মার্কেটে ঘর সাজানোর ব্যস্ততা

প্রকাশ : ৩১ মে ২০১৯, ১৫:৫৫

জিয়াউদ্দিন রাজু

কয়েক দিন বাদে ঈদুল ফিতর। মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় এই উৎসবে পোশাক-গহনা-প্রসাধনীর পাশাপাশি বাড়তি চাহিদা সৃষ্টি করে ঘর সাজানোর উপকরণ। তাই প্রাথমিক কেনাকাটা শেষে ঘর রঙিন করে সাজাতে অনেকেই ভিড় জমাচ্ছেন ঘর সাজানোর দোকানগুলোয়।

গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, রমজানের শেষের দিকে পোশাকের দোকানের মতোই গৃহসজ্জার সামগ্রীর দোকানে ক্রেতাদের বেশ ভিড়। এসব দোকানগুলোতে বিক্রি হচ্ছে, ঘর সাজানোর জন্য কাঠ, বাঁশ, বেতের তৈরি নানা অবয়ব, ধাতব ও কাঠ দিয়ে তৈরি রিকশা, সাইকেল, মোটরসাইকেল, গরুর গাড়িসহ বাংলার পরিচয় বহনকারী বিভিন্ন জিনিস।

এছাড়াও শোপিস, বাসন-কোসন ও আলোকসজ্জার আইটেমগুলোও রয়েছে ক্রেতাদের ক্রয় তালিকায়। আছে কাঠের ফ্রেমে কারুকাজ করা আয়না। রয়েছে কাগজের ফুলের সমাহার। ফুল রাখতে রয়েছে রাজকীয় সব ফুলদানি। চাহিদায় সবচেয়ে এগিয়ে বাতির ফ্রেম। এছাড়া এসব দোকানে বিক্রি হচ্ছে নানা রঙ-ঢংয়ের হস্তশিল্প। কোথাও প্রয়োজনের জিনিস পেয়ে খুশি ক্রেতারা, দামে মানেও সন্তুষ্ট, কোথাও আবার বাড়তি দামের অভিযোগ।

ঈদ মানে আনন্দ-আর খুশি। আর এ আনন্দ আরো বাড়িয়ে দেয় ঘরদোর যদি উজ্জ্বল হয়। সেই রঙে ঘর রঙিন করে তুলতে বিছানার চাদর, কুশন কভার, টেবিল ম্যাট, শতরঞ্জি, স্পটলাইটসহ অন্দরসজ্জার বিভিন্ন উপকরণ কিনতে ছুটে আসছেন শৌখিন ক্রেতারা। বিক্রেতারা বলছেন, এবারের ঈদে গৃহসজ্জার আইটেমগুলোর বিক্রি অন্যবারের তুলনায় বেশ ভালো। ঈদের কেনাকাটার শেষ মুহূর্তে এসব পণ্যের কেনাবেচা আরো বাড়বে, এমন প্রত্যাশা বিক্রেতাদের।

রাজধানীর নিউমার্কেট-সংলগ্ন চন্দ্রিমা সুপার মার্কেটের নিচতলায় রয়েছে গৃহস্থালি সজ্জাসামগ্রীর বেশকিছু দোকান। ক্রেতার আনাগোনা বেশ ভালো বলেই জানালেন ব্যবসায়ীরা। তারা জানান, শুধু ঈদ নয় এসব জিনিসের চাহিদা সারা বছর থাকে। ঈদের আগে চাহিদা বাড়ে। আর ক্রেতাদের বেশির ভাগই নারী। কোনো কোনো দোকানে যে পণ্যই কিনুন না কেন একদাম। আবার কোনো দোকানে জিনিস বুঝে দাম। ১০০ থেকে শুরু করে ৫ হাজার টাকার মধ্যে পণ্যর চাহিদা বেশি বলে জানা গেছে।

রাজধানীর নিউমার্কেটের নিচতলার এক বিক্রেতা জানান, দামাদামি না করে এক দামে জিনিস বিক্রি করা ভালো। আমরা বিভিন্ন জায়গায় প্রায় সারা বছর মেলা করি। আমরা জানি ঈদে আসলে নারীরা ঘর সাজাতে কি কি চান সেটা বুঝেই দোকানে জিনিস এনে রেখেছি।

শ্যামলী থেকে ঘর সাজাতে নিশি আক্তার এসেছেন মার্কেটে। তিনি বলেন, ঈদ উপলক্ষে ঘরে অনেক মেহমান আসেন। যারা সারা বছর আসেন না। তাই সাজগোজটাও একটু বেশি। আমরা যেমন সাজি, একইভাবে ঘরের জন্যও কেনা হয়। পাশোষ, দরজা-জানালার পর্দা সব চেঞ্জ। কিছু প্লাস্টিকের ফুল ও ফুলদানি নিয়েছি। ঈদে ঘর সাজাতে কোন কিছুতে কমতি রাখতে চাই না।

পিডিএসও/তাজ