শিল্পী-প্রদর্শকদের একসঙ্গে চলার অঙ্গিকার

প্রকাশ : ১৩ আগস্ট ২০১৭, ১৮:০২

অনলাইন ডেস্ক

অবশেষে সব মান-অভিমান ভেঙ্গে একসঙ্গে চলার অঙ্গিকার করল বাংলাদেশ চলচ্চিত্রের সব শিল্পী ও প্রদর্শকরা। গত মধ্যরাতে সংসদ সদস্য (এমপি) ফিরোজ রশীদের ধানমন্ডির বাসায় ফুল দেওয়া নেওয়ার মধ্যদিয়ে প্রদর্শক সমিতির সঙ্গে চলচ্চিত্র পরিবারের সদস্যদের দ্বন্দ্বের অবসান ঘটে। প্রদর্শক সমিতির নেতারা এখন ঘোষিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সভাপতি ও সেন্সর বোর্ডের সদস্য ইফতেখার উদ্দিন নওশাদের ওপর হামলার ঘটনায় প্রদর্শক সমিতি গত কয়েক দিন আগে সিদ্ধান্ত নেয়, চলচ্চিত্র পরিবারের বেশ কয়েকজন শিল্পী, পরিচালক ও প্রযোজকের ছবি প্রদর্শন করবে না।
এমন পরিস্থিতিতে ১২ আগস্ট রাতে উভয় পক্ষ ঘরোয়া বৈঠকে বসে এমপি কাজী ফিরোজ রশীদের বাসায়। তার ছেলে প্রদর্শক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কাজী শোয়েব রশীদ বলেন, আব্বা ফারুক আঙ্কেলকে (চিত্রনায়ক ফারুক) ফোন দিয়ে বিষয়টির সমাধানের আহ্বান জানান। চলচ্চিত্র পরিবারের সদস্যরা এতে সাড়া দেন। এখানে ১৮টি সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত চলচ্চিত্র পরিবারের আহ্বায়ক অভিনেতা ফারুক ও সদস্যরা এবং চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির নেতারা এক বৈঠকে বসেন। সেখানে প্রদর্শক সমিতির সঙ্গে চলচ্চিত্র পরিবারের সদস্যদের মধ্যেকার দ্বন্দ্বের অবসান হয়।
প্রসঙ্গত যৌথ প্রযোজনার সিনেমায় অনিয়ম বন্ধের দাবিতে গত ২১ জুন সেন্সর বোর্ড ঘেরাও করে ‘চলচ্চিত্র পরিবার’। সেখানে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির শিকার হন ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে হামলার বিচার না হলে সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে সারাদেশে সিনেমা হল বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রদর্শক সমিতির নেতারা। একই সঙ্গে অভিনেতা রিয়াজ, মিশা সওদাগর, পরিচালক বদিউল আলম ও প্রযোজক খোরশেদ আলমের কোনো ছবি বাংলাদেশের কোনো প্রেক্ষাগৃহে না চালানোর বিষয়টি চূড়ান্ত করেছেন সংগঠনটির নেতারা। ফলে সংশ্লিষ্ট শিল্পী ও নির্মাতার ছবিগুলো অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে। 
যোগাযোগ করা হলে প্রদর্শক সমিতির সভাপতি ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ জানান, তিনি এই বৈঠকের খবর আগে থেকে অবগত ছিলেন না। ফিরোজ রশীদের বাসায় নিমন্ত্রণের কথা শুনে সেখানে গিয়ে দেখেন চলচ্চিত্র পরিবারের সদস্যরা সেখানে আছেন। তিনি বলেন, আমার ওপর হামলার ঘটনায় তারা দুঃখ প্রকাশ করেছেন। চলচ্চিত্রের উন্নয়নের জন্যই নিজেদের মধ্যে বিরোধ রাখতে চাই না। এখন সবাই মিলেমিশে চলচ্চিত্রের উন্নয়নে কাজ করতে চাই। শিগগিরই সংবাদ সম্মেলন ডেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সংগঠনের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
শিল্পী সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগরের দাবি, তিনিও আগে থেকে ওই বৈঠকের কথা জানতেন না। সিনিয়র অভিনেতা ফারুকের ফোন পেয়েই সেখানে হাজির হয়েছিলেন। তিনি বলেন, চলচ্চিত্র অঙ্গন একটা সুন্দরের বাজার। এখানে এই ধরনের ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত। ভালো লাগছে এ ভেবে যে শেষ পর্যন্ত ভুল-বোঝাবুঝির অবসান হয়েছে। মুরব্বিরা আমাদের পাশে দাঁড়িয়ে পরামর্শ দিয়েছেন, মধ্যস্থতা করেছেন। আবার আমরা সবাই মিলেমিশে ইন্ডাস্ট্রিকে সামনে এগিয়ে নিতে চেষ্টা করব।
শনিবার রাতের ঘরোয়া বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন চলচ্চিত্র পরিবারের আহ্বায়ক অভিনেতা ফারুক, সদস্যসচিব বদিউল আলম খোকন, শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান, সহসভাপতি রিয়াজ, প্রযোজক খোরশেদ আলম খসরু, চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কাজী শোয়েব রশীদ, সমিতির উপদেষ্টা সুদীপ্ত চৌধুরী ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিয়া আলাউদ্দীন।
এ বিষয়ে কথা হলো প্রদর্শক সমিতির তিনবারের সভাপতি ঢাকা–৬ আসনের সাংসদ কাজী ফিরোজ রশীদের সঙ্গে। তিনি বলেন, পরিস্থিতি ক্রমশই জটিল থেকে জটিলতর হচ্ছিল। শিল্পী-প্রদর্শকের দূরত্ব বাড়ছিল। এমন অবস্থা চলতে থাকলে তিলে তিলে গড়ে ওঠা এ শিল্প পুরোপুরি ধ্বংসের মুখে পড়ে যেত। এ কারণে আমি বন্ধু ফারুকের সঙ্গে আলাপ করে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নিই। এখন সবকিছু ঠিকঠাক চললেই হয়।

পিডিএসও/মুস্তাফিজ