হাই-ব্লাডপ্রেসার বোঝার উপায়

প্রকাশ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৭:৪২ | আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৮:০২

স্বাস্থ্য ডেস্ক

আমাদের দেশে দিন দিন উচ্চরক্তচাপে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। তাই এ বিষয়ে আমাদের সচেতন হওয়া জরুরি। উচ্চরক্তচাপ বা হাই ব্লাডপ্রেসারকে মেডিকেলের ভাষায় হাইপারটেনশন বলা হয়। হাইপারটেনশন রোগটি সবার না থাকলেও সুস্থ-অসুস্থ প্রতিটি মানুষেরই রক্তচাপ বা ব্লাডপ্রেসার থাকে। আপনি উচ্চরক্তচাপ বা হাইপারটেনশনে ভুগছেন কিনা, তা আপনাকে জানতে হবে। তাই আসুন জেনে নিই উচ্চরক্তচাপ পরিমাপের কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।

ব্লাডপ্রেসার কী : আমাদের হার্ট বা হৃৎপিন্ড রক্তকে প্রতিনিয়ত ধাক্কা দিচ্ছে। হৃৎপিন্ড রক্তকে ধাক্কা দিয়ে ধমনিতে পাঠালে ধমনির গায়ে যে চাপ বা প্রেসার তৈরি হয় তাকেই রক্তচাপ বা ব্লাডপ্রেসার বলে। প্রতিটি মানুষের ক্ষেত্রে এ রক্তচাপের একটি স্বাভাবিক মাত্রা আছে। যখন এটি স্বাভাবিক মাত্রা ছাড়িয়ে যায়, তখনই তাকে বলা হয় হাইপারটেনশন বা উচ্চরক্তচাপ।

মানুষের স্বাভাবিক রক্তচাপ কত : একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের স্বাভাবিক রক্তচাপ ১২০/৮০ মিলিমিটার মার্কারি। বয়সভেদে এ রক্তচাপ বাড়তে বা কমতে পারে। কারও রক্তচাপ সব সময়ের জন্য যদি বেশি মাত্রায় থাকে (যেমন-১৩০/৯০ বা ১৪০/৯০ বা তারও বেশি) যা তার দৈনন্দিন কাজ বা স্বাভাবিক কাজকর্মকে ব্যাহত করে, তখনই এ অবস্থাটিকে উচ্চরক্তচাপ বা হাইপারটেনশন বলা হয়।

পূর্ণ বিশ্রামে থাকা একজন সুস্থ-স্বাভাবিক মানুষের রক্তের চাপ বা ব্লাডপ্রেসার হবে ১২০/৮০ মিলিমিটার পারদ চাপ। এ ক্ষেত্রে প্রথম সংখ্যাটি (১২০) দ্বারা হার্টের সংকোচনের সময় ধমনিতে সৃষ্ট রক্তচাপ বা ব্লাডপ্রেসার এবং দ্বিতীয় সংখ্যাটি দ্বারা হার্টের প্রসারণের সময় ধমনিতে সৃষ্ট রক্তচাপ বা ব্লাডপ্রেসারকে নির্দেশ করে। এ প্রথম প্রেসার সংখ্যাটিকে মেডিকেলের ভাষায় সিস্টোলিক প্রেসার নামে ডাকা হয়। এ সিস্টোলিক প্রেসার সব সময় দ্বিতীয়টি থেকে বেশি থাকে। সিস্টোলিক প্রেসারের স্বাভাবিক মাত্রা ১৪০ মিলিমিটারের নিচে এবং ৯০ মিলিমিটারের ঊর্ধ্বে।

অন্যদিকে দ্বিতীয় প্রেসারটিকে মেডিকেলের ভাষায় ডায়াস্টোলিক প্রেসার ডাকা হয় এবং এর স্বাভাবিক মাত্রা ৯০ মিলিমিটারের নিচে এবং ৬০ মিলিমিটারের ঊর্ধ্বে। তাই যখন কোনো ব্যক্তির ওপরের প্রেসারটি ১৪০ বা তার ঊর্ধ্বে অথবা নিচের প্রেসারটি ৯০ বা তার ঊর্ধ্বে পাওয়া যায়, তখন ধরে নিতে হবে রোগীর রক্তচাপ বা ব্লাডপ্রেসার স্বাভাবিকের ওপরে অর্থাৎ তিনি উচ্চরক্তচাপ বা হাইপারটেনশন রোগে ভুগছেন।

পিডিএসও/তাজ