রাজধানীতে সচেতনতার লক্ষ্যে জীবপ্রযুক্তি মেলা

প্রকাশ | ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৯:১৩

মাজহারুল ইসলাম রবিন, ঢাবি প্রতিনিধি

‘জাতীয় জীবপ্রযুক্তি মেলা ২০১৮’। উদ্দেশ্য- জীবপ্রযুক্তি বিষয়ক শিক্ষা, গবেষণা ও জীবপ্রযুক্তি ভিত্তিক ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং জীবপ্রযুক্তি বিষয়ে জনসচেতনতা গড়ে তোলা। ‘উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় জীবপ্রযুক্তি’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে দেশে প্রথমবারের মতো শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী এ মেলা।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটারে (বিজয় সরণি) আয়োজন করা হয় এ মেলা। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং জীবপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে দেশে একমাত্র বিশেষায়িত গবেষণা প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বায়োটেকনোলজি (এনআইবি) এর ব্যবস্থাপনায় মেলাটি শুরু হয় শুক্রবার। শনিবার এর শেষদিন।

মেলায় অংশগ্রহণকারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োটেকনোলজি এন্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল জুবায়ের বলেন, বায়োটেকনোলজির ধারণাটি ‘রুট লেভেল’ পর্যন্ত পৌঁছে দেয়াই জীব প্রযুক্তি মেলার উদ্দেশ্য। আমরা বায়োটেক প্রোডাক্ট খাচ্ছি ঠিকই, কিন্তু এ বিষয়ে কিছুই জানি না। এসব বিষয় মানুষের মধ্যে ‘পুশ আপ’ করে সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে পরবর্তীতে ভালো কিছু অর্জন করাই আমাদের লক্ষ্য।

মেলায় বাংলাদেশের ২৪টি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১২০০ শিক্ষার্থীসহ জীবপ্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট গবেষণা প্রতিষ্ঠান, স্কুল-কলেজ, শিল্প, ব্যবসা ও সেবা প্রতিষ্ঠান, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং স্বশিক্ষিত গবেষকগণ ৭০টি স্টলে তাদের কার্যক্রম প্রদর্শন করছেন। প্রদর্শনীগুলোর মধ্যে ছিলো- উন্নত প্রজাতির ধান, শাক-সবজি, পাট, বিভিন্ন প্রজাতির মাছ এবং এসব চাষের বিভিন্ন পদ্ধতি, চিকিৎসার জন্য ছিলো বিভিন্ন ডিজিটাল যন্ত্র প্রভৃতি। তবে এর বেশিরভাগই ছিলো কৃষি ভিত্তিক। এদিকে দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে মেলার দুই প্রান্তে ছিলো দুটি তথ্যকেন্দ্র। এছাড়া জরুরি চিকিৎসা সহায়তা দেয়ার জন্য ছিলো একটি চিকিৎসা কেন্দ্র।

মেলা দেখতে আসা কামারুল ইসলাম রাশেদ প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, জীবপ্রযুক্তি মেলা দেখলাম সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমধর্মী। এখানে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ও প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম, উদ্ভাবন প্রদর্শন করা হচ্ছে। মেলায় এসে অনেক অজানা বিষয় সম্পর্কে অবগত হলাম। আমার মনে হয়, প্রত্যেকেরই এরকম উদ্ভাবনী ও ব্যতিক্রমধর্মী মেলা দেখতে আসা উচিত। এতে অনেককিছু জানার পাশাপাশি সচেতনতাও সৃষ্টি হবে।

স্টলগুলোর একটিতে ছিলো চৌবাচ্চায় মাছ চাষের প্রদর্শনী। এটি বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের স্টল। সেখানে পুকুরের বিকল্প হিসেবে চৌবাচ্চায় মাছ চাষের বিভিন্ন দিক ও সুবিধাদি প্রদর্শন করা হয়। এ বিষয়ে বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের প্রিন্সিপাল সায়েন্টিফিক অফিসার রেজাউল করিম বলেন, এদেশের পুকুরে প্রতি ঘনফুটে ১০০টির বেশি মাছ চাষ করা যায় না। ফলে পুকুরে খুব বেশি মাছ উৎপাদন করা সম্ভব হয় না। এছাড়াও এদেশে পুকুরের জন্য জমির রয়েছে তীব্র সংকট। পুকুরগুলোও ভরাট হয়ে যাচ্ছে। তাই চৌবাচ্চায় মাছ চাষ করলে জায়গাও বাঁচে এর সাথে মাছের উৎপাদনও বেশি হয়।

জীবপ্রযুক্তি মেলার প্রথম দিনের সকাল থেকেই দর্শনার্থীরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটারে ভিড় জমাতে শুরু করেন। সকাল ৯টায় ওই স্থান থেকে একটি র‌্যালী বের হয়। র‌্যালীতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে মেলায় অংশগ্রহণকারী ও দর্শনার্থীরা অংশ নেন। র‌্যালী শেষে শুরু হয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এর উদ্বোধন করেন।

উদ্বোধনী বক্তৃতায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান বলেন, বর্তমান সরকারের রূপকল্প অনুযায়ী ২০৪১ সালের মধ্যে এদেশকে উন্নত দেশে পরিণত করতে হলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির গবেষণা, উন্নয়ন এবং জীবপ্রযুক্তির গবেষণা বাড়াতে হবে। কৃষি, চিকিৎসা, শিল্প ক্ষেত্রের উন্নয়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় জীবপ্রযুক্তিকে কাজে লাগাতে হবে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন এবং রূপকল্প ২০২১ ও রূপকল্প ২০৪১ বাস্তবায়নের মাধ্যমে উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণে জীবপ্রযুক্তিবিদদের সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুল্বাহ আল মোহসীন চৌধুরী, শিল্প মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. আবদুল হালিম এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. নাসিরুজ্জামান। বাংলাদেশ জীবপ্রযুক্তির বর্তমান অবস্থা, সম্ভাবনা এবং চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বায়োটেকনোলজির মহাপরিচালক ড. মো. সলিমুল্লাহ।

দুদিনব্যাপী এ মেলার অন্যান্য কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে জীবপ্রযুক্তির জনপ্রিয় বিষয়ে উপস্থাপনা, গোলটেবিল বৈঠক (বাংলাদেশে জীবপ্রযুক্তি গবেষণা: চ্যালেঞ্জ ও করণীয়; জীবপ্রযুক্তি শিক্ষা, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান: সম্ভাবনা ও করণীয়), পোস্টার প্রেজেন্টেশন প্রতিযোগিতা (গবেষণা ও জনসচেতনতামূলক), বায়োটেকনোলজি বিজনেস আইডিয়া প্রতিযোগিতা, গবেষণা থিসিস ৩ মিনিটে উপস্থাপন প্রতিযোগিতা, কুইজ প্রতিযোগিতা, বায়োইনফরমেটিক্স প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

পিডিএসও/এআই