হঠাৎ পেটের সমস্যা

প্রকাশ : ১১ মার্চ ২০১৮, ২১:৩১

অধ্যাপক ডা. বাহার

খাদ্যাভ্যাসের কারণে পশ্চিমাদের চেয়ে আমাদের বাহ্য ত্যাগের অভ্যাস স্বাস্থ্যসম্মত। আমরা প্রচুর ভাত ও আঁশযুক্ত খাবার খাই। তাই প্রেসক্রিপশনে প্রচুর আঁশযুক্ত খাবার খাবেন—এটি উল্লেখ করার তেমন প্রয়োজন পড়ে না। আমরা সাধারণত দৈনিক দু-একবার বাহ্য ত্যাগ করি। মলে পিচ্ছিলজাতীয় যৎসামান্য আম থাকা যে স্বাভাবিক—এটা অনেকেই মানতে পারেন না।

এটিকে ক্রনিক ডিসেন্ট্রি বা আমাশয় ভেবে সুস্থ মানুষও ডাক্তার, কবিরাজ, বৈদ্য সবার কাছে ধরনা দেন। সপ্তাহে দুই থেকে চারবার পায়খানা হলে তা স্বাভাবিক। এর কম হলে চিকিৎসা নেওয়ার কথা ভাবতে পারেন। পায়খানা স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে দুই থেকে চারবার কমবেশি হলে কিংবা নরম বা শক্ত হলেই ওষুধ খেতে হবে, এটা বিজ্ঞানসম্মত নয়।

পায়খানা করে পেট খালি হয়নি,  কোষ্ঠকাঠিন্য ভেবে ল্যাগজেটিভ বা মল নরম করার ওষুধ খেলে লাভ হয় না। খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে এর সম্পর্ক রয়েছে। অন্ত্রের স্নায়ুবিক বৈকল্য বা আইবিএস বা কোষ্ঠকাঠিন্য চিকিৎসায় এর নিরাময় নেই। নির্দিষ্ট মাত্রায় নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মেট্রোনিডাজল গ্রুপের ওষুধ কিংবা অ্যান্টিবায়োটিক না খেয়ে দুয়েক বেলা, দু-একদিন, দুই থেকে চারটি ফ্ল্যাজিল/ফিলসেটজাতীয় ওষুধ খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। কোনো খাবার না খেলে বাহ্য ভালো থাকে, শুধু সেটাই পরিত্যাজ্য।

অযথা মাছ, ভাত, গোশত খাওয়া বাদ দিয়ে নিজেকে বঞ্চিত করবেন কেন? দুধের ব্যাপারেও আমাদের ভুল ধারণা আছে। দুধ আদর্শ খাদ্য, তাই দুধ খেতেই হবে এটা যেমন ভুল, দুধ খেলেই ডায়রিয়া হয় এটাও সত্য নয়। দাঁত গজানোর আগে শিশুর একমাত্র খাদ্য দুধ, তবে বেশিদিন সব খাদ্যপ্রাণ দুধ দিতে পারে না।

ছয় মাস পর থেকে শিশুকে দুধের সঙ্গে অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার যেমন : মাছ, ভাত, ডিম, গোশত দিতে হয়। আবার দাঁত পড়ে যাওয়ার পর বৃদ্ধ বয়সেও পরিমাণমতো দুধ খেলে প্রয়োজনীয় ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়। স্তন্যপায়ী কোনো প্রাণী দাঁত গজানোর পর দুধ পান করে না। তাই বলে প্রাপ্তবয়স্ক বাঘ, ভালুক, সিংহরা কি দুর্বল? দুধপ্রাপ্ত বয়সে মাছ-গোশত-ভাত রুটি থেকে কিছুতেই বেশি পুষ্টিকর নয়, দুধ শিশুর জন্যই আদর্শ খাদ্য।

যদি কখনো আলকাতরার মতো কালো নরম আর আঠালো বাহ্য ত্যাগ করেন; তবে তা আইবিএসের নরম বা কম বাহ্য ত্যাগের চেয়ে অনেক বেশি প্রাণহানিকর। এটা পাকস্থলী কিংবা খাদ্য অন্ত্রের প্রথমভাগে রক্তক্ষরণের কারণে হয়। এটা অনেক বেশি গুরুতর। এমন হলে সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি পরিমাণ কিংবা অনেক বেশিবার, কঠিন ও সপ্তাহে একবারও বাহ্য না হলে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। কলেরার মতো চাল ধোয়া পানি বা বারবার নরম ও রক্তমিশ্রিত পায়খানা হলেও দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

লেখক : গ্যাস্ট্রএন্ট্রোলজি ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ

পিডিএসও/তাজ