জামার সঙ্গে চাই নতুন জুতা

প্রকাশ : ১৯ জুন ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ১৯ জুন ২০১৭, ১৫:৪৫

হাসান ইমন

ঈদে চাই নতুন পোশাক। সঙ্গে নতুন জুতা। ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে অনেকে নতুন পোশাক কিনেছেন। এরপর চাই নামিদামি ব্র্যান্ডের চৌকস ডিজাইনের জুতা। তাই সবার মাথায় এখন নতুন জুতা-স্যান্ডেল কেনার চিন্তা। জুতার দোকানগুলোতে ভিড় করছেন তারা। এখন পোশাকের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলছে জুতা কেনাকাটা। ছেলেদের জুতার পাশাপাশি মেয়েদেরও বাহারি রঙের জুতা এসেছে দোকানগুলোতে।

দোকানিরা জানান, মেয়েদের জুতার ফ্যাশনে এবার চলছে হাইহিল এবং সিন্ড্রেলা সু স্টাইলের হাইহিল ডিজাইনের পাম্পসুগুলো, যা দেখতে যেমন অসাধারণ, তেমনি পোশাকের সঙ্গেও বেশ মানানসই। এছাড়া ব্যালেরিনা সু, হাইহিল, সেমি-হিল, ফ্যাট জুতা এবং স্যান্ডেলও ডিজাইন অনুযায়ী সবার নজর কাড়ছে। এছাড়া বাজারে আছে লোফার, ব্যালেরিনা এবং অ্যাঙ্কল স্ট্র্যাপসহ বিভিন্ন ডিজাইনের জুতা। ওয়েস্টার্ন বা অন্যান্য পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে পরার জন্য হরেক রকম সু রয়েছে। পিছিয়ে নেই ব্যালেরিনাও। গরমেও এই জুতাটি সমান জনপ্রিয়। ঈদ উপলক্ষে ব্যালেরিনায় এবার যুক্ত হয়েছে সোনালি কারুকাজ, পাথর আর পুঁতি। এছাড়া কয়েকটি ব্র্যান্ডশপ এনেছে মেটালিক ফ্লোরার স্টিলেটোস, এমব্রয়ডেড মিউলস, আরামদায়ক এবং স্টাইলিশ ওয়েজহিল। এসব জুতায় চামড়ার পাশাপাশি সিনথেটিক, কৃত্রিম চামড়া, ফ্যাব্রিক ইত্যাদিও ব্যবহার করা হয়েছে।

অন্যদিকে, ছেলেরা পাঞ্জাবির সঙ্গে চামড়ার চটি কিংবা স্যান্ডেল, ফরমাল পোশাকের সঙ্গে ফরমাল সু এবং জিন্স ও টি-শার্টের সঙ্গে মিলিয়ে কেডস কিনতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন। এছাড়া চামড়ার চটি, স্যান্ডেল ও ফরমাল সুর মধ্যে থাকলেও ম্যাটারিয়াল এবং ডিজাইনের বৈচিত্র্য চোখে পড়ার মতো। এসবের মধ্যে রয়েছে কালো, ছাই ও নীল রং কিংবা খানিকটা কফি বা চকলেট রঙের জুতা।

ফ্যাশন হাউসগুলোর সঙ্গে তাল মিলিয়ে অনেক জুতা কোম্পানি ঈদের জন্য নানা রকম কালেকশন এনেছে শোরুমগুলোতে। জুতার জন্য বিখ্যাত এলিফ্যান্ট রোডের মার্কেট, বসুন্ধরা সিটি, যমুনা ফিউচার পার্ক, নিউ মার্কেট, মালিবাগ, মৌচাক, সদরঘাট এবং গুলিস্তানসহ অন্যান্য এলাকার মার্কেটগুলোতে পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন কোম্পানির জুতা।

জুতা প্রস্তুতকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ঈদ উপলক্ষে ক্রেতাদের জন্য নিয়ে এসেছে জুতার নতুন কালেকশন। পাওয়া যাচ্ছে পাম্প সু, লেডিস স্যান্ডেল, হাইহিল এবং সেমি-হিল ছাড়াও ভেলভেটসহ বিভিন্ন ধরনের কাপড়ের বাহারি স্যান্ডেল। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, বড়দের পোশাকের তুলনায় জুতার দাম তুলনামূলক বেশি। বাচ্চাদের জুতার দাম সবচেয়ে বেশি।

এলিফ্যান্ট রোডের দোকান ‘সাম্পান’-এর কর্ণধার সাহাব উদ্দিন জানান, এবারকার ঈদ বর্ষায় হওয়ায় সব বয়সী মানুষের জুতার রং, ডিজাইন এবং ম্যাটারিয়াল বাছাই করা হয়েছে গরম ও বৃষ্টির বিষয়টি মাথায় রেখে। রঙে রয়েছে বৈচিত্র্য। ছেলেদের নীল ও ছাইরঙা জুতা এবং মেয়েদের পাথর বসানো হিলগুলো বেশি চলছে। এবার কালেকশনও বেশি।

ধানমন্ডি থেকে ঈদের কেনাকাটা করতে আসা কলেজছাত্রী স্বপ্না বলেন, ‘পোশাকের সঙ্গে ম্যাচিং করে জুতা পরতে আমার ভালো লাগে। তাই পোশাকের সঙ্গে ম্যাচিং করে জুতা কিনব।’

মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, দাম একটু বেশি হলেও বড় বড় শপি মল থেকে হাল ফ্যাশনের বিদেশি ব্র্যান্ডের জুতা-স্যান্ডেল কিনছেন মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত শ্রেণির ক্রেতারা। দর-দামের ঝামেলা এড়িয়ে নির্ধারিত মূল্যের দোকানে ভিড় করছেন তারা। সীমিত বাজেট নিয়ে ঈদবাজারে কেনাকাটা করতে আসা নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণির ক্রেতারা দর-দাম করে দেশি বা আমদানিকৃত জুতা-স্যান্ডেল কিনছেন। চীন, থাইল্যান্ড, তাইওয়ান এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা জুতা-স্যান্ডেল বিক্রি হচ্ছে বেশি। আমদানি করা মেয়েদের জুতা-স্যান্ডেলে রয়েছে উজ্জ্বল রং, পুঁতি ও পাথরের কাজ। দাম গড়ে ৫৫০ থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা। বিদেশি ব্র্যান্ডের কেডস-চামড়ার জুতা বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকায়। তবে কিছু কিছু শপিং আউটলেটে একজোড়া জুতা ১৫ হাজার থেকে ৭৫ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

আমদানিকৃত সাধারণ মানের ছেলেদের জুতা-স্যান্ডেল পাওয়া যাচ্ছে ১২০০ থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকায়। ফুটপাতেও বিক্রি হচ্ছে আমদানিকৃত জুতা-স্যান্ডেল। দাম ১৫০ থেকে ৭০০ টাকা। পল্টনের পলওয়েল সুপার মার্কেটে তরুণরা ভিড় করছে সর্বশেষ ডিজাইনের জুতা-স্যান্ডেল কেনার জন্য। হেন ব্র্যান্ড নেই, যা এই মার্কেটে পাওয়া যায় না। এখানে আড়াই হাজার থেকে শুরু করে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত দামের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের জুতা বিক্রি হচ্ছে।

পিডিএসও/হেলাল