চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল

দগ্ধ রোগীদের পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা নেই

প্রকাশ : ০১ এপ্রিল ২০১৮, ১০:৩৪

শরীফুল রুকন, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামে দিন দিন বেড়েই চলেছে দগ্ধ রোগীর সংখ্যা। কিন্তু সে অনুযায়ী চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ২৬ শয্যার বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগে বাড়েনি চিকিৎসা সুবিধা। নেই নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্র (আইসিইউ)। প্রয়োজনীয় শয্যা, জনবল ও যন্ত্রপাতির সংকট তো রয়েছেই। এতে বৃহত্তর চট্টগ্রামের দগ্ধ রোগীরা পূর্ণাঙ্গ সেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, শয্যা সংকুলান না হওয়ায় বিভাগের মেঝেতেও রাখা হয়েছে রোগী। প্রবেশমুখেও রোগীদের জন্য বেডের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা না থাকায় সেবা নিতে আসা রোগীদের কান্না যেন নিত্যদিনের সঙ্গী। নারী ও শিশুদের কক্ষগুলোতে কান্না যেন থামছে না। বিত্তশালী লোকজন উন্নত সেবা নিতে রাজধানী পাড়ি জমালেও দরিদ্র-অসহায় মানুষগুলোর এখানেই কাটছে জীবন। চিকিৎসক কম হওয়ায় সেবা নিয়ে অসন্তুষ্ট রোগী ও স্বজনরা।

জানা গেছে, ২০০৭ সালে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের যাত্রা হয়। এই বার্ন ইউনিটে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, তিন পার্বত্য জেলা রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান এবং ফেনী ও নোয়াখালী এলাকার লোকজন চিকিৎসা নেয়। এ কারণে দিন দিন বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। তবে রোগীর প্রচণ্ড চাপ ও অপ্রতুল চিকিৎসাসেবার পরও গত ১১ বছরে এই ওয়ার্ডের আধুনিকায়ন হয়নি। বর্তমানে একজন সহযোগী অধ্যাপক, একজন সহকারী অধ্যাপক ছাড়া এই বিভাগে সাতজন মেডিক্যাল অফিসার কর্মরত। চিকিৎসাসেবায় সহায়তা দিতে আছেন ১৫ জন সেবিকাও। তবে ২৪ ঘণ্টা সেবা দেওয়ার জন্য এটা পর্যাপ্ত নয় বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. এস খালেদ বলেন, এই ওয়ার্ডে ২৪ ঘণ্টা রোগী ভর্তি করাতে হয়। দিন দিন রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বার্ন ইউনিটে এখন প্রতিদিন গড়ে রোগী থাকে ৬৫ জন। শীতকালে রোগীর সংখ্যা বেড়ে যায়।

সহকারী অধ্যাপক ডা. রফিক উদ্দিন আহমেদ বলেন, এখানে ২৬ শয্যার উপযোগী লোকবল নেই। পূর্ণাঙ্গ সেবা দেওয়ার জন্য যেসব সুযোগ-সুবিধা দেওয়া দরকার সেগুলো এখানে নেই। এর পরও সেবা নিতে আসা মানুষদের প্রতিনিয়ত সেবা প্রদানে আমাদের আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি নেই।

এদিকে ২০১৪ সালে ১০০ শয্যার বিশেষায়িত একটি বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। নতুন প্রস্তাবের মধ্যে ১০ শয্যার আইসিও, ১০টি এইচডিইউ, তিনটি অস্ত্রোপচার কক্ষ, ফিজিওথেরাপি ও অ্যানেসথেসিয়া বিভাগের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এ ছাড়া অধ্যাপকসহ জ্যেষ্ঠ পদের বাইরে প্রতি পাঁচজন রোগীর জন্য একজন করে চিকিৎসক দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এরপর ২০১৬ সালে একটি আধুনিক বার্ন ইউনিট প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে অবকাঠামো নির্মাণ থেকে শুরু করে চিকিৎসা যন্ত্রপাতি কিনতে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা অর্থায়নের বাজেট নির্ধারণ করে চীন সরকার। কিন্তু এখনো স্থান নির্ধারণ না হওয়ায় তিন বছর ধরে প্রকল্পটি আলোর মুখ দেখেনি।

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জালাল উদ্দিন বলেন, হাসপাতালের সমস্যা ও সংকটগুলো চিহ্নিত করে আমরা কাজ করছি। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ না পাওয়ায় সংকট দ্রুত কাটছে না। এরপরও চিকিৎসাসেবার মান নিশ্চিতে নিরলসভাবে কাজ করছি আমরা।

পিডিএসও/হেলাল