বেশির ভাগ ক্রেতাই নারী

প্রকাশ : ২০ জুন ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ২০ জুন ২০১৭, ১১:৩৯

লাকসাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি

মুসলমানদের প্রধান দুটি ধর্মীয় উৎসবের প্রথমটি ঈদুল ফিতর। আর মাত্র কদিন বাকি ঈদের। ঈদ সামনে রেখে কেনাকাটায় ধুম পড়েছে বিপণিবিতান ও প্রসাধনসামগ্রীর দোকানগুলোতে। সময় যতই ঘনিয়ে আসছে ততই জমে উঠেছে লাকসাম-মনোহরগঞ্জের ঈদের কেনাকাটা। এ স্থানের বিপণিবিতানগুলোতে ঈদ-ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়, তবে বেশির ভাগ ক্রেতাই নারী, কিশোরী ও তরুণী।

বাহারি রঙের পোশাক সাজিয়ে বিক্রি করছেন দোকানিরা। আর সব শ্রেণির মানুষ ছুটছেন ঈদের পোশাক কিনতে। লাকসাম শহরের প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র দৌলতগঞ্জ বাজারের চাঁন মিয়া টাওয়ার, হাজি মোকছুদ আলী টাওয়ার, নদী বাংলা ভূঁইয়া টাওয়ার, বিএস টাওয়ার, গফুর ম্যানশন, লাকসাম প্লাজা, বাচ্চু ম্যানসনসহ সব বিপণিবিতানে চলছে ঈদের পোশাক কেনাকাটা। সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ক্রেতাদের পদচারণায় মুখরিত শহরের প্রতিটি বিপণিবিতান। দুই উপজেলার এসব ঈদবাজার সিংহভাগই নারীদের দখলে।

এবারের ঈদে ক্রেতাদের চাহিদায় মার্কেটগুলোতে স্থান পেয়েছে কটন, খাদি, ভাটিকা, বেক্সি ফ্যাব্রিকস, সেলফি, সিল্কসহ দেশি-বিদেশি নানা নকশা ও কারুকাজের তৈরি পোশাকের পাশাপাশি ভিন দেশীয় থ্রিপিস, বাহুবলী-১, বাহুবলী-২, সর্বমঙ্গলা, সরোজা ও হুররামসহ একাধিক নামের পোশাকের কদর বেশি ক্রেতাদের। এসব পোশাক তিন থেকে ১০ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে।

এ ছাড়া ফতুয়া, ওড়না, স্কার্পসহ ছোট ছেলেমেয়েদের হরেকরকম ডিজাইনের কাপড়-চোপড় রয়েছে মার্কেটগুলোতে। বিশেষ করে দেশীয় তাঁত, নেট, সুতি, হাফসিল্ক, ফুলসিল্ক, কাতান, জামদানি, বেনারসি, টাঙ্গাইল তাঁত, বালুছড়ি, মিরপুরি সিল্ক, ঢাকাই মুসলিন ও ঢাকাই জর্জেট। অপরদিকে বিদেশি পণ্যের মধ্যে গাড়ওয়াল, কাঁচপুরি, জয়পুরি, তছর, মসলিন, ইতালিয়ান ক্রেপ্ট সিল্ক, মাইসের রেশম, চেত্তিনাদ, কাঞ্চিপুরি, কটিদুরিয়া, চিকন পাইর, বাঁধুনী, কাঁথা, মুর্শিদাবাদী সিল্ক, জুট কাতান, অপরা কাতান, সানন্দা সিল্ক, শান্তিপুরি সিল্ক, নেপালি শাড়ি, পাকিস্তানি, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, চায়নাসহ বহু দেশের হরেকরকম কাপড় মজুদ করে বিক্রি করছেন দোকানিরা। নারীদের এসব পোশাক ৫০০ থেকে শুরু করে ৩০ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে।

এবারের ঈদের বিপণিবিতানগুলোতে পুরুষ ক্রেতাদের চেয়ে নারী ক্রেতার সংখ্যাই বেশি। লাকসাম উপজেলার কয়েকটি মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, পুুরুষের চেয়ে নারী ক্রেতাদের আনাঘোনা বেশি। বড় বোনের সঙ্গে ঈদের কেনাকাটা করতে এসেছেন সাদিয়া আফরিন। তিনি বলেন, ‘এবার ঈদের বাজারে নতুন পছন্দের জামা-কাপড় এসেছে। যদিও নতুন পোশাকের দাম একটু বেশি। তার পরও নিজের পছন্দের থ্রিপিস কিনতে পেরে খুব খুশি লাগছে।’

শহরের হাজী মোকছুদ আলী টাওয়ারের স্বত্বাধিকারী শাহজাহান শেখ বলেন, ‘ভারতীয় চ্যানেলকে প্রাধান্য দিয়েই ক্রেতারা তাদের পছন্দের পোশাক কিনছেন এবং গতবারের তুলনায় এবার নারী ক্রেতাই বেশির ভাগ। কিন্তু গত ঈদের তুলনায় এবার বেচাকেনা তেমন ভালো নয়।’

পিডিএসও/হেলাল