পলিথিন বর্জ্যে আটকে যাচ্ছে ড্রেন-খাল

প্রকাশ : ০৯ আগস্ট ২০১৭, ১২:০৬

নিজস্ব প্রতিবেদক

অপচনশীল পলিথিন বর্জ্যে ভরাট হচ্ছে রাজধানীর ড্রেন ও খাল। এতে অল্প বৃষ্টিতে বড় জলাবদ্ধতার মধ্যে পড়ছেন নগরবাসী। এর কারণ হিসেবে সিটি করপোরেশনের নাজুক বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে দায়ী করছেন পরিবেশবিদরা। জবাবে স্থান-সংকটে পর্যাপ্ত সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন দুই ডিসিসির কর্মকর্তারা।

জানা যায়, ২০০৬ সালে আইন করে নিষিদ্ধের পরও পুরান ঢাকার লালবাগ, চকবাজার, সোয়ারীঘাট ও কামরাঙ্গীরচরের কয়েক হাজার কারখানায় এখনো চলছে উৎপাদন। আর এসব পলিথিনের ব্যাগ-প্যাকেটই আসছে পাইকারি ও খুচরা বাজারে। ব্যবহার করছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা। ফেলছেন যেখানে-সেখানে। অথচ এসব পলিথিনের বর্জ্য আকারে যাওয়ার কথা সিটি করপোরেশনের সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশনে। তবে রাজধানীতে এর সংখ্যা মাত্র ৯৫টি। এ কারণে বিভিন্ন সড়কে অন্তত ২০০ ময়লার কনটেইনারকে এসটিএস হিসেবে ব্যবহার করছে সিটি করপোরেশন। এখানে বর্জ্য আনার পথে, এমনকি ল্যান্ডফিল্ডে নেওয়ার পথেও এসব পলিথিন ছড়িয়ে পড়ছে শহরে। এতে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি ড্রেনেজ ব্যবস্থায় দেখা দিচ্ছে বিপর্যয়। ভরাট হচ্ছে খাল। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কে জমছে পানি। পলিথিন পচনশীল নয় বলে বর্জ্য হিসেবে এসব যাতে ড্রেনে না যেতে পারে যে জন্য সিটি করপোরেশনকে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে বলছেন পরিবেশবিদরা।

দুই সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, সড়কে কনটেইনারের সংখ্যা কমিয়ে বাড়ানো হচ্ছে সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন। এরমধ্য দিয়েই বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনতে চায় তারা। পাশাপাশি নগরবাসীকে পলিথিন বর্জ্য যেখানে সেখানে নয়, নির্ধারিত স্থানে ফেলতে বলছেন সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা।

২০০২ সালের ১ জানুয়ারি ঢাকায় এবং ৩১ মার্চ দেশব্যাপী ২০ মাইক্রোনের চেয়ে পাতলা পলিথিন ব্যাগ উৎপাদন, বাজারজাতকরণ, মজুদ ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়। পরিবেশ সংরক্ষণ আইন (সংশোধিত) ২০০২-এ এই ব্যাগ উৎপাদন করলে ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও অনধিক ১০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। বাজারজাত করলে ৬ মাসের কারাদ- এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানার বিধানও রয়েছে। নিষেধাজ্ঞা, আইন, শাস্তির বিধান—কিছুতেই যেন কিছু হচ্ছে না। বিএনপির আমলে যখন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা ও আইন-বিধান করা হয় তখন গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ ও কঠোরতার কারণে আশাব্যঞ্জক সুফল পাওয়া যায়। অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে যায় এবং পলিথিনের বিভিন্নমুখী ব্যবহারও হ্রাস পায়। কিন্তু এ অবস্থা পরে আর ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে পলিথিন ব্যাগ উৎপাদন ও ব্যবহার ব্যাপকভাবে বেড়েছে। আগে চুরি-চামারি করে বা গোপনে ব্যাগ উৎপাদিত হলেও এখন আর তার প্রয়োজন নেই। এখন প্রকাশ্যেই তৈরি, বাজারজাত ও ব্যবহৃত হচ্ছে।

এ সম্পর্কে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের চেয়ারম্যান আবু নাসের খান বলেন, প্রতিটি ঘরে পলিথিন ব্যবহার হয়। বাজারে প্রচুর পরিমাণ পলিথিন ব্যবহার হচ্ছে। এগুলো বন্ধের ব্যবস্থা সরকারকে দ্রুত নিতে হবে।’ পলিথিন জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য ভয়ানক হুমকি জানিয়ে পরিবেশবিদরা বলছেন, নিষিদ্ধ করাই এ সংকটের একমাত্র সমাধান নয়, দরকার জরুরি ভিত্তিতে পুনর্ব্যবহারের উদ্যোগ। এ সম্পর্কে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের চেয়ারম্যান হাফিজা খাতুন বলেন, পলিথিন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান, ব্যবহারকারী এবং যারা পলিথিন বাজারজাত করছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।’

পলিথিন বন্ধে পরিবেশ অধিদফতরের ভূমিকা নিয়ে পরিবেশবিদরা প্রশ্ন তুললেও, কথা বলতে নারাজ সংস্থাটি। তবে বন ও পরিবেশমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর দাবি, পলিথিনের ব্যবহার কমছে। কিন্তু এর পুনর্ব্যবহার প্রশ্নে কিছু বলছেন না তিনি। পাশাপাশি পলিথিনের ব্যবহার বন্ধে জনসচেতনতায় জোর দিয়েছেন পরিবেশমন্ত্রী।

পিডিএসও/হেলাল​