আজ আন্তর্জাতিক নার্স দিবস

নার্সিংয়ের অনুপ্রেরণা ফ্লোরেন্স নাইটিংগেল

প্রকাশ : ১২ মে ২০১৮, ১২:২৭

পাঠান সোহাগ

নার্সিং পেশায় অনুপ্রেরণার নাম ফ্লোরেন্স নাইটিংগেল। অসহায় রোগীর সেবা ছিল তার ধ্যানজ্ঞান। তাদের জন্য রাতের ঘুম আর নিজের খাবার পর্যন্ত উৎসর্গ করতেন তিনি। ‘লেডি উইথ ল্যাম্প’ উপাধিতে ভূষিত হয়েছিলেন এই মহীষসী নারী। আজ ১২ মে এই মহীয়সী নারীর জন্মদিন। আধুনিক নার্সিংয়ের প্রবর্তক ফ্লোরেন্স নাইটিংগেলের সেবাকর্মের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তার জন্মদিন ১২ মে বিশ্বব্যাপী নার্স দিবস পালন করা হয়। এবারে দিবসটির প্রতিপাদ্য বিষয় ‘নার্সেস এ ভয়েস টু লিড, হেলথ ইজ এ হিউম্যান রাইট’ (নার্সদের উচ্চকিত স্লোগান-স্বাস্থ্য সুরক্ষাই মানবাধিকার)।

আন্তর্জাতিক নার্স দিবস আজ। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি পালন করা হচ্ছে। নার্সেও পেশার প্রতি সম্মান জানানোর জন্য বিভিন্ন সরকারি- বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান এবং ইনস্টিটিউশনও নার্স দিবস উদ্যাপন করবে। দিবসটি উপলক্ষে শোভাযাত্রা, আলোচনা অনুষ্ঠান, সেমিনার, নার্স অ্যাওয়ার্ড প্রদান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়েছে।

জানা গেছে, দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশ নার্সেস অ্যাসোসিয়েশনের (বিএনএ) সহযোগিতায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং ঢাকা নার্সিং কলেজ যৌথভাবে আনন্দ র‌্যালির আয়োজন করছে। এ ছাড়া সিবিএনএস (জাইকা) এবং নার্সিং শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে ঢামেকের প্রতিটা ওয়ার্ডে নার্সগণ রোগীদের হলিস্টিক কেয়ার সেবা দেবেন।

ফ্লোরেন্স নাইটিংগেল ১৯৮ বছর আগে ১৮২০ সালের ১২ মে ইতালির ফ্লোরেন্স শহরের এক ধনাঢ্য পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। বাবা পছন্দ করে নাম রেখেছিলেন ‘ফ্লোরেন্স নাইটিংগেল’। শৈশব কেটেছে ইংল্যান্ডের ডার্বিশায়ারে।

ফ্লোরেন্স নাইটিংগেলের বাবার ইচ্ছে ছিল মেয়ে উচ্চশিক্ষিত হয়ে বিশ্বখ্যাত সংগীতশিল্পী হবেন। কিন্তু ফ্লোরেন্স নাইটিংগেলের সেবিকা হওয়ার ইচ্ছের কাছে হার মানতে বাধ্য হন বাবা। তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত কাটিয়েছেন কঠিন দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত অসহায় মানুষের সেবায়। ১৮৪৯ সালে ২৯ বছর বয়সে প্যারিসের সেন্ট ভিনসেন্ট সোসাইটির দুইজন সন্ন্যাসিনীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সেখানে গিয়ে বিভিন্ন কর্মকর্ম প্রত্যক্ষ করার পর ফ্লোরেন্স নাইটিংগেলের সেবিকা হওয়ার ইচ্ছা আরো প্রবল হয়।

পরে ১৮৫৪ সালে ক্রিমিয়ার যুদ্ধ শুরু হয়। তখন ফ্লোরেন্স নাইটিংগেল যুদ্ধাহতদের সেবা শুরু করেন। সেখানে অসামান্য অবদান রাখেন। ১৮৫৬ সালের ক্রিমিয়ার যুদ্ধ শেষ হয়। ১৮৬০ সালে ইংল্যান্ডে ফিরে যান। সেখানে গিয়ে সেন্ট থমাস হাসপাতালে ‘নাইটিংগেল স্কুল অব নার্সিং’ চালু করেন। অসামান্য অবদানের জন্য তাকে আধুনিক নার্সিংয়ের প্রবর্তক বলা হয়। এ মহীয়সী নারী ১৩ আগস্ট ১৯১০ সালে ৯০ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। এই মহীয়সী নারীর কর্ম প্রেরণারক অনুসরণ করে বিশ্বেও সকল নার্সিং প্রতিষ্ঠান।

পিডিএসও/তাজ