দাম্পত্য জীবনের রজতজয়ন্তী

প্রকাশ : ০৫ অক্টোবর ২০১৯, ১০:১৭ | আপডেট : ০৫ অক্টোবর ২০১৯, ১১:৩৪

বিনোদন প্রতিবেদক

চলচ্চিত্রের আদর্শ তারকা দম্পতি হিসেবে সব সময়ই সবার কাছে সমাদৃত জুটি নাইম-শাবনাজ। তাদের দাম্পত্য জীবনের রজতজয়ন্তী পূর্ণ করলেন আজ।

১৯৯৪ সালের ৫ অক্টোবর রাজধানীর লালমাটিয়ায় শাবনাজের বাসায় নাইম-শাবনাজের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছিল। এরপর থেকে বিগত ২৫টি বছর তারা সুখে-দুঃখে একসঙ্গে আছেন। তারা দুই গর্বিত কন্যাসন্তানের মা-বাবা।

বড় মেয়ে নামিরা উচ্চশিক্ষার জন্য কানাডায় আছেন এবং ছোট মেয়ে মাহাদিয়া রাজধানীর উত্তরার আগা খাঁতে পড়াশোনা করছেন। মাহাদিয়া আবার একজন গায়িকা হিসেবেও এরই মধ্যে বেশ প্রশংসিত হয়েছেন।

১৯৯১ সালের ৪ অক্টোবর এহতেশাম পরিচালিত ‘চাঁদনী’ সিনেমায় অভিনয়ের মধ্য দিয়ে দেশীয় চলচ্চিত্রে নাইম-শাবনাজ জুটির অভিষেক হয়। ঢাকাই চলচ্চিত্রে এই জুটির অভিষেকের মধ্য দিয়ে আরেক রোমান্টিক জুটির সফল যাত্রা হয়। এরপর একে একে এই জুটি দর্শককে উপহার দেয় ‘দিল’, ‘সোনিয়া’, ‘চোখে চোখে’, ‘বিষের বাঁশি’, ‘অনুতপ্ত’, ‘টাকার অহংকার’, ‘সাক্ষাৎ’, ‘জিদ’সহ আরো বেশকিছু চলচ্চিত্র। সর্বশেষ তারা দুজন ‘ঘরে ঘরে যুদ্ধ’ চলচ্চিত্রে জুটি হয়ে অভিনয় করেছিলেন।

নাইম সর্বশেষ ‘মেয়েরাও মাস্তান’ এবং শাবনাজ সর্বশেষ আজিজুর রহমানের ‘ডাক্তার বাড়ি’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। এরপর নাইম-শাবনাজ জুটিকে আর চলচ্চিত্রে অভিনয়ে দেখা যায়নি। আলমগীর পরিচালিত ‘নির্মম’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য শাবনাজ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হয়েছিলেন।

দাম্পত্য জীবনের সাফল্যের ২৫ বছর পেরোনো প্রসঙ্গে নাইম বলেন, ‘আমার বাবা ইন্তেকাল করেন ১৯৯৪ সালের জানুয়ারিতে। বাবা মারা যাওয়ার পর আমাকে শাবনাজই মানসিকভাবে অনেক সাপোর্ট দিয়েছে, যা সে সময় আমার জন্য খুবই প্রয়োজন ছিল। পরবর্তীতে আমরা বিয়ে করি। আমাদের ঘর আলোকিত করে নামিরা ও মাহাদিয়া আসে। আল্লাহর অশেষ রহমতে আমরা সব সময়ই সুখে ছিলাম, সুখেই আছি। আমার জীবনে শাবনাজের ভূমিকা অনেক বড়, এটা সত্যিই অল্প কথায় ব্যাখা করে বোঝানো সম্ভব নয়। জীবনের ক্রান্তিকালে শাবনাজ আমার হাতে হাত না রাখলে জীবনকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া আমার জন্য সত্যিই ডিফিকাল্ট হতো।’

শাবনাজ বলেন, ‘আজ এতটা বছর পেরিয়ে এসে জীবনের ফেলে আসা দিনগুলোর কথা ভীষণভাবে মনে পড়ছে। মনে পড়ছে বিয়ের দিনটির কথা। খুব তাড়াহুড়ার মধ্য দিয়েই আমরা বিয়ে করেছিলাম। সেই থেকে আমরা সুখে-দুঃখে নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে একসঙ্গে আছি, আল্লাহর রহমতে বেশ ভালো আছি, সুখে আছি। এখন যেভাবে আছি সারাটা জীবন যেন নাইমের সঙ্গে এভাবেই কাটিয়ে দিতে পারি; এর চেয়ে বড় চাওয়া আর কীইবা হতে পারে। আমার মেয়ে দুজনের জন্য সবাই দোয়া করবেন।’

এদিকে নাইম-শাবনাজের নিজেদের অভিনীত সিনেমার মধ্যে ‘চাঁদনী’ ছাড়াও প্রিয় দুটি সিনেমা হচ্ছে আজিজুর রহমানের ‘দিল’ ও শিবলী সাদিকের ‘অনুতপ্ত’।

পিডিএসও/তাজ