নতুন প্রাকৃতিক দুর্যোগ ‘ঝড়োকম্প’

প্রকাশ : ১৯ অক্টোবর ২০১৯, ১৩:১৫

প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের তালিকায় যোগ হলো নতুন এক সদস্য। বিজ্ঞানীরা এর নাম দিয়েছেন ‘ঝড়োকম্প’ (স্টর্মকোয়্যাক)।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ে একদল গবেষক নতুন এই দুর্যোগের সন্ধান পেয়েছেন। অবশ্য, প্রাথমিক অবস্থায় এটিকে বড় কোনো হুমকি বলে মনে করছেন না তারা।

সমুদ্রপৃষ্ঠে নিম্ন বায়ুচাপের কারণে সৃষ্ট প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রে থাকে প্রচন্ড গতিবেগ। অর্থাৎ টাইফুন বা সাইক্লোনের মতো যেকোনো সমুদ্রসৃষ্ট দুর্যোগের কেন্দ্রে থাকে প্রচন্ড শক্তির উৎস। এটি সমুদ্রের তলদেশ থেকে শুরু করে ভূপৃষ্ঠের অনেকটা জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে। দখল করে সমুদ্রের উপরিভাগের বায়ুমন্ডলের কিছু জায়গাও। তাই সাইক্লোনের স্যাটেলাইট ছবিতে অনেক সময় সমুদ্রপৃষ্ঠে থেকে ঝরণা ধারার মতো পানি ছড়িয়ে পড়তে দেখা যায়।

শক্তিশালী ঝড়ের কারণে সমুদ্রের তলদেশও আন্দোলিত হয়। ভূমিকম্পে ভূপৃষ্ঠ যেভাবে কাঁপতে থাকে, ঠিক সেভাবেই কম্পন সৃষ্টি হয় সাগরের তলদেশেও। সিসমোমিটারেও এর সংকেত পাওয়া যায় বলে জানিয়েছেন ফ্লোরিডার গবেষকেরা। এরই মধ্যে এ প্রক্রিয়ায় ৩ দশমিক ৫ মাত্রার ভূকম্পন নির্ণয় করা গেছে। এটিই তাদের সংকেতে পাওয়া সর্বোচ্চ কম্পনমাত্রা হওয়ায় এই দুর্যোগকে এখনো শঙ্কাজনক বলা হয়নি।

বিজ্ঞানবিষয়ক একটি জার্নালের প্রতিবেদনে গবেষক ওয়েনিউয়ান ফ্যান বলেন, এই কম্পনের মাত্রা এতটাই মৃদু যে, মানুষ তা বুঝতেও পারে না। তবে অনেক সময় সমুদ্র উপকূলে ভূমিকম্প হওয়ার পর সুনামির শঙ্কা থাকায় এই কম্পনকে ছোট করে দেখাও উচিত নয়। যদিও এখনই আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন আছে বলে মনে করছেন না এই বিজ্ঞানী।

যেহেতু সমুদ্রের তলদেশে কম্পন এক জায়গায় না থেকে ছড়িয়ে পড়ে, তাই সমুদ্রে ভেসে থাকা জাহাজে এই ঢেউ আঘাত হানলে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এছাড়া নতুন এই আবিষ্কার নিয়ে আরো বিস্তর গবেষণার প্রয়োজন আছে বলে জানিয়েছেন ওয়েনিউয়ান ফ্যান।

পিডিএসও/তাজ