তোলার জন্য প্লাজমা থেরাপির পরীক্ষামূলক বৈজ্ঞানিক গবেষণার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

তিনি জানান, আনুষ্ঠানিকভাবে আজ শনিবার থেকে তা শুরু হচ্ছে। করোনার সংক্রমণ থেকে সুস্থ হয়ে ওঠা তিনজন চিকিৎসকের প্লাজমা সংগ্রহ করা হবে। প্লাজমা থেরাপি প্রয়োগের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের কাজটি শেষ হতে পারে আগামী জুনে।

করোনাজয়ী যে তিনজন চিকিৎসক প্লাজমা দিচ্ছেন তারা হলেন, ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক দিলদার হোসেন বাদল, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতালের চিকিৎসক পিয়াস এবং কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালের আতিয়ার রহমান।

পিডিএসও/তাজ