বহুমাত্রিক প্রতিভাধারী হুমায়ুন ফরীদির জন্মদিন

প্রকাশ : ২৯ মে ২০১৯, ১৬:১৬ | আপডেট : ২৯ মে ২০১৯, ১৬:৪০

ফারুক হোসেন শিহাব

বিরল প্রতিভা নিয়ে অভিনয়ের সব মাধ্যমে চমক দেখিয়েছেন হুমায়ুন ফরীদি। আজ ২৯ মে বাংলাদেশের শক্তিমান অভিনেতা হুমায়ুন ফরীদির ৬৭তম জন্মদিন। 

১৯৫২ সালের ২৯ মে ঢাকার নারিন্দায় জন্ম নিয়েছিলেন কিংবদন্তি এই অভিনেতা। অভিনয় নৈপুণ্যে সর্বস্তরের মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন হুমায়ুন ফরীদি। মঞ্চ দিয়ে অভিনয় জগতে পা রাখলেও অভিনয়ের সব স্তরেই সরব বিচরণ ছিল গুণী এই অভিনেতার।

১৯৫২ সালের ২৯ মে ঢাকার নারিন্দায় জন্মগ্রহণ করেন হুমায়ুন ফরীদি। ২০১২ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি না ফেরার দেশে চলে যান। অভিনয়ের মাধ্যমে আমৃত্যু ছড়িয়েছেন জীবনের বর্ণীল আলো। অথচ তার ব্যক্তিজীবনটা ছিল পুরোটাই সাদামাটা। টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রে সমান তালে তিন দশকের পদার্পণ ছিল তার।

প্রথম মঞ্চনাটক কিশোরগঞ্জে মহল্লার নাটকে ১৯৬৪ সালে। মঞ্চে প্রথম নির্দেশনা দেন স্কুল জীবনে, নাম ‘ভূত’। শৈশব থেকে অভিনয়ের সঙ্গে সখ্য থাকলেও অভিনয়ের মূলযাত্রা শুরু জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রাবস্থায়। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তঃনাট্য প্রতিযোগিতায় তিনি ‘আত্মস্থ ও হিরণ্ময়ীদের বৃত্তান্ত’ শিরোনামে একটি নাটক লেখেন, নির্দেশনা দেন এবং অভিনয় করেন। বিচারকদের কাছে এ নাটকটি সেরা নির্বাচিত হয়। 

এ নাটকের মাধ্যমে নাট্যাচার্য সেলিম আল দীনের নজরে পড়েন তিনি। তারপর হুমায়ুন ফরীদি যুক্ত হন ঢাকা থিয়েটারের সঙ্গে। সেলিম আল দীনের ‘চরকাঁকড়ার ডকুমেন্টারি’ নাটকের প্রোডাকশনে প্রথম কাজ করেন ফরীদি। এরপর ছোট্ট একটা চরিত্রে অভিনয় করেন ‘সংবাদ কার্টুন’-এ। তারপর ‘শকুন্তলা’, ‘ফণীমনসা’, ‘কীত্তনখোলা’, ‘কেরামতমঙ্গল’, ‘মুনতাসীর ফ্যান্টাসি’ ও  ‘ভূত’ নাটকের মাধ্যমে ঢাকা থিয়েটার জীবন শেষ হয় হুমায়ুন ফরীদির।

দাপুটে এ অভিনেতার টেলিভিশনে অভিষেক ঘটে আতিকুল হক চৌধুরী প্রযোজিত ‘নিখোঁজ সংবাদ’ নাটকের মাধ্যমে। এরপর সেলিম আল দীনের রচনা এবং নাসির উদ্দীন ইউসুফ বাচ্চুর নির্দেশনায় ধারাবাহিক নাটক ‘ভাঙনের শব্দ শুনি’ দিয়ে আলোচনায় আসেন ফরীদি। তবে বন্ধু আফজাল হোসেনের উৎসাহ আর অবদান ফরীদির জীবনে এক অনন্য অধ্যায়। 

তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য টিভিনাটক হচ্ছে- ‘চাঁনমিয়ার নেগেটিভ পজেটিভ’, ‘নীল আকাশের সন্ধানে’, ‘ভাঙনের শব্দ শুনি’, ‘বকুলপুর কতদূর’, ‘দূরবীন দিয়ে দেখুন’, ‘মহুয়ার মন’, ‘সাত আসমানের সিঁড়ি’, ‘অযাত্রা’, ‘পাথর সময়’, ‘একদিন হঠাৎ’, ‘দুই ভাই’, ‘শীতের পাখি’, ‘কোথাও কেউ নেই’, ‘সংশপ্তক’, ‘সমুদ্রে গাঙচিল’, তিনি একজন’, ‘চন্দ্রগ্রস্ত’, ‘কাছের মানুষ’, ‘মোহনা’, ও ‘শৃঙ্খল’ ‘বিষকাঁটা’, ‘ভবের হাট’ প্রভৃতি।

গুণী নির্মাতা তানভীর মোকাম্মেলের ‘হুলিয়া’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে হুমায়ুন ফরীদির। তিনি ছিলেন নির্মল 

ও বহুমাত্রিক অভিনয়ের কারুকার। নিজের অভিনয় শৈলীতে অল্প সময়ের মধ্যে নিজের জায়গা তৈরি করে নেন তিনি। তবে শহীদুল ইসলাম খোকনের ‘সন্ত্রাস’ ছবির মাধ্যমে খলনায়ক চরিত্র তাকে প্রথম দেখা যায়। 

বাংলা চলচ্চিত্রে খল চরিত্রে তিনি যোগ করেছিলেন এক নতুন মাত্রা। তার উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র হলো- ‘জয়যাত্রা’, ‘ভণ্ড’, ‘সন্ত্রাস’, ‘শ্যামলছায়া’, ‘একাত্তরের যীশু’, ‘মায়ের মর্যাদা’, ‘বিশ্বপ্রেমিক’ ও ‘পালাবি কোথায়’ প্রভৃতি। ২০০৪ সালে ‘মাতৃত্ব’ সিনেমার  জন্য সেরা অভিনেতা শাখায় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। লেখালেখি খুব বেশি না করলেও বেশ কিছু টেলিফিল্ম, ধারাবাহিক ও এক ঘণ্টার নাটক নির্মাণ করেছেন তিনি।

দারুণ বুদ্ধিদীপ্ত এবং রোমান্টিক এ মানুষটি ব্যক্তিগত জীবনে প্রথমে বেলি ফুলের মালা দিয়ে ফরিদপুরের মেয়ে মিনুকে বিয়ে করেন। তখন এ বিয়ে সারা দেশে ব্যাপক আলোড়ন তোলে। এ ঘরে তাদের দেবযানী নামের একটি মেয়ে রয়েছে। মিনুর সঙ্গে ছাড়াছাড়ির পর হুমায়ুন ফরীদি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন অভিনেত্রী সুবর্ণা মুস্তাফার সঙ্গে। শেষ পর্যন্ত এ সংসারও টেকেনি তাদের। বেশ ক’বছর সংসার করার পর ২০০৮ সালে বিচ্ছেদ ঘটে সুবর্ণা-ফরীদির। তবে ব্যক্তিজীবন ছাপিয়ে হুমায়ুন ফরীদি সবার প্রিয় অভিনেতা হিসাবে এখনও আবিষ্ট করে রেখেছেন সর্বস্তরের দর্শক-সমালোচকদের।

পিডিএসও/তাজ