ত্বকের সার্জারি ও চিকিৎসা

প্রকাশ : ১১ জানুয়ারি ২০১৮, ১৫:৫৪

ডা. সাব্বির মুহাম্মদ শাওকাত

ত্বক মানবদেহের এক অপরিহার্য অংশ। একে মানবদেহের আবর্তন এবং পোশাকও বলা চলে। শরীরে এ ত্বক কোমল, মসৃণ, তৈলাক্ত ও লাবণ্যময় থাকার কারণে যেমন সৌন্দর্যের কারণ, তেমনি এতে রয়েছে অনেক রোগ। ত্বকের এ রোগকেই চর্মরোগ বলে। সাধারণ ত্বকে যেসব রোগ দেখা যায়, তার মধ্যে মেছতা, ব্রণ, একজিমা, ছোট ছোট টিউমার, তিল, আঁচিল, শ্বেতি রোগ, অতিরিক্ত ঘামাচি, অবাঞ্ছিত লোম ইত্যাদি রয়েছে।

এসবের মধ্যে কিছু কিছু রোগ আবার সাধারণ বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের ব্যবস্থাপত্রের মাধ্যমে নিরাময় হয়। আবার কিছু কিছু ত্বকজনিত সমস্যায় ত্বকের সার্জারি করতে হয় বা আধুনিক চিকিৎসা করতে হয়। ত্বকের শল্য চিকিৎসার নাম ডার্মাটোরি সার্জারি।

ডার্মাটোরি সার্জারি কি : 

ত্বকে বিভিন্ন সমস্যার জন্য ব্যথামুক্ত ও দাগবিহীন প্রযুক্তিতে নানা ধরনের ডার্মাটোরি সার্জারি করা হয়। এছাড়া ছোট ছোট টিউমার, তিল, আঁচিল, ফ্রেকলস ইত্যাদি চিকিৎসার জন্য ইলেকট্রো সার্জারি করা হয়। চোখের পাতায় চর্বি জমাকে বলা হয় জ্যানথেলেসমা। চোখের পাতায় জমা চর্বিকে কেমিক্যাল কটারির মাধ্যমে তুলে দেওয়া হয়। সাধারণত সন্তান জন্মানোর পর অত্যধিক পরিমাণে জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি খাওয়ার ফলে মেছতা দেখা দেয়। মেছতার জন্য সাধারণ মলম বেশি প্রযোজ্য।

অন্যদিকে ব্রণের দাগ, ব্রণের গর্ত, লোমকুপের ছিদ্র বড় হয়ে যাওয়া বা হালকা বলিরেখা পড়া দূর করার জন্য কেমিক্যাল পিলিংয়ের পরামর্শ দেওয়া হয়। এ দ্বারা সর্বাধুনিক মাইক্রোডার্মাব্রেশনের চিকিৎসা কার্যকরী বলে প্রমাণিত হয়েছে। যেসব মহিলার মুখে লোম আধিক্য থাকে, তাদের ইলেকট্রোলাইসিস পদ্ধতিতে সারানো হয়। শ্বেতি রোগের জন্য প্রথমত ওষুধ দেওয়া হয়। প্রথমে শ্বেতি যদি পুরোটা না সারে তা যাতে আর বাড়তে না পারে তার চেষ্টা করা হয়। তবে শ্বেতি রোগীদের জন্য সুখবর হলো এ রোগটির জন্য রয়েছে আধুনিক সার্জিক্যাল চিকিৎসা।

লেখক : কনসালট্যান্ট ও কসমেটিক সার্জন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা

পিডিএসও/তাজ