দুবাইয়ে ২৮ প্রবাসীর পাশে সুজানা

প্রকাশ : ১০ এপ্রিল ২০২০, ১৪:৩০ | আপডেট : ১০ এপ্রিল ২০২০, ১৫:২৭

বিনোদন প্রতিবেদক
মডেল ও অভিনেত্রী সুজানা জাফর

মানবতার ডাকে অবহেলিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে ভালোবাসেন মডেল ও অভিনেত্রী সুজানা জাফর। বলতে গেলে অভিনয়ের বাইরে সুজানার আরেকটি জগৎ আছে। যেখানে আছে শুধু মানবতা। আর মানুষের বিপদে সর্বাত্মক পাশে থাকার চেষ্টা। কিন্তু এসব কাজে সবসময় প্রচারবিমুখ তিনি। প্রতিনিয়ত এতিম, অসয়হায়, অটিস্টিক শিশুদের পাশে থেকে কাজ করলেও তা প্রচার করতে চান না সুজানা। 

মহামারি করোনাভাইরাসেও সুজানার সহযোগিতার হাত অব্যাহত রয়েছে। দুবাইতে লকডাউনে থাকা ২৮ প্রবাসীর পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনি।  

জানা গেছে, করোনা সংকটে দুবাইতে লকডাউনে আটকে পড়া ২৮ বাংলাদেশিকে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিয়েছেন সুজানা। গেল বুধবার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার ডেইরা দুবাই, সাবকা রোডে বসবাসরত ১৩ প্রবাসীর কাছে কমপক্ষে ১৫ দিনের খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দিয়েছেন এই অভিনেত্রী। তবে কী কী দিয়েছেন সেগুলো গোপন রাখতে চাইলেন বর্তমানে দুইবাতে থাকা সুজানা।

তিনি বলেন, মানুষের পাশে থাকছি এটাই বড় কথা। তারা ভালো থাকলে আমি খুশি। আল্লাহ চেয়েছেন বলে পেরেছি। আমি ওসিলা মাত্র।

সুজানা আরও জানান, আসলে এই দুবাইতে থেকে এমনভাবে মানুষের জন্য কিছু করতে পারবো ভাবিনি। দেশে আমার নির্দেশনায় ম্যানেজার কাজ করছে। কিন্তু দুবাইয়ে এরকম অবস্থা হবে কখনো চিন্তাও করিনি। আমি প্রথমে ফেসবুক মেসেজ দেখে মনে করছি আমার সাথে কেউ মজা করার চেষ্টা করছে। পরে আমাকে পাসপোর্টের পাতার ছবি তুলে পাঠালো। এরপর আমি চেষ্টা করলাম ওদের খাদ্য পাঠাতে। ওরা যেসব এলাকায় রয়েছে সেসব এলাকায় খাদ্যসামগ্রী পৌঁছানো একটু কঠিন ছিল।

দুবাইতে থাকা ওই প্রবাসীরা গণমাধ্যমকে জানান, তাদের বাড়ি কক্সবাজার, চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জানিয়েছেন, আমরা সুজানা ম্যাডামের ভক্ত। তাকে ফেসবুকে ফলো করতাম। আমরা যখন বিপদে পড়েছি তখন সুজানা ম্যাডামকে ফেসবুকে মেসেজ দিয়েছি। তিনি আমাদের বিস্তারিত জানতে চান, তাকে আমরা সাথে সাথে পাসপোর্টের ছবি তুলে পাঠাই। কারণ আমরা ক্ষুধার্ত, আমাদের যেকোনোভাবে খাদ্য লাগবে। ম্যাডাম বিশ্বাস করলেন এবং এগিয়ে আসলেন। 

প্রসঙ্গত, বর্তমানে নিজের ফ্যাশন হাউজের ব্যবসা নিয়েই ব্যস্ত সুজানা। পাশাপাশি উত্তরার অটিস্টিকদের একটি আশ্রম নিজের সাধ্যের মধ্যে দেখভাল করেন। সময় করে ছুটে যান সেখানে। এছাড়া সুবিধাবঞ্চিত স্কুলের খরচ, শিক্ষার্থীদের পেলে সবসময় পাশে থাকার চেষ্টা করেন তিনি।

পিডিএসও/নেহাল/হেলাল