পরিচ্ছন্নতায় রেকর্ড গড়তে ব্যাপক প্রস্তুতি ডিএসসিসির

প্রকাশ : ১২ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১২ এপ্রিল ২০১৮, ১৫:০৯

হাসান ইমন

চৈত্রসংক্রান্তির দিনে প্রতীকী কর্মসূচি হিসেবে পরিচ্ছন্নতায় বিশ্বরেকর্ড গড়তে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। মেয়র সাঈদ খোকন এ কর্মসূচি সফল করতে কাউন্সিলরদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। লোক সমাগম নিশ্চিত করতে তাদের আহ্বান জানানো হয়েছে। একই আহ্বান জানানো হয়েছে রাজনৈতিক, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষকে। এরই মধ্যে সংস্থাটি পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম কিনেছেন। সামাজিক যোগাযোগ-মাধ্যমসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম নিয়ে প্রচারণা চলছে।

ডিএসসিসি সূত্র জানিয়েছে, আগামী ১৩ এপ্রিল সকালে প্রতীকী এ পরিচ্ছন্ন কার্যক্রমটি নগর ভবনের সামনে থেকে বা গুলিস্তানের গোলাপশাহ মাজার এলাকা হয়ে পল্টন গিয়ে শেষ হবে। সেখানে ডিএসসিসি মেয়র, কাউন্সিলরসহ বিনোদন ও ক্রীড়া জগতের তারকারা উপস্থিত থাকবেন। ‘ডেটল পরিচ্ছন্ন ঢাকা’ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা রাস্তা ঝাড়– দিয়ে পরিষ্কার করবেন। সেখানে ১৫ হাজার পরিচ্ছন্নতা কর্মীর পাশাপাশি তারকা ব্যক্তিত্বসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করবেন। আগামীকাল ১৩ এপ্রিল সকাল ৭টায় অংশগ্রহণকারীদের নিবন্ধন শুরু হবে এবং ক্যাম্পেইনের জন্য অংশগ্রহণকারীরা নগর ভবনে একত্রিত হবেন। সেখান থেকে মেয়র সাঈদ খোকনের নেতৃত্বে গোলাপশাহ মাজার এবং পরে মুক্তাঙ্গন হয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এসে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শেষ হবে। এই ক্যাম্পেইনের উদ্দেশ্য গিনেজ বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে জায়গা করে নেওয়া।

শুধু ব্যক্তি জীবনসহ বৃহৎ পরিসরে পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতেই বিশ্ব রেকর্ড গড়ার এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এই সামাজিক পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে গণসচেতনতা বৃদ্ধি করার জন্যই ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এবং ডেটল এই কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এরই মধ্যে চিত্রনায়ক রিয়াজকে দিয়ে একটি ভিডিও চিত্র নির্মাণ করা হয়েছে, যা নগরবাসীকে পরিচ্ছন্ন কাজে উৎসাহিত করছে।

এ ব্যাপারে নাট্যব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদ বলেন, এই নগরকে শুধু ভালোবাসলেই হবে না, এর যে নৈস্বর্গ রয়েছে, যতটুকু প্রকৃতি আছে, তার সবকিছুই আমরা রক্ষা করব। ‘মন সুন্দর যার, সে রাখে দেশ পরিষ্কারÑ খুব সুন্দর কথা। ভালো থাকতে হলে শহরের পরিবেশ সুন্দর রাখতে হবে।’ আগামীকাল ১৩ এপ্রিলের কর্মসূচিতে সবাইকে অংশগ্রহণের অনুরোধ করেছেন চিত্রনায়ক ফারুক। সংগীত শিল্পী রফিকুল আলম এ ব্যাপারে বলেন, ‘শহর পরিচ্ছন্নতার দায়িত্ব শুধু সিটি করপোরেশনের নয়, আমাদেরও। আসুন সবাই মিলে শহরটাকে সুন্দর রাখার চেষ্টা করি।’ অভিনেত্রী ভাবনা বলেন, ‘আমাদের ছোট ঘরটা কত যতœ নিয়ে সাজাতে চাই আমরা। তাহলে আমাদের দেশটাকে কেন সাজাতে চাইব না। আমরা তো এই দেশের মেহমান না। আসুন আমরা সবাই মিলে এই দেশ এই শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখি এবং ১৩ এপ্রিল যোগ দেই পরিচ্ছন্নতা র‌্যালিতে।’

টিভি উপস্থাপিকা মারিয়া নূর ১৩ এপ্রিল থাকবেন পরিচ্ছন্নতা অভিযানে। তিনি সবাইকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন র‌্যালিতে অংশ নেয়ার এবং বিশ্বরেকর্ডে নাম লেখাতে সহযোগিতা করার।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ডিএসসিসির প্রতিটি ওয়ার্ড কাউন্সিলররা ব্যাপক লোক সমাগমের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন। এছাড়া সর্বস্তরের জনগণকে সম্পৃক্ত করতে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে কাউন্সিলররা ব্যক্তিগতভাবে বিপুলসংখ্যক নিজস্ব নেতাকর্মীদের উপস্থিত করতে কাজ করছেন। আর করপোরেশনের পক্ষ থেকে নিজস্ব পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেবেন। এর বাইরে সুশীল সমাজ, রাজনৈতিক নেতৃত্ব, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব এবং বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনকে সম্পৃক্ত করতে যোগাযোগ করা হচ্ছে। প্রচারাণও শুরু হয়েছে।

ডিএসসিসির কর্মকর্তাদের ভাষ্য, কিছুদিন আগে ভারতের একটি শহরে ৫ হাজার ৩০০ লোক একত্রে শহর পরিচ্ছন্ন কাজে অংশ নিয়ে গ্রিনিজ বুকে নাম লেখায়। এটি টপকে একত্রে ১৫ হাজার মানুষ নিয়ে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করতে চান তারা।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সংস্থাটির সচিব মো. শাহাবুদ্দিন খান বলেন, সিটি করপোরেশনের মূল কাজ হলো নগর পরিচ্ছন্ন রাখা। যা করপোরেশনের একার পক্ষে সম্ভব নয়। নগরবাসী নিজ নিজ বাড়ির আঙিনা পরিচ্ছন্ন রাখলে নিজেরা সুস্থ থাকবেন, নগরীর সৌন্দর্যও বৃদ্ধি পাবে। যার যার জায়গা থেকে সচেতন না হলে নগরী পরিচ্ছন্ন রাখা প্রায় অসম্ভব। তাই নগরবাসীকে সচেতন করে পরিচ্ছন্ন নগরীতে এবারের পহেলা বৈশাখ উদ্যাপন করতে চান তারা। পাশাপাশি ১৫ হাজারের বেশি লোক নিয়ে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করলে একদিকে জনসচেতনতা বৃদ্ধি পাবে অন্যদিকে গ্রিনিজ বুকেও নাম লেখানো হবে বলে জনান তিনি।

এসব বিষয়ে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ বিলাল বলেন, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের জন্য এরই মধ্যে আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছি। রাজনৈতিক, সুশীল সমাজের ব্যক্তিবর্গ, গণমাধ্যম ব্যক্তি ও বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিদের দাওয়াত দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তার জন্য ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) সার্বক্ষণিক নজরদারিতে থাকবেন এবং সব ধরনের সহযোগিতা করবেন।

প্রসঙ্গত, গত কয়েক বছর ধরে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে পরিচ্ছন্ন নগরী গড়তে নানা পদক্ষেপ নেয়া হলেও সুফল পাওয়া যায়নি। ২০১৬ সালের ‘পরিচ্ছন্ন বছর’, ২০১৭ সালের ‘স্মার্ট সিটি বর্ষ’, ভালোবাসা দিবসে ‘লাভ ফর ঢাকা’ ২০১৮ সালের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ‘স্বচ্ছ ঢাকা’ কর্মসূচি পালন করেছে সংস্থাটি।

পিডিএসও/মুস্তাফিজ

"