সারাদেশে আইসোলেশন শয্যা বাড়ছে

প্রকাশ : ০৯ এপ্রিল ২০২০, ০৯:২৮

নিজস্ব প্রতিবেদক

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য বাড়ানো হচ্ছে আইসোলেশন শয্যা। ঢাকা এবং এর বাইরে চট্টগাম, ময়মনসিংহ, বরিশাল, রাজশাহী, সিলেট, রংপুর ও খুলনার জন্য নির্দিষ্ট হাসপাতালগুলোতে এই শয্যা বাড়ানো হচ্ছে। এর মধ্যে ঢাকা মহানগরীতে ১ হাজার ৫৫০ এবং বাইরে বিভিন্ন হাসপাতালে রয়েছে ৬ হাজার ১৪৩।

এছাড়া ঢাকার হাসপাতালগুলোয় আইসিইউ বেডের সংখ্যা ৬৭টি, সারা দেশে ১০৫টি। সংকটাপন্ন রোগীকে ভেন্টিলেটরের মাধ্যমে কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাস দিতে এই আইসিইউ ব্যবহার হয়। এই তথ্য জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. সানিয়া তহমিনা।

রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) উপদেষ্টা মুশতাক হোসেন বলেছেন, বৈশ্বিক যে চিত্র, তাতে দেখা যাচ্ছে আক্রান্ত রোগীদের ১০ থেকে ১৪ শতাংশের আইসিইউ ও ভেন্টিলেটরে কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাসের ব্যবস্থা করতে হয়েছে।

অধ্যাপক ডা. সানিয়া তহমিনা বলেন, আইসোলেশন শয্যা সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়াচ্ছি, পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের মাধ্যমে এই কাজ করা হচ্ছে। সরকারি স্থাপনাগুলোকেও আইসোলেশনের শয্যা হিসেবে ব্যবহারের প্রক্রিয়া চলছে। এসব হাসপাতালে মোট নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) শয্যা রয়েছে ১১২টি। একই সঙ্গে ডায়ালাইসিস শয্যা রয়েছে ৪০টি। তবে এসব বাড়ানোর জন্য কাজ করে যাচ্ছি।

তিনি আরো বলেন, কোভিড-১৯ একটি নতুন ভাইরাস, এখনো অনেক কিছু জানার বাকি রয়েছে, কিন্তু যে স্বাস্থ্যবিধি দেওয়া হচ্ছে, সেগুলো মেনে চলতে হবে সবার স্বার্থে। একজন থেকে আরেকজনের শারীরিক দূরত্ব হবে কমপক্ষে তিন ফুট। এই সময় গরম পানি খাওয়া ভালো। এই সময় জানানো হয়, জরুরি অবস্থা না হলে হাসপাতালে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। আর এটা কেবল বাংলাদেশের জন্যই নয়, উন্নত বিশ্বেও এভাবেই কাজ করা হচ্ছে। তবে চলতি মাসে করোনাভাইরাসের ব্যাপক প্রকোপ দেখা দেওয়ার আশঙ্কা বলা হলেও ঠিক কত সংখ্যক মানুষ আক্রান্ত হতে পারে, সে সম্পর্কে এখনো কিছু বলেনি সরকারি কর্তৃপক্ষ।

এদিকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের কেন ভেন্টিলেটর প্রয়োজন সে সম্পর্কে বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ লাং ফাউন্ডেশনের যুগ্ম সম্পাদক কাজী সাইফউদ্দীন বেননূর বলেন, করোনাভাইরাস প্রথমে আক্রমণ করে শ্বাসনালিতে। যাদের রোগপ্রতিরোধের ক্ষমতা ভালো, তাদের কাশি ও সামান্য শ্বাসকষ্ট হয়ে সেরে যায়। আইসিইউতে কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাস লাগে যারা অপেক্ষাকৃত দুর্বল তাদের। ভাইরাস তাদের ফুসফুসে ঢুকে যায়। রোগী নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকায় সরকারি ব্যবস্থাপনায় যে সাতটি হাসপাতালে করোনাভাইরাসের চিকিৎসা দেওয়ার কথা, তার তিনটিতে আইসিইউ আছে। ২০০ শয্যার বাংলাদেশ কুয়েত মৈত্রী সরকারি হাসপাতালে ২৬টি, আড়াইশ’ শয্যার শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট অ্যান্ড হসপিটালে আটটি এবং ৫০০ শয্যার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে আছে ২২টি শয্যা। এর বাইরে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় উত্তরা ও মিরপুরে রিজেন্ট হাসপাতালের দুটি শাখায় ৬ এবং নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুরে সাজেদা ফাউন্ডেশনে ৫ শয্যার আইসিইউ আছে।

ঢাকার বাইরে ঢাকা বিভাগের অন্তর্গত গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, মানিকগঞ্জ, শরীয়তপুর, ঢাকা জেলা, গাজীপুর, টাঙ্গাইল, নরসিংদী ও মাদারীপুরের ১৬টি হাসপাতালে একটিও আইসিইউ নেই। একই অবস্থা বরিশাল, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগীয় জেলার হাসপাতালে। তবে ময়মনসিংহ বিভাগে ২৬টি ও খুলনার ডায়াবেটিক হাসপাতালে ৫ শয্যার আইসিইউ আছে।

পিডিএসও/তাজ