‘আর্থিক সহায়তা চাওয়ার সংবাদের কোনো সত্যতা নেই’

প্রকাশ : ০৮ আগস্ট ২০১৭, ২০:৩৭

অনলাইন ডেস্ক

স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র হতে প্রচারিত সালাম সালাম হাজার সালাম, জয় বাংলা বাংলার, ওরে নীল দরিয়া, তুমি কি দেখেছো কভু জীবনের পরাজয়, পিচ ঢালা এই পথটাকে ভালোবেসেছিসহ অসংখ্য কালজয়ী গানে কণ্ঠ দেওয়া কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী আব্দুল জব্বার। একুশে পদক, স্বাধীনতা পুরস্কার, বঙ্গবন্ধু স্বর্ণপদক, জহির রায়হান চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ অগণিত পুরস্কার পাওয়া এই শিল্পীর গত আড়াই মাস থেকে কিডনি বিকল, হার্টের বাল্ব নষ্টসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গত ১ জুলাই থেকে আইসিইউতে রেখে তাকে হেমো ডায়ালাইসিস দেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। খরচও বহন করছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।  

অথচ কিংবদন্তী এই শিল্পীকে নিয়ে ইন্টারনেটে কিছু সংবাদ ভাইরাল হচ্ছে। তিনি নাকি বলেছেন, আমি যদি জাতি গঠনের সংগ্রামে গান গেয়ে কোনো ভূমিকা রেখেই থাকি তবে, ১৬ কোটি বাঙালি এক টাকা করে সাহায্য দিক। তাতে আমার সুচিকিৎসা হবে। আমার দেহে স্থাপিত হবে দু’টি কিডনি। তখন নিশ্চয়ই আমি বেঁচে যাব।

এ কথার কতটুকু সত্যতা রয়েছে - এ বিষয়ে জানতে চাইলে আব্দুল জব্বারের স্ত্রী শাহিন জব্বার বলেন, এই সংবাদের কোনো সত্যতা নেই।

উনাকে হেয় করার জন্যই এগুলো বলা হচ্ছে। একজন মুক্তিযোদ্ধা, একজন জাতীয় শিল্পী কখনো এভাবে ছোট হতে পারে না। বরং আইসিইউতে আমার স্বামী আমার কাছে বলেছেন, তুমি দেশবাসীকে আমার জন্য দোয়া করতে বলো। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে তুমি ধন্যবাদ দিও। উনি আমার জন্য অনেক করেছেন। তিনিও যেন দোয়া করেন। শাহিন জব্বার বলেন, বঙ্গবন্ধু মেডিক্যালের পক্ষে আমার স্বামীর জন্য অনেক কিছুই করা হচ্ছে। উনাদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান জানান, কণ্ঠশিল্পী আব্দুল জব্বারের চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিএসএমএমইউ-র সিনিয়র চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গত শনিবার তার চিকিৎসায় মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। যখন যা লাগছে তার ব্যবস্থা করছে ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ। অধ্যাপক কামরুল হাসান খান বলেন, সারা পৃথিবীতে যা চিকিৎসা এখানেই তাই দেওয়া হচ্ছে। তাছাড়া তাঁর যদি কিডনি বদলানোরও প্রয়োজন হয় সে ব্যবস্থাও এখানে রয়েছে।  

কিডনি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সহিদুল ইসলাম সেলিম জানান, কণ্ঠশিল্পী আব্দুল জব্বার ক্রনিক কিডনি ডিজিস (সিকেডি) স্টেজ ফাইভে আছেন। তার বয়স এখন আশির ওপর। এই অবস্থায় কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্ট ঝুঁকিপূর্ণ। এতোদিন তিনি ফিস্টুলা করাতে রাজী হননি। এখন টেম্পোরারি ক্যাথেটার করে হেমোডায়ালাইসিস দেয়া হচ্ছে যা চালিয়ে যেতে হবে। এখন তিনি খেতে পারছেন, হাটতে পারছেন, কথা বলতে পারছেন। আশা করা যায় কিছুদিনের মধ্যেই তাঁকে কেবিনে স্থানান্তর করানো যাবে।

অ্যানেসথেসিয়া বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. দেবব্রত বণিক জানান, আইসিইতে নেয়া হলেও তাকে কিন্তু লাইফ সাপোর্টে দেয়া হয়নি। প্রতি সপ্তাহে দুইবার হেমোডায়ালাইসিস দেয়া হচ্ছে।   

উল্লেখ্য, কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী আব্দুল জব্বারের চিকিৎসা সহায়তায় ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষে ৪ লাখ টাকা হাসপাতালের খরচ মওকুফ করে দেয়া হয়েছে। বেশ কয়েকজন বিত্তশালীও আর্থিক সহযোগিতা করেছেন। তাই বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে এমন সংবাদে বিব্রত তার পরিবার ও মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

পিডিএসও/রিহাব