৫০ বছরে চিত্রনায়ক নাইম

প্রকাশ : ০৯ মে ২০২০, ১২:২৩

বিনোদন প্রতিবেদক

মহান মুক্তিযুদ্ধের ঠিক আগের বছর অর্থাৎ ১৯৭০ সালের ৭ মে এহতেশাম পরিচালিত ‘চাঁদনী’ খ্যাত নায়ক নাইমের জন্ম। তার বাবা খাজা মুরাদ হাফিজ উল্যাহ ও মা আসিয়া পন্নী। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার পাশাপাশি গান-বাজনার প্রতি ছিল তার প্রবল আকর্ষণ। যে কারণে ছোটবেলা থেকেই পারিবারিক ঐতিহ্যের পাশাপাশি, গান-বাজনার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণে সংস্কৃতি অঙ্গনের সবার কাছেই নাইম ছিলেন পরিচিত।

প্রয়াত গায়ক শেখ ইশতিয়াকের কাছে গিটার শিখেছেন, ওস্তাদ সুধীন দাশের ছেলে নিলয় দাসের কাছে শিখেছিলেন তবলা। নাইমের খালার বাসায় গজলের আসর বসত। সেখানেই সংস্কৃতি অঙ্গনের অনেকের সঙ্গে তার সখ্য তৈরি হয়।

বিটিভির ‘সমাহার’ অনুষ্ঠানের আল মনসুরের নির্দেশনায় প্রথম মিউজিক ভিডিওতে মডেল হন নাইম তার ছোট বোন আফসা জিবার সঙ্গে। ‘চলোনা যাই চলে দূরে বহু দূরে’-এর গানটিতে তখন কণ্ঠ দিয়েছিলেন সামিনা চৌধুরী, সাবাতানি, শুভ্রদেব। এটি ১৯৯৬ সালের ঘটনা। সেই সময়েই নাইম ও তার বোন গীতিয়ারা সাফিয়ার অ্যাডকম থেকে সানসিল্কের বিজ্ঞাপনে মডেল হিসেবে কাজ করেন। মুনমুনের নির্দেশনায় পরপরই নাইম ও কংকন কলকাতায় গিয়ে বাটা-এর বিজ্ঞাপনে মডেল হন।

পরবর্তী সময়ে নাইম নিজেই কয়েকটি গানের মিউজিক ভিডিও নির্মাণ করেন, যাতে তিনি নিজেই মডেল হন। ছিলেন সোহেল, রতন, তার চাচাতো বোন সাদেকাসহ আরো বেশ কয়েকজন। এই ভিডিওই চোখে পড়ে পরিচালক এহতেশামের। সরাসরি এহতেশাম নাইমের বাবার কাছে গিয়ে তার ছেলেক ‘চাঁদনী’ সিনেমার হিরোর প্রস্তাব দেন। নাইমের বাবা রাজি হন, কারণ এর আগে নাইমের বাবাকেই এহতেশাম শাবানার বিপরীতে ‘চকোরী’ সিনেমাতে নায়ক হিসেবে নিতে চেয়েছিলেন।

নাইমের বিপরীতে শাবনাজকে নিয়ে নির্মিত হলো ‘চাঁদনী’। মুক্তি পেল ১৯৯১ সালের ৪ অক্টোবর। টানা প্রায় চার মাস সিনেমাটি দেশের হলে হলে চলেছিল। বাংলাদেশের সিনেমায় তরুণ নায়ক-নায়িকার সফল অভিষেক হয় ‘চাঁদনী’-এর মধ্যদিয়েই। সিনেমাতে নাইম শাবনাজের অভিনয়, সিনেমার গান সারা দেশে আলোড়ন সৃষ্টি করে। এহতেশামেরই ‘চোখে চোখে’ সিনেমার শুটিংয়ে প্রেমে পড়েন নাইম-শাবনাজ। তারপর তারা জুটি হয়ে অনেক সিনেমাতে অভিনয় করেছেন।

নাইম সর্বশেষ আজিজুর রহমানের ‘ঘরে ঘরে যুদ্ধ’ সিনেমাতে অভিনয় করেন। গতকাল নাইম জীবন চলার পথে ৫০ বছর পূর্ণ করেছেন। দিনটিকে বিশেষভাবে উদযাপনের পরিকল্পনা থাকলেও করোনাভাইরাসের কারণে কিছুই করা হয়নি।

জন্মদিন উপলক্ষে নাইম বলেন, এই বিশেষ দিনে আমি শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করছি আমার বাবা মা, শ্রদ্ধেয় পরিচালক এহতেশাম, চাঁদনীর প্রযোজকসহ এই সিনেমা সংশ্লিষ্ট সবাইকে। যতগুলো সিনেমাতে অভিনয় করেছি প্রত্যেক সিনেমার প্রযোজক, পরিচালক, সহশিল্পীসহ সিনেমার প্রত্যেককে শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করছি। আমার ভক্ত দর্শকের প্রতি ভালোবাসা।

আমার স্ত্রী শাবনাজকে ধন্যবাদ আমার জীবনটাকে সুন্দর করে সাজিয়ে দেওয়ার জন্য। মহান আল্লাহ আমাকে দুই মেয়ে সন্তান উপহার দিয়েছেন, অশেষ কৃতজ্ঞতা আল্লাহর প্রতি। জীবনের বাকিটা দিন সুস্থ, সুন্দরভাবে কাটিয়ে দিতে চাই। করোনায় সবাই নিরাপদে থাকুন, সাবধানে থাকুন।

এদিকে নাইম শাবনাজ বিয়ে করেন ১৯৯৪ সালের ৫ অক্টোবর। জন্মদিনে নাইমকে শুভেচ্ছা জানিয়ে শাবনাজ বলেন, সব সময়ই দোয়া করি আল্লাহ যেন নাইমকে সুস্থ রাখেন, আর পাশে থাকার অঙ্গীকার তো আছেই। এই দুঃসময়ে আমরা চেষ্টা করছি দেশের মানুষের পাশে থাকার।

 পিডিএসও/তাজ