সংসার জীবনের ভালোবাসা ভাগ্যে ছিল না : শাবনূর

প্রকাশ : ০৬ মার্চ ২০২০, ১৫:৪৭

বিনোদন প্রতিবেদক

সন্তান জন্মের পর থেকেই আমাদের মধ্যে একটা দূরত্ব তৈরি হয়। অনেকগুলো বিষয়ে মতের অমিল হচ্ছিল। এরপর আমরা আলাদা থাকা শুরু করি। ভাবলাম, একটা সময় উপলব্ধিতে পরিবর্তন আসবে। কিন্তু তা আর হলো না। এরপর অনিকের বাবা-মায়ের সঙ্গেও কথা বলা হয়। অনেক চেষ্টার পরও বনিবনা হচ্ছিল না। তারপর ভাবলাম, এভাবে থাকার চেয়ে আলাদা থাকাটাই ভালো। সিডনি থেকে স্বামীকে ডিভোর্সের বিষয়ে সংবাদমাধ্যমে এমন ব্যাখা দিলেন দেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী শাবনূর।

আইনজীবীর মাধ্যমে ২৬ জানুয়ারি স্বামী অনিক মাহমুদ হৃদয়কে ডিভোর্স নোটিস পাঠানোর কথাও জানান তিনি। শাবনূর আরো বলেন, ‘অভিনয়ে এসে অনেক চড়াই-উতরাইয়ের মধ্য দিয়ে নিজেকে সবার ভালোবাসার মানুষ হিসেবে তৈরি করেছি। সংসারজীবন শুরু করেছিলাম ভালো থাকার আশায়। চলচ্চিত্রে সবার ভালোবাসা পাওয়া আমার হয়তো সংসার জীবনের ভালোবাসা ভাগ্যে লেখা ছিল না। তাই সংসারজীবনে বিচ্ছেদ করতে হয়েছে। অনিকের পরিবার আছে, আমারও পরিবার আছে, দুজনেরই সমাজ আছে, সেখানে দুজন নিজেদের মতো করে থাকুক— এটাই চেয়েছি।’ ডিভোর্স নোটিসে স্বামী অনিক মাহমুদ হৃদয়ের বিরুদ্ধে গুরুতর অনেক অভিযোগও এনেছেন এ অভিনেত্রী।

নোটিসে শাবনূর বিচ্ছেদের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন, ‘আমার স্বামী অনিক মাহমুদ হৃদয় স্ত্রী এবং সন্তানের প্রতি যথাযথ যত্নশীল না এবং আমাদের রক্ষণাবেক্ষণ করে না। সে মাদকাসক্ত। অনেকবার মধ্যরাতে মদ্যপ অবস্থায় বাসায় এসে আমার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়েছে। আমাদের ছেলের জন্মের পর থেকে সে আমার কাছ থেকে দূরে সরে থাকছে এবং অন্য একটি মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে আলাদা বসবাস করছে।’

এ অভিনেত্রী আরো উল্লেখ করেন, ‘একজন মুসলিম স্ত্রীর সঙ্গে স্বামী যে ব্যবহার করে, অনিক সেটা করছে না, উল্টো নানাভাবে আমাকে নির্যাতন করে। এসব কারণে আমার জীবনে অশান্তি নেমে এসেছে। চেষ্টা করেও এসব থেকে তাকে ফেরাতে পারিনি। বরং আমার সন্তান এবং আমার ওপর নির্যাতন আরো বাড়তে থাকে। যে কারণে মনে হলো, তার সঙ্গে আমার আর বসবাস করা সম্ভব নয় এবং আমি কখনো সুখী হতে পারব না। তাই নিজের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ এবং সুন্দর জীবনের জন্য তার সঙ্গে সব সম্পর্ক ছেদ করতে চাই। মুসলিম আইন এবং শরিয়ত মোতাবেক আমি তাকে তালাক দিতে চাই। আজ থেকে সে আমার বৈধ স্বামী নয়, আমিও তার বৈধ স্ত্রী নই।’

শাবনূরের তালাক নোটিস তৈরি করেছেন অ্যাডভোকেট কাওসার আহমেদ। তিনি জানান, গত ২৬ জানুয়ারি স্বামী অনিককে তালাক দিয়েছেন শাবনূর। তালাকের নোটিস অনিকের উত্তরা ও গাজীপুরের ঠিকানায় পাঠানো হয়েছে।

এদিকে এ সম্পর্ক ছেদ করার মধ্য দিয়ে অনিকের সঙ্গে প্রায় সাত বছরের সংসারজীবনের ইতি টানলেন এই অভিনেত্রী। এর আগে ২০১১ সালের ৬ ডিসেম্বর ব্যবসায়ী অনিক মাহমুদ হৃদয়ের সঙ্গে আংটি বদল হয় শাবনূরের। পরবর্তী সময় ২০১২ সালের ২৮ ডিসেম্বর বিয়ে করেন তারা। সেই সংসারে ২০১৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর আইজান নিহান নামে এক পুত্রসন্তানের জন্ম হয়।

পিডিএসও/তাজ