জমে উঠেছে খুলনার ঈদবাজার

প্রকাশ : ১৫ জুন ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ১৫ জুন ২০১৭, ১১:১৬

খুলনা প্রতিনিধি

খুলনায় ঈদের বাজার জমে উঠতে শুরু করেছে। ঈদ যত ঘানিয়ে আসছে দোকানগুলোতে ক্রেতা-সাধারণের ভিড় ততই বাড়ছে। বেচা-বিক্রিতে ব্যবসায়ীরাও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। বরাবরের মতো এ বছরও খুলনার মার্কেটে ভারতীয় পোশাকের চাহিদা বেশি। হিন্দি সিনেমা আর সিরিয়ালের নাম অনুসারে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ভারতীয় পোশাকগুলো। ভালো নকশা না থাকায় দেশি পোশাকের চাহিদা কম বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।

এ বছর মেয়েদের জন্য দোকানিরা এনেছেন বাজিরাও মাস্তানি, বাগি ড্রেস, মাসাককালি, সামপুরা, লং কোটি, ওয়াইফাই, ক্যাকটাস, থ্রি ডি, বিভা, বিশাল, লকনা, আশিকি, পাখি, ফ্লোরটাচ, জয়পুরী, মাস্তানিয়া, সুইচ লন, কান্দী ভাঙা, কাশিশ, ভিনয়। তবে গত বছরের কিরণমালা, মধুমালা, মায়াপুরী, পাকিস্তানি লোনসহ বিভিন্ন নামের থ্রি-পিস ও ফোর-পিস পোশাকও ক্রেতাদের আকৃষ্ট করছে। ভারতীয় বিভিন্ন ধরনের এসব থ্রি-পিস দেড় হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।

ছেলেদের কালারফুল শার্ট, চেক শার্ট, এক কালার শার্ট, জিন্স ও গ্যাবার্ডিং প্যান্টের পাশাপাশি বাহারি ডিজাইনের পাঞ্জাবি পছন্দের তালিকায় রয়েছে। সোহরাওয়ার্দী বিপণিবিতানের মো. মোশাররফ হোসেন বুলু বলেন, প্রতিটি পোশাকই ক্রেতাদের আকৃষ্ট করছে। বিক্রি ভালো হওয়ায় প্রতিষ্ঠানের মালিকও সন্তুষ্ট। প্রথম দফায় আনা পোশাক বিক্রি প্রায় শেষ। নিম্নবিত্তদের সুবিধার জন্য ভারতীয় কম দামি পোশাকও রাখা হয়েছে।

কেডিএ নিউমার্কেটের অ্যারোমা শপিং মলের মো. হাসান শেখ বলেন, দেশীয় পোশাকের চেয়ে ভারতীয় পোশাক বেশি পছন্দ করছে মেয়ে ক্রেতারা। কলেজ পড়ুয়া আঞ্জুমান আরা বলেন, ঈদের পোশাকে এক ধরনের প্রতিযোগিতা থাকে। যাতে দামের চেয়েও আকৃষ্ট করার বিষয়টি প্রাধান্য পায়। প্রতিযোগিতার এ স্থানে দেশীয় পোশাক স্থান পাচ্ছে কম। বয়রা থেকে আসা ক্রেতা সুলতানা খাতুন বলেন, ভারতীয় থ্রি-পিসের ডিজাইন ও রং ভালো লাগছে। নিম্নবিত্তদের জন্য দামও আওতার মধ্যে রয়েছে।

হাসান এন্টারপ্রাইজের জাহিদুল হাসান বলেন, একদিনের শিশু থেকে সাত বছরের শিশুদের পোশাক বিক্রি করছেন তিনি। তার দোকানে ৩৫ টাকা থেকে শুরু করে ৩০০ টাকা দামের পোশাক রয়েছে। ঈদ উপলক্ষে বিক্রি বাড়লেও লাভ কম হচ্ছে এবার। পণ্যের দাম গত বছরের চেয়ে একটু বেশি। তবে, গত বছরের দাম ধরে রাখার চেষ্টার কারণে তার দোকানে বিক্রি ভালো হচ্ছে।

বিক্রেতা আবদুস সালাম বলেন, তারা শিশুদের পোশাক বিক্রি করেন। তাদের দোকানে ২৫০ টাকা থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত দামের পোশাক রয়েছে। বেচা-বিক্রিতে তারা সন্তুষ্ট। ঈদের বাজারে শাড়ির প্রতি আকর্ষণ কম। বিভিন্ন শাড়ির দোকানে টাঙ্গাইল শাড়ি ৬০০ টাকা থেকে ১২০০ টাকা, জর্জেট শাড়ি ১২০০ টাকা থেকে তিন হাজার টাকা, সিল্ক শাড়ি দুই হাজার টাকা থেকে সাত হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

পিডিএসও/হেলাল