বিয়েতে কনের শাড়ি

প্রকাশ : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১৭:৫৪

অনলাইন ডেস্ক
ama ami

বাঙালি নারীর প্রিয় পোশাক শাড়ি। নিজেকে ফুটিয়ে তুলতে শাড়ির জুড়ি মেলা ভার। শাড়িতে বাঙালি নারী হয়ে ওঠে অপরূপ ও অনন্য। বিশেষ দিনগুলোয় শাড়ি ছাড়া তাদের একদমই চলে না। বিশেষ দিনের মধ্যে বিয়ে হচ্ছে অন্যতম এক দিন। বিয়ের এ সাজ শাড়ি ছাড়া একেবারেই অসম্পূর্ণ। বিয়ের দিন বলে কেবল কথা নেই। গায়েহলুদ, পানচিনি, মেহেদি সন্ধ্যা থেকে শুরু করে বিয়ে আর বৌ-ভাত শাড়ি ছাড়া একেবারেই অসম্ভব।

পানচিনির শাড়ি : বাঙালি নারীর বিয়ের আমেজ শুরু হয় পানচিনি বা এনগেজমেন্ট থেকেই। এ দিন কনের সাজ খুব সাদাসিধে থাকলেও পরনে থাকে শাড়ি। এ দিনের জন্য মসলিন, শিপন, সিল্কের শাড়ি উপযোগী। হালকা রঙ যেমন গোলাপি, মেজেন্ডা, মেরুল কিংবা লাল, খয়েরি রঙের শাড়ি বেশি চোখে পড়ে। পানচিনির জন্য হালকা ধরনের শাড়ি থাকে সবার পছন্দের তালিকায়।

গায়ে হলুদের শাড়ি :  একটা সময় গায়ে হলুদে কেবল হলুদ রঙের শাড়িই চোখে পড়ত। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রুচি আর রঙের মধ্যে এসেছে পরিবর্তন। হলুদের পাশাপাশি কমলা, সবুজ, বেগুনি, এসব শাড়ি বেশি চোখে পড়ে। তা ছাড়া বিয়ের মৌসুম এ শীতের সময়ে বেশি হওয়াতে কনের পছন্দে থাকে একটু ভারী শাড়ি। সেই ক্ষেত্রে কাঞ্জিভরম, টাঙ্গাইলের কটন কিংবা ইন্ডিয়ান কটন হয়ে থাকে গায়ে হলুদের শাড়ি। তা ছাড়া চেন্নাই সিল্ক আর পার্টি শাড়ি তো আছেই।

বিয়ের শাড়ি : গায়ে হলুদ আর পানচিনির পরই আসে সেই মধুর দিন। বিয়ের দিন। তাই এ দিনে কনে চায় নিজেকে বেশ আলাদাভাবে সাজাতে। আর এতে শাড়ির তুলনা নেই। বিয়ের শাড়ির জন্য কনের পছন্দের তালিকায় থাকে বেনারসি, জাবেদা, জর্জেট, সিল্ক, ভেলভেট, কাঞ্জিভরম আর কাতান। এসব শাড়িজুড়ে থাকে ভারি আর রঙের খেলা! বিয়ের শাড়ির জন্য রঙের দিক থেকে লাল, খয়েরি, জাম, গাঢ় নীল সবার নজর কাড়ে আগে। তবে বিয়ের এ মৌসুমে নীল রঙের বিয়ের শাড়ির প্রতি একটু বেশি ঝুঁকছেন শাড়িপ্রেমীরা।

বৌ-ভাতের শাড়ি :  বৌ-ভাত। এ দিনে একটু ট্রেন্ডি আর হালকা কাজের শাড়ি খুঁজেন সবাই। সেই ক্ষেত্রে বুটিকের শাড়ি, কৈ-মটোর, পার্টি শাড়ি (দিল্লি বুটিক) অন্যতম। কৈ-মটোর শাড়ি মূলত কাতান শাড়ির অন্তর্ভুক্ত। তবে শাড়ির সঙ্গে লেহেঙ্গা আর গাউনের প্রতি অনেকের আকর্ষণ আছে। শাড়ির পাশাপাশি অনেকেই এ লেহেঙ্গা ছাড়া বিয়ের কথা চিন্তাই করতে পারে না। যার মধ্যে দিল্লির বেনারাসের, হায়দারাবাদ আর সঙ্গে বোম্বের লেহেঙ্গা উল্লেখযোগ্য। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শাড়ির সঙ্গে অন্য অনেক কিছু যোগ হলেও সেই লাল টুকটুকে শাড়িতে বৌকে দেখার ইচ্ছা আর বৌ সাজার ইচ্ছা থাকে সব নারীর মনে সুপ্তভাবে মনের গহিনের গুপ্ত কোনো কোণে।

কোথায় পাবেন : যমুনা ফিউচার পার্ক, নিউমার্কেট, মিরপুর, মৌচাকসহ আপনার আশপাশের শাড়ির দোকানে আপনি আপনার পছন্দের শাড়ি পেয়ে যাবেন

দামদর : চেন্নাই সিল্কের দাম পড়বে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা; কটনের (টাঙ্গাইল) দাম পড়বে ২৫ থকে ২৮ হাজার টাকা; আর ইন্ডিয়ান কটনের দাম পড়বে ৩৫ হাজার টাকা। কাঞ্জিভরমের দাম পড়বে ১৫ থেকে ২২ হাজার টাকা। অন্যদিকে পার্টি শাড়ির দাম পড়বে ২৫ থেকে ৬০ হাজার টাকা। বেনারসির দাম পড়বে ৬ থেকে ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা। জর্জেটের দাম পড়বে ১০ থেকে ৩০ হাজার টাকা। ভেলভেটের শাড়ির জন্য গুনতে হবে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। আর লেহেঙ্গার দাম পড়বে ৬ থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। কৈ-মটোরের দাম পড়বে ৪০ থেকে ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত।

"পিডিএসও/তাজ