আমার খুব কষ্ট লেগেছে, আমি কেঁদেছিও : মৌসুমী

প্রকাশ : ১৫ অক্টোবর ২০১৯, ১৬:৪৫ | আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০১৯, ১৬:৫৮

অনলাইন ডেস্ক

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন আগামী ২৫ অক্টোবর। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এফডিসিতে শুরু হয়েছে শিল্পীদের দৌড়ঝাঁপ। এবারের নির্বাচনে সভাপতি পদে দাঁড়িয়েছেন মিশা সওদাগর। স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে একই পদে লড়ছেন চিত্রনায়িকা মৌসুমী। এর মধ্যে সোমবার অনাকাঙ্ক্ষিত একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে শোবিজ অঙ্গনে চলছে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা। সমসাময়িক বিষয় ও নির্বাচনী ব্যস্ততা প্রসঙ্গে একটি জাতীয় দৈনিকের ‍মুখোমুখি হয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী মৌসুমী।

সোমবার সন্ধ্যায় আসলে কী ঘটেছিল?

আমি আওয়ামী লীগের সক্রিয় রাজনীতিতে আছি। স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেত্রী ও কর্মীরা ফোনে জানতে চাইলো, আমি কোথায় আছি। আমি তাদের বললাম, এফডিসিতে আছি। তখন আমি নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যস্ত। এর মধ্যে তারা আমাকে শুভ কামনা জানাতে এফডিসিতে আসলেন। শিল্পী সমিতির সামনে তাদের সঙ্গে কথা হচ্ছিল। এ সময় তারা আমার সঙ্গে সেলফি তুলে চলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এমন সময় ড্যানি রাজ এসে বলেন, “এরা কারা? আপনারা এখানে এসেছেন কেন?” ড্যানি রাজ রীতিমত ধমকের সুরে তাদের বের করে দিচ্ছিল। তখন আমি তাকে বাধা দিয়ে বলি, তারা আমার অতিথি, আপনি উত্তেজিতভাবে কথা বলছেন কেন? তখন ড্যানি চিৎকার করে আমাকে বলে, ‘আপনি কে?’

তার কথা শুনে হতভম্ব হয়ে যাই। শতশত ছবির কাজ করার পরও একজন অভিনেত্রীকে, শিল্পী সমিতির একজন সদস্য জিজ্ঞেস করছে আপনি কে? এরপর আমি তাকিয়ে দেখি পাশেই মিশা (মিশা সওদাগর)। তাকে বললাম, মিশা তুমি কথা বলছ না কেন? ড্যানি রাজ আমাকে ‘আপনি কে’ বলার সাহস কোথায় পেল? সেখানে জায়েদ খানও উপস্থিত ছিল। কিন্তু সেও কোনো কথা বলেনি। এর মধ্যেই চারদিকে তখন উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। উপস্থিত অনেকেই তা ভিডিও করেছে।

এরপর...

যখন উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে তখন বিষয়টি প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাঞ্চন ভাইয়ের (ইলিয়াস কাঞ্চন) কানেও পৌঁছায়। এরপর তিনি আসেন। বিষয়টি নিয়ে মিটিংয়ে বসেন। পুরো ঘটনা শোনার পর তিনিও ক্ষুব্ধ হন। এরপর ড্যানিকে বলেন, ‌‘আপনি কি নির্বাচনের প্রার্থী? তাহলে আপনি বাধা দেওয়ার কে? অন্য প্রার্থীদের অভিযোগ নেই, কিন্তু আপনি ভোটার হয়ে অসদাচরণ কেন করেছেন? আপনি কি জানেন, এমন আচরণের জন্য এই মুহূর্তে আপনার সদস্যপদ বাতিল করতে পারি?’ পরে ড্যানি রাজ দুঃখ প্রকাশ করেন। বলেন, ‘আমি খুব দুঃখিত, আমার ভুল হয়ে গেছে। সরি।’

একজন শিল্পীর সামনে একজন শিল্পীর সঙ্গে এমন দুর্ব্যবহার, এটা কি মেনে নেওয়া যায়। আজ আমার সঙ্গে কাল অন্যদের সঙ্গেও এমনটা হবে, এটা কি নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারবেন। আমার খুব কষ্ট লেগেছে, আমি কেঁদেছিও। নিজ পরিবারে এভাবে অপমানিত হব, ভাবিনি।

শুরুতে প্যানেল ঘিরে, চমক নিয়ে আসার কথা বলেছিলেন। এখন আপনি একাই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে গুঞ্জনও উঠেছে, শেষ মুহূর্তে আপনি নাকি নির্বাচন থেকে সরে যাবেন?

সরে যাওয়ার হলে অনেক আগেই সরে যেতাম। এখন তো সরে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। আমি ঠিকই প্যানেল নিয়ে প্রকাশ্যে আসতাম। কিন্তু নানা কারণে পারিনি। এর মধ্যে অনেকে ফোন দিয়ে অনেক কথা বলেছে। বসে পড়ার জন্য চাপও দিয়েছে। কিন্তু আমি সব চাপ উপেক্ষা করে এগিয়ে যাবো বলে দিয়েছি। এতদিন নানাভাবে চাপে রেখে আমাকে দমাতে পারেনি বলেই হয়তো গতকালকের ঘটনা। তাছাড়া যারা সরে গেছে, তারা কিন্তু আমাকে ভুলে যায়নি। এখনও পর্যন্ত তারা আমাকে সাপোর্ট করে যাচ্ছে। এর পাশাপাশি আমার ভরসার জায়গাটা হচ্ছেন সাধারণ ভোটার। যাদের সঙ্গে আমার ওঠাবসা। তাদের পূর্ণ সমর্থন আছে। সব মিলিয়ে মনে সাহস নিয়ে এগিয়ে চলছি।

আপনাকে পাওয়া যায় না, এমন অভিযোগ অনেকের। সাধারণ ভোটার আপনার সঙ্গে কীভাবে যোগাযোগ করবে?

দেখুন, আমার গোড়াপত্তন কিন্তু এফডিসিতেই। আমাকে পাওয়া যায় না, এটা বললে ভুল হবে। হ্যাঁ, মাঝে-মধ্যে ব্যস্ততার কারণে ফোন ধরতে পারি না। তবে এমন কিন্তু হয়নি, কেউ আমাকে ফোন করে একদমই পাচ্ছে না। ব্যস্ততা কমলে আমি নিজেই কিন্তু তাদের ফোন করি। এছাড়াও আমাকে ফোনে না পেলে, সবাই কিন্তু সানীকে (স্বামী ওমর সানী) ফোন দেয়। আমি কিন্তু ঠিকই পরে, তার সঙ্গে যোগাযোগ করি। নির্বাচিত হলে আমাকে কিন্তু নির্দিষ্ট জায়গায় (শিল্পী সমিতি) সব সময়ই পাবেন। শুধু তাই না, সকল ভোটারদের কাছে আমি আমার নম্বরও দিয়ে রেখেছি। যে কোনো সমস্যায় তাদের ফোন করতে বলেছি। আশা করি, ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগের কোনো সমস্যা হবে না।

চলচ্চিত্র নির্মাণ আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে। এ নিয়ে কিছু ভাবছেন?

দেখুন, পরিবেশ থাকলে ঠিকই নতুন ছবি নির্মাণ হবে। নতুন নতুন প্রযোজক আসবে, এফডিসিতে আবারও শিল্পীদের মিলন মেলা হবে। আমি নির্বাচিত হলে সবার আগে চলচ্চিত্রের পরিবেশ ফিরিয়ে আনবো।

পিডিএসও/রি.মা