ঈদবাজার

নিউমার্কেটে কেনাকাটার ভিড়

প্রকাশ : ২৭ মে ২০১৯, ০০:০০ | আপডেট : ২৭ মে ২০১৯, ০০:২৮

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঘনিয়ে আসছে ঈদ। আর এই উৎসবে নাড়ির টানে বাড়ি যাবেন অনেকেই। তাই ফেরার আগে কেনাকাটায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন তারা। রমজানের শুরু থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন শপিং মল ও মার্কেটগুলোতে ক্রেতা সমাগম থাকলেও এখন ঈদবাজার বেশ সরগরম। গত শনিবার সকাল থেকেই নতুন পোশাক কিনতে নিউমার্কেটে ও তার আশপাশের মার্কেটগুলোতে ক্রেতাদের ব্যস্ততা চোখে পড়ার মতো। তরুণ-তরুণীসহ সব বয়সি মানুষের পদচারণায় দুপুর ১২টার মধ্যেই মার্কেটগুলো মুখর হয়ে ওঠেছে।

নিউমার্কেটে একই জায়গায় মিলছে নিত্যপ্রয়োজনীয় বাহারি রঙ-বেরঙের পণ্য। ক্রেতারা পরিবার-পরিজন নিয়ে ছুটে আসছেন এখানে। মূল মার্কেটে তিনটি প্রবেশদ্বার ভেতরে লেখালেখির সামগ্রী, ঘড়ি, চশমা, চামড়ার সামগ্রী ও ভ্রমণের উপকরণাদি, মুদি দ্রব্যাদি, অলংকার ও বৈদ্যুতিক দ্রব্যাদি, দর্জি, ফাস্টফুড এবং ছবি তোলা ও প্রসেসিংয়ের দোকান।

বিক্রেতারা বলছেন, রমজানের শেষের দিকে ভিড় কিছুটা বেশি, বিক্রিও হচ্ছে বেশ ভালো। কিছু কিছু সময়ে ক্রেতাদের চাপ এতটাই বেশি থাকে সামাল দিতে বেগ পেতে হয় বিক্রেতাদের। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ বাড়তি দাম হাঁকছেন বিক্রেতারা। ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে বিক্রেতারা ততই বাড়তি দাম চেয়ে বসছে।

নিউমার্কেটের বিভিন্ন দোকান ঘুরে বুঝা যায় ক্রেতাদের মধ্যে নারী ও শিশুদের আধিক্য বেশি। তবে অন্যবারের মতো এবারও নিউমার্কেট ও আশপাশের মার্কেটগুলোতে বেশিরভাগ দোকানে দখল করেছে ভারতীয়, পাকিস্তানি সালোয়ার-কামিজ। এসব পোশাক পাওয়া যাবে ৩ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকার মধ্যে। ছেলেদের ক্ষেত্রেও একই, ভারতীয় শার্ট-পেন্টের দখল করে রেখেছে দোকাগুলো। আরো প্রাধান্য পাচ্ছে থাইল্যান্ড, জাপান ও চীন থেকে আসা সব পণ্য। তবে পুরুষদের পাঞ্জাবিতেও প্রতিবেশী দেশের প্রভাব ছিল চোখে পড়ার মতো।

শাড়ির দোকানে দেখা যায়, ক্রেতার সামনে যে শাড়িগুলো তুলে ধরা হচ্ছে তার প্রায় সবগুলোই ভারতীয় শাড়ি। বাংলাদেশের বেনারসি কিংবা জামদানি শাড়ির সুনাম থাকলেও ঈদের বাজারে ক্রেতারা ঝুঁকছেন বিচিত্র নাম আর বাহারি ডিজাইনের ভারতীয় শাড়ির দিকে। প্রায় প্রতিটি দোকানে হাজার থেকে ১ লাখ টাকা দামের হাজারো নকশার ভারতীয় শাড়ি রয়েছে।

সায়দাবাদ থেকে নিউমার্কেটে আসা গৃহিণী রোকেয়া নামের এক ক্রেতা জানান, বাংলাদেশের থ্রিপিস ও শাড়ির নকশায় বৈচিত্র্য কম। এবার শাড়ির ডিজাইনেও তেমন কোনো নতুনত্ব নেই। তবে বরাবরই দাম বেশ চওড়া।

ক্রেতাদের পছন্দ বিষয়ে এক বিক্রেতা জানান, এবার ঈদের বিভিন্ন কারুকাজ করা সুতি, সিনথেটিক, ভারতীয় জরিসহ লিলেনের মাঝে পাড় লাগানো কাপড় বেশি পছন্দ করছেন ক্রেতারা। এছাড়া রয়েছে পিওর জর্জেট, চিনন জর্জেট, সুইট হার্ট ও মসলিনের মাঝে ছোট চুমকির কাজ করা ভারতীয় কাপড়গুলো বেশ পছন্দ করছেন ক্রেতারা। আবার আছে ছোট ও বড় ফুলের প্রিন্টের চায়না ডিজিটাল লিলেন কাপড়। এসবের দাম প্রতি গজে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা।

তরুণদের জন্য রেডিমেড জিন্স ও গাবার্ডিং কাপড়ের প্যান্ট বেশি চলছে। আর এ জন্য নিউমার্কেটে আছে রেভলন, ক্রাফট ক্যাসলের মতো অত্যাধুনিক সব শোরুম। ঈদ বাজারে তরুণদের জন্য রঙিন পাঞ্জাবি, নানা ধরনের ফরমাল ও ক্যাজুয়াল শার্ট, পোলো শার্ট বিক্রি হচ্ছে। এসব পোশাকের দাম ৫০০ টাকা থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত।

তবে শুধু রাজধানীবাসীই নয় ঢাকার বাইরে থেকেও ক্রেতারা আসছেন নিউমার্কেটে। সাভার থেকে এসেছেন জান্নাতুল সুমা। তিনি জানালেন, প্রতি বছরই নিউমার্কেট থেকে কেনাকাটা করি। সব ধরনের কাপড় এখানে পাওয়া যায়। দামটাও থাকে সাধ্যের মধ্যে।

তবে আরেকটি কারণে সব সময় জমজমাট থাকে নিউমার্কেট। কারণ এর উল্টো দিকেই রয়েছে গাউছিয়া, চাঁদনী চক এবং ধানমন্ডি হকার্স মার্কেট। তাই একই জায়গায় ক্রেতারা অনেক কিছু পান বলেই এত ভিড়।