চিরসবুজ নায়ক জাফর ইকবাল

প্রকাশ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১০:৪৪ | আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১১:৩২

অনলাইন ডেস্ক

সত্তরের দশকের মাঝামাঝি সময়ের সাড়া জাগানো নায়ক জাফর ইকবাল। বাংলা চলচ্চিত্রের স্টাইলিশ নায়কদের মধ্যে অন্যতম তিনি। চিরসবুজ নায়ক হিসেবেও বেশ পরিচিত। অভিনয়ের পাশাপাশি ছিলেন একজন গিটারিস্ট ও সংগীতশিল্পী। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণ করেন। আজ সেই নায়ক, গায়ক, গিটারিস্ট ও মুক্তিযোদ্ধার জন্মদিন। ১৯৫০ সালের এই দিনে ঢাকায় জন্মেছিলেন। তার বড় ভাই আনোয়ার পারভেজ ও ছোট বোন শাহনাজ রহমতুল্লাহ দুজনেই সংগীতশিল্পী।

বাংলাদেশের মৃক্তিযুদ্ধের আগেই জাফর ইকবাল জলচ্চিত্র জগতে পা রাখেন। তার অভিনীত প্রথম ছবি আপন পর। এতে জাফর ইকবালের নায়িকার চরিত্রে অভিনয় করেন কবরী সারোয়ার। তবে নায়িকা ববিতার সঙ্গে তার জুটি ছিল দর্শক নন্দিত। ৩০টির মত ছবিতে একসঙ্গে জুটি বেধে অভিনয় করেছেন জাফর ইকবাল ও ববিতা। এ জুটির বাস্তব জীবনে প্রেম ছিল বলেও গুজব ছড়িয়েছিল সেসময়। ১৯৮৯ সালে জাফর ইকবাল অভিনীত ত্রিভূজ প্রেমের ছবি অবুঝ হৃদয় দারুণ ব্যবসাসফল হয়। এ ছবিতে চম্পা ও ববিতার বিপরীতে তার অভিনয় দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা অর্জন করে। সব মিলিয়ে ক্যারিয়ারে প্রায় ১৫০টি ছবি করেন প্রয়াত এ নায়ক। যার বেশিরভাগই ছিল ব্যবসাসফল।

শহুরে রোমান্টিক ও রাগী তরুণের ভূমিকায় দারুণ মানালেও সব ধরণের চরিত্রেই ছিল জাফর ইকবালের স্বাচ্ছন্দ বিচরণ। ১৯৭৫ সালে মাস্তান ছবিতে নায়কের ভূমিকায় অভিনয় তাকে সে প্রজন্মের প্রতিনিধিত্বকারী নায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠা দেয়। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে রাগী, রোমান্টিক, জীবন যন্ত্রণায় পীড়িত কিংবা হতাশা থেকে বিপথগামী তরুণের চরিত্রে তিনি ছিলেন পরিচালক ও প্রযোজকদের প্রথম পছন্দ।

অভিনয়ের পাশাপাশি বাস্তব জীবনে চমৎকার গানও গাইতে পারতেন জাফর ইকবাল। যার কারণে বেশকিছু ছবিতে তিনি গায়ক চরিত্রে অভিনয় করেছেন। ১৯৬৬ সালে তিনি প্রথম একটি ব্যান্ড দল গড়ে তোলেন। তার প্রথম সিনেমায় গাওয়া গান ছিল পিচ ঢালা পথ।  ১৯৮৪ সালে জাফর ইকবালের কণ্ঠে আনোয়ার পারভেজের সুরে রাজ্জাক অভিনীত বদনাম ছবিতে হয় যদি বদনাম হোক আরো গানটি একসময় ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। মূলত তিনি ছিলেন নামকরা গিটারিস্ট। ভালো গিটার বাজাতেন বলে সুরকার আলাউদ্দিন আলী তাকে দিয়ে অনেক ছবির আবহসংগীতও তৈরি করিয়েছিলেন।

পারিবারিক জীবনে দুই সন্তানের জনক ছিলেন জাফর ইকবাল। তার স্ত্রীর নাম সনিয়া। অভিনয় ও সংগীত দিয়ে চলচ্চিত্র জগতে আলো ছড়ালেও সেই আলোর রেশ ছিল না পরিবারে। পারিবারিক অশান্তির কারণে একসময় খুব ভেঙে পড়েন নায়ক। মদ হয়ে যায় তার নিত্যসঙ্গী। এই মদ আর নিয়ন্ত্রণহীন জীবনযাপনের কারণেই একসময় ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে পড়েন। দেখা দেয় হার্টের সমস্যা। নষ্ট হয়ে যায় দুটি কিডনিই। নানা জটিল রোগে জর্জরিত নায়ক জাফর ইকবাল ১৯৯২ সালের ২৭ এপ্রিল মাত্র ৪১ বছর বয়সে পরপারের টিকিট কেটে চলে যান আপন ঠিকানায়।

পিডিএসও/হেলাল