ছয় হাসপাতালে এক যুগ ধরে জনবল সংকট

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ১২১ চিকিৎসক পদে কর্মরত ৫০

প্রকাশ : ২৮ আগস্ট ২০১৮, ০০:১৩

অলিউজ্জামান রুবেল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৬ হাসপাতালে জনবল সংকটে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। আর এ জনবল সংকট লেগে আছে প্রায় এক যুগ। ফলে চিকিৎসাসেবা নিতে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেই ছুটতে হচ্ছে এ জেলার মানুষকে।

একাধিক সূত্র ও সরেজমিন তদন্তে জানা গেছে, ২০০৩ সালে ৫০ শয্যার চাঁপাইনবাবগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতাল ১০০ শয্যায় উন্নীত হওয়ার ১৪ বছরেও জনবলে দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন আসেনি। ১০০ শয্যার সদর হাসপাতালটি ২৫০ শয্যায় উন্নীতকরণের লক্ষ্যে ২৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে আটতলা ভবন নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ। তবে চিকিৎসক সংকট সমাধানে রয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। জেলার আধুনিক সদর হাসপাতালটিতে জনবল সংকটের কারণে প্রতিদিনই হয়রানি হচ্ছে চিকিৎসাসেবা প্রার্থীরা। সেবাবঞ্চিতদের মধ্যে বাড়ছে ক্ষোভ আর হতাশা। রোগীদের দীর্ঘশ্বাসে ভারি হচ্ছে হাসপাতাল চত্বর। জেলার অন্য উপজেলার স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও জনবল সংকট আরো তীব্র।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলা সদরের আধুনিক সদর হাসপাতালটিতে অনুমোদিত ২১ জনের মধ্যে ১২ জন চিকিৎসক কর্মরত, সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনুমোদিত ১৮ জনের মধ্যে কর্মরত মাত্র ৫ জন, শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনুমোদিত ৩৭ জনের মধ্যে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১২, নাচোল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনুমোদিত ১৩ জনের মধ্যে কর্মরত আছেন ৬ জন, ভোলাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনুমোদিত ১৪ জনের মধ্যে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৫ জন, গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনুমোদিত ১৮ জনের মধ্যে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১০ জন চিকিৎসক। এছাড়া জেলায় ৪৬টি ইউনিয়নে আলাদা আলাদা স্বাস্থ্যকেন্দ্র রয়েছে। নিয়োগপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের সেখানে না যাওয়ার বিস্তর অভিযোগ। চিকিৎসক সংকটে একাধিক ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র এখন পরিত্যক্ত পড়ে গোচারণ ভূমি। আর রাতের আঁধারে মাদকসেবীদের দখলে।

জনবল সংকটের বিষয়টি স্বীকার করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা. সায়ফুল ফেরদৌস জানান, জনবল সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে তিনজন চিকিৎসক যোগদানের কথা রয়েছে। এতে সংকট সমাধান হবে না; তবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আশ্বস্ত করেছেন চলতি বছরের মধ্যেই সংকট সমাধান হবে।

বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) চাঁপাইনবাবগঞ্জ শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক নাহিদ ইসলাম মুন জানান, চিকিৎসক সংকটে দুর্ভোগ জনসাধারণের।

ফলে জনপ্রতিনিধি হিসেবে স্থানীয় সাংসদকেই সংকট সমাধানে দায়িত্বশীল হতে হবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে বারবার তাগাদা দিয়ে চিকিৎসক নিয়ে আসতে হবে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতাল পরিচালনা কমিটির সভাপতি সদর আসনের সাংসদ আব্দুল ওদুদ জানান, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে চাহিদাপত্র দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী বিসিএস থেকেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসক পাওয়া যাবে বলে আশা করছি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ (শিবগঞ্জ) আসনের সাংসদ গোলাম রাব্বানী জানান, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত সরকারের একটি বড় চ্যালেঞ্জ। জনবল সংকটের বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে অবহিত করে দ্রুত সংকট সমাধান করা হবে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ (নাচোল, গোমস্তাপুর, ভোলাহাট) আসনের সাংসদ গোলাম মোস্তফা বিশ্বাস জানান, চিকিৎসক সংকটের বিষটি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে একাধিকবার জানানো হয়েছে। দ্রুত সংকট সমাধানে জনবল নিয়োগ করা হবে বলে আশ্বস্ত করেছে কর্তৃপক্ষ।

পিডিএসও/রিহাব

"