নাক কান গলা রোগের দেশসেরা হাসপাতাল

প্রকাশ : ২৮ মার্চ ২০১৮, ০৮:৪৩

পাঠান সোহাগ

প্রচারণার অভাবে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত নাক কান গলা রোগের দেশসেরা বিশেষায়িত হাসপাতালটি সম্পর্কে এখনো অনেকে অবগত নন। অনেকেই জানেন না এখানে নামমাত্র খরচে নাক, কান ও গলার সব ধরনের রোগের চিকিৎসা দেওয়া হয়। রক্তনালীর টিউমার, প্যারেটিড গ্রন্থির টিউমার, থাইরয়েড বা গলগন্ড এবং জিহ্বার টিউমারের মতো জটিল অপারেশনও করা হচ্ছে বিনা খরচে। পাশাপাশি জরুরি বিভাগ ২৪ ঘণ্টা খোলা রেখে চিকিৎসা দিচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

জাতীয় নাক-কান-গলা (ইএনটি) ইনস্টিটিউট নামের ওই হাসপাতালের বহির্বিভাগে রোগী দেখেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। প্রয়োজনে বিভাগীয় প্রধানরা বিশ্বমানের আধুনিক যন্ত্রপাতি মাধ্যমে রোগী দেখেন। জানা গেছে, জাতীয় নাক-কান-গলা ইনস্টিটিউটে মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে ডাক্তারদের ৬টি ইউনিটে ভাগ করা হয়েছে। জরুরি, বহির্বিভাগ, অডিওলজি ও অপারেশন থিয়েটারে সর্বদা চিকিৎসা কাজে তাদের নিয়োজিত রাখা হয়েছে।

এদিকে, বাংলাদেশের এলডিসি স্ট্যাটাস থেকে উত্তরণ উদ্যাপন উপলক্ষে জাতীয় নাক-কান-গলা ইনস্টিটিউটে ২০-২৫ মার্চ পর্যন্ত বিশেষ সেবা সপ্তাহ ২০১৮ পালিত হয়েছে। বিশেষ সেবা সপ্তাহ উপলক্ষে সংক্রমিক ও অসংক্রমিক রোগ নিয়ন্ত্রণ অপারেশনের প্লান এবং হাসপাতালের রোগীবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে জোর চেষ্টা চলছে। বিশেষ দিনে রোগীদের উন্নত খাবারের আয়োজন করা হয়। ইএনটি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘ব্যাংকক ও সিঙ্গাপুরে যে ধরনের চিকিৎসা দেওয়া হয়, একই মানের চিকিৎসা হয় আমাদের এই হাসপাতালে। যন্ত্রপাতিও সেই মানের। রোগ নির্ণয়ে ক্ষেত্রে আমাদের শতভাগ সাফল্য আছে।’ তিনি বলেন, ‘হাসপাতালে বিশেষ সেবা সপ্তাহ চলছে। রোগীদের জন্যও বিশেষ সুযোগ সুবিধার দেওয়া হচ্ছে।’

জানা যায়, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশ থেকে ৯০ শতাংশ বধিরতা নির্মূলের লক্ষ্য নিয়ে ২০০৯ সালের জুলাইয়ে নির্মাণকাজ শুরু হয় ইএনটি ইনস্টিটিউটের। ২০১৩ সালের ১৯ জুন বিশেষায়িত ১২০ শয্যার এ হাসপাতালটির চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করে। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিজস্ব উদ্যোগে আটটি শয্যা বাড়ান। এখন এই হাসাপাতালে ১২৮টি শয্যা রয়েছে। এজন্য প্রতিষ্ঠানটির বেশিরভাগ শয্যা ফ্রি সেবার আওতায় রাখা হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, মুক্তিযোদ্ধা, দুস্থ, গরিব ও প্রতিবন্ধীরা এই ফ্রি সেবা পেয়ে থাকেন। অল্প কয়টি শয্যায় রোগীদের অর্থের বিনিময়ে চিকিৎসা সেবা নিতে হয়। প্রতিদিন ২৭৫ টাকা করে দিতে হয়। অপারেশনের ক্ষেত্রে বড় অপারেশনের জন্য এক হাজার টাকা এবং ছোট অপারেশনের জন্য ৫০০ টাকা দিতে হয়।

এছাড়া ১০টি নন-এসি ও ২টি এসি কেবিন আছে। নন-এসি কেবিনের চার্জ ৪০০ টাকা এবং এসি কেবিনে এক হাজার টাকা দিতে হয়। কেবিনের রোগীদের অপারেশনের ক্ষেত্রে বড় অপারেশনে দুই হাজার টাকা এবং ছোট অপারেশনে এক হাজার টাকা। এছাড়া অতীব গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের জন্য দুইটি ভিআইপি কেবিন আছে। এই দুইটি কেবিনের চিকিৎসা সেবাও সম্পূর্ণ ফ্রি। এমনকি রোগীর সব ওষুধ সরকার থেকে সরবরাহ করা হয়। সঙ্গে তিন বেলা খাবারও ফ্রি।

সরেজমিনে গত সোম ও মঙ্গলবার হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, সকাল ৮টায় বহির্বিভাগের সামনে ১০ টাকার টিকিট হাতে রোগীদের দীর্ঘ সারি। রোগীর চাপ আগের চেয়ে বেশি। কথা হয় বাড্ডার মাহমুদার সঙ্গে তিনি বলেন, ‘কানে সমস্যা ছিল। ডাক্তার দেখিয়েছি। তিনি ওধুষ লিখে দিয়েছেন। ৭ দিন পর আসতে বলেছেন।’ শাহাজপুরের সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘কানে কম শুনতাম। ডাক্তার বলেছেন ছোট অপারেশন করতে হবে।’ শান্তিনগরের লাভনী বলেন, অনেকগুলো পরীক্ষা করিয়েছি। অপারেশন করতে হবে। ভর্তি হতে বলেছেন। এক চিকিৎসক বলেন, হাসপাতালটিতে ক্যাজুয়ালিটি অপারেশন থিয়েটারসহ ৭টি ওটি, অত্যাধুনিক ইএনটি ওয়ার্ক স্টেশন, অডিও ভেস্টিবুলার ল্যাব, স্কিল ল্যাবসহ বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থাও চালু আছে।

তিনি আরো বলেন, এই হাসপাতালটিতে চিকিৎসক পদ রয়েছে ৯৪টি। এরমধ্যে ৫৯ জন চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। বেশ কিছু চিকিৎসক স্বেচ্ছায় হাসপাতাল থেকে চলে গেছেন। বর্তমানে অনেকগুলো পদ খালি আছে। এছাড়া তৃতীয় শ্রেণি, চতুর্থ শ্রেণির বেশ কিছু পদ খালি আছে।

অধ্যাপক ডা. মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘চাহিদার তুলনায় ডাক্তার, নার্স ও কর্মচারীর সংখ্যা কম। সারা দেশে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীর নিয়োগ বন্ধ। এ কারণে আমাদের এখানে কিছু ঘাটতি আছে। সেটা কিছু দিনের মধ্যে কেটে যাবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘সরাসরি চিকিৎসা সেবা দেওয়া, নাক-কান-গলার ভবিষ্যৎ চিকিৎসকদের দক্ষ করে তোলা এবং নাক-কান-গলা রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করতেই এই হাসপাতাল নির্মাণ করা হয়েছিল। আমাদের এখানের এমএস, এসসিএস,ও অডিওলজির মতো পেশাদারী কোর্স চালু আছে।’

পিডিএসও/হেলাল