মা দিবসের আয়োজন

তারকাদের মা

প্রকাশ : ১২ মে ২০১৯, ১৭:৩৮ | আপডেট : ১২ মে ২০১৯, ১৯:৫৮

তুহিন খান নিহাল

‘মা’ ছোট্ট একটি শব্দ, কিন্তু কি বিশাল তার পরিধি! সৃষ্টির সেই আদিলগ্ন থেকে মধুর এই শব্দটা শুধু মমতার নয়, ক্ষমতারও যেন সর্বোচ্চ আধার। জীবনের যেকোনো সাফল্যে মায়ের অবদান যেন সীমাহীন। পৃথিবীর অনেক মানুষেরই জীবনের শ্রেষ্ঠ অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেন তাদের ‘মা’। এই মা কখনো তাদের জীবনে হাজির হয়েছেন আবেগের ভূমিকায়, আবার কখনো হয়ে উঠেছেন সংগ্রাম, আত্মত্যাগ, অধ্যবসায় ও সাফল্যের চাবিকাঠি হিসেবে। আজ বিশ্ব মা দিবস। দিবসটি স্মরণ করে সাধারণ মানুষের মতো দেশের শোবিজ অঙ্গনের তারকারাও নিজেদের অনুভূতি ব্যক্ত করেছেন। এই প্রতিবেদনটি তারকাদের মাকে নিয়ে। 

মৌসুমী : পৃথিবীতে যার কোনো তুলনা হয় না তিনি মা। আমার কাছে মা পৃথিবীতে সবচেয়ে দামি। নিজে মা হওয়ার পর তা টের পেয়েছি। আমি আমার মা-বাবার প্রথম সন্তান। প্রথম সন্তান হিসেবে জন্মের পর থেকেই অনেক আদর, স্নেহ, মায়া মমতায় বেড়ে উঠেছি। মায়ের সঙ্গে ছোটবেলা থেকেই আমার সখ্য। ছোটবেলায় আমি মাকে না দেখলে পাগল হয়ে যেতাম। কারণে-অকারণে মাকে জড়িয়ে ধরতাম। তারকা হওয়ার পর, মায়ের স্নেহভরা মমতার স্পর্শ অনেক বেশি মিস করি। মায়ের সঙ্গে সন্তান হিসেবে ছোটবেলায় যা যা করেছি, এখন আমার সন্তানরাও সেগুলো করে। ওদের ভালোবাসা দেখে প্রায়ই নিজের ছোটবেলায় হারিয়ে যাই।

পপি : আজ আমার জীবনের অন্যরকম দিন। কারণ চলচ্চিত্রে আমার সাফল্যের জন্য আমার মা আজ ‘গর্বিনী মা সম্মাননা’য় ভূষিত হতে যাচ্ছেন। আমার জন্য মা সম্মাননা পাচ্ছেন, এটাই আমার জীবনের শ্রেষ্ঠতম অর্জন। তাই আজকের দিনটা আমার জীবনের স্মরণীয় একটি দিন হতে যাচ্ছে। আর আজকের দিনে বারবার শুধু বলতে চাই, আম্মু আমি তোমাকে অনেক অনেক ভালোবাসি। কিন্তু তোমাকে তা বলে হয়ে ওঠে না। তোমাকে নানা সময় অনেক কষ্ট দিয়েছি। ক্ষমা করে দিও। আর আমাদের সব ভাইবোনদের তুমি তোমার আশীর্বাদের মধ্যে রেখো সব সময়।

পূর্ণিমা : মায়ের গর্ভ থেকে জন্ম নেওয়ায় আমি আজকের পূর্ণিমা। তাই মায়ের প্রতি অনেক শ্রদ্ধা, ভালোবাসা আর কৃতজ্ঞতা। মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করি, তিনি যেন আমার মাকে সব সময় ভালো রাখেন, সুস্থ রাখেন। সেই মায়েরই মেয়ে আমি নিজেও একজন মা। তাই মায়ের কষ্টটা এখন ভালোভাবে বুঝতে পারি। মায়ের কোনো তুলনা হয় না। না জেনে না বুঝে মাকে অনেক কষ্ট দিয়েছি। কিন্তু আর কখনো মাকে কষ্ট দিতে চাই না। সবাই আমার মায়ের জন্য দোয়া করবেন। আর আমার বাবাকে যেন আল্লাহ বেহেশতবাসী করেন সেই দোয়াও চাই সবার কাছে।

জয়া আহসান : আমার মায়ের নাম রেহানা মাসউদ। ডাক নাম কবিতা। যখন খুব ছোট ছিলাম, সবাই আমাকে ডাকত জাপানি ডল বলে। পরিচিতজনরা আদর করে বলতেন, ‘এই পুতুলটা কে রে?’ আমি তখন ডাঁট দেখিয়ে বলতাম, ‘আমি কবিতার মেয়ে ববিতা।’ আমার মায়ের সঙ্গে সম্পর্কটা খুবই অদ্ভুত। তাকে সালাম করতে কেমন যেন সংকোচ লাগে আমার। অন্য অনেকের মতো মাকে জড়িয়ে ধরতে পারি না। কিন্তু শারীরিক ও মানসিকভাবে মায়ের সঙ্গে আমার বেশি মিল। মায়ের কারণেই আমি আজ এত দূর। আমার ওপর মায়ের বিশ্বাস ছিল আমি কোনো ভুল সিদ্ধান্ত নেব না। বলতে পারি শেষ পর্যন্ত মা-ই আমার নায়ক। সব কিছুর পর মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে অনিবর্চনীয় এক শান্তি পাই। দিন শেষে সেই মুখ আমার পরম আশ্রয়।

তারিন জাহান : আমার আম্মুর নাম তাহমিনা বেগম। তিনি আমার জীবনের আদর্শ, আমার শক্তি, আমার অনুপ্রেরণা, আমার সবকিছুই আমার মাকে ঘিরে। মা-মাটি-দেশ, এই তিনটি বিষয়ের মানুষের জীবনে অবদান অনস্বীকার্য। মা শব্দটি তাবৎ পৃথিবীতে একটি শ্রদ্ধার শব্দ। আজ পৃথিবীর আলো বাতাসে এই যে নিঃশ^াস নিচ্ছি তা মায়ের মহান ত্যাগের কারণেই সম্ভব হয়েছে, যা জন্মের শুরু থেকেই নিতে পারছি। মায়ের যেমন বিকল্প হয় না, ঠিক তেমনি মায়ের কোনো তুলনাও হয় না। আমার জীবনে মায়ের অবদান বলে শেষ করা যাবে না। আমার মা যেভাবেই থাকুন, সবসময়ই যেন আল্লাহ ভালো রাখেন এই দোয়া চাই সবার কাছে।

চঞ্চল চৌধুরী : পৃথিবীতে আমার জন্ম হয়েছে আমার মায়ের জন্য। তাই তো মায়ের প্রতি আমার সব থেকে বড় কৃতজ্ঞতা। আমরা অনেক সময় নিজেদের ব্যস্ততা বলি বা স্বার্থপরতা বলি, নানা কারণ দেখিয়ে মাকে ভুলে যাই, মায়ের খোঁজখবর নিই না। আমার মতে একজন মানুষের প্রথম এবং প্রধান দায়িত্ব হলো মায়ের খেয়াল রাখা ও যত্ন নেওয়া। কোনো একটি নির্দিষ্ট দিনের জন্য মা দিবস নয়। ৩৬৫ দিনই মায়ের জন্য। যতক্ষণ নিঃশ্বাস থাকবে ততক্ষণ এই দায়িত্বটা আমাদের পালন করা উচিত। সব মায়ের জন্য আমার ভালোবাসা, শ্রদ্ধা। বিশেষ একদিনের জন্য নয়; প্রতিদিনের, প্রতি মুহূর্তের।

বিদ্যা সিনহা মিম : ‘আমার জীবনে তারকা হয়ে ওঠার পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান আমার আম্মু (ছবি সাহা)। মাকে নিয়ে আমি বন্ধুর মতো সব জায়গায় যাই। আমার সবকিছু গুছিয়ে রাখেন মা। শুটিং নিয়ে যত ঘণ্টাই ব্যস্ত থাকি না কেন মা আমার সঙ্গে থাকেন। মাকে যেমন সম্মান করি, তেমনি ভয়ও পাই। ছবির কাজের বাইরেও মার পরামর্শ নিয়ে থাকি আমি। আজকের দিনেও মাকে সময় দেব।

অপূর্ব : আমার জীবনের যা কিছু প্রাপ্তি, যা কিছু অর্জন সবকিছুর নেপথ্যে যে মানুষটির উৎসাহ, অনুপ্রেরণা সবচেয়ে বেশি, তিনি আমার মা। ছোটবেলা থেকেই আমার প্রতিটি কাজে আম্মু আমাকে উৎসাহ দিয়ে আগামীতে আরো ভালো করতে সাহস দিতেন। এটা সত্যি, আয়োজন করে কখনোই বলা হয়ে ওঠে না মাকে সত্যিকারার্থে কতটা ভালোবাসি। অবশ্য এটা আম্মুও বুঝেন আমি তাকে কতটা ভালোবাসি। দোয়া করি মা তুমি সুস্থ থাক, আমাদের পাশে থাক সারাটি জীবন। তোমার ভালোবাসার মাঝেই বেঁচে থাকতে চাই। তুমি ছাড়া এ জীবন শূন্য, কারণ তোমাতেই আমি পূর্ণ।

ইমরান : আজকের ইমরান হয়ে ওঠার পেছনে আম্মুর অবদান সবচেয়ে বেশি। জীবনে যত বাধাই এসেছে, সেগুলো উতরাতে পেরেছি আম্মুর জন্যই। তাই এই জীবনে আম্মুর হাসিমুখই আমার পরম পাওয়া। আমার কাছে প্রতিটি দিনই মা দিবস। শুধু এটুকুই বলব, তোমাকে অনেক ভালোবাসি মা।

জাকিয়া বারী মম : আমার আব্বু-আম্মুকে আমি অনেক কষ্ট দিয়েছি। আর কোনো দিন আব্বু-আম্মুকে কষ্ট দিতে চাই না। কোনোভাবেই না, কোনো কারণেও না। আমার জীবনে একটিই প্রধান চাওয়া আমার শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত তারা যেন আমার কাছ থেকে আর কোনো কষ্ট না পান। তাদের মুখে যেন সারাক্ষণ হাসিই লেগে থাকে। আমার জীবনে আমি যা কিছুই ভালো করেছি তার সবই আমার আম্মা আব্বার অবদান। আর যা খারাপ করেছি সবই আমার। আম্মু আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ শিক্ষক। তিনি আমার আদর্শ। আমার আম্মু একজন অধ্যাপক। একজন মানুষ এত পরিশ্রমী হয় তা আম্মুকে না দেখলে বিশ^াস করা সম্ভব না।

মৌসুমী হামিদ : আমার কাছে মনে হয় প্রতিটি দিনই মা দিবস হওয়া উচিত। সন্তানকে জন্ম থেকে শুরু করে পরবর্তী সময়ে মা তিলেতিলে সন্তানকে গড়ে তোলে। আর মাকে নিয়ে অনুভূতি প্রকাশ করার মতো না। মায়ের মতো ভালোবাসা, আদর, দোয়া অন্য কোথাও নেই। আমার যখন মন চায় মায়ের জন্য গিফট কিনি, ঘোরাঘুরি করি, শপিং, পার্লারে যাই। আমার কাছে প্রতিটি দিনই আমার মায়ের জন্য। তবে মায়ের ঋণ কোনো দিনই শোধ করার মতো নয়।

আফরান নিশো : আমরা প্রতিনিয়ত পথ চলতে গিয়ে মাকে কখনো বলা হয়ে ওঠে না মাকে যে কতটা ভালোবাসি। আমার মা আঞ্জুমান আরা মা দিবসে ‘গরবিনী মা’ পুরস্কার নিতে যাচ্ছেন। আর তা আমারই জন্য। এটা আমার জন্য ভীষণ গবের্র। আমিও ভীষণ গর্ববোধ করছি এ কারণেই যে সন্তান হিসেবে আমি কিছুটা হলেও দায়িত্বশীল হতে পেরেছি। আম্মু যে আমাকে তার গর্ভে ধারণ করেছেন তার সার্থকতা ধরে রাখতে পেরেছি। এই গরবিনী মা সম্মাননার মধ্যদিয়েই আমার এই ভালোবাসার প্রকাশ ঘটছে।

লিজা : আমার সঙ্গে আমার আম্মুর সম্পর্কটা একটু অন্যরকম মধুর সম্পর্ক। আমার বাবার সঙ্গেও। তাদের দুজনকে সবসময়ই আমার এটা ওটা গিফট করতে ভীষণ ভালোলাগে। আম্মুর সঙ্গে ঝগড়া করি, আবার কিছুক্ষণ পর সরিও বলি। মা মেয়ের সম্পর্ক যেমন মধুরতর হয় তেমনই সম্পর্ক আমাদের দুজনের। আম্মুর হাতের রান্না করা খাবার ছাড়া আমার আর কোনো খাবারই একদম ভালো লাগেনা। লিজা নামটি আমার আব্বুর রাখা। আম্মু আব্বু আমাকে নিয়ে গর্ব করেন সবসময়। এটা আমাকে পুলকিত করে। যাদের জন্য আমার এই পৃথিবীতে আসা। তাই সারাটি জীবন তাদের জন্যই নিবেদিত হয়ে থাকতে চাই।

আঁখি আলমগীর : আমি খুব ভাগ্যবান একজন সন্তান। আমার বাবার কারণে আমাদের বাসায় অনেক অভিনেতা-অভিনেত্রীরা বাসায় আসতেন। আবার আমার মায়ের কারণে অনেক কবি-সাহিত্যিকের আনাগোনা ছিল বাসায়। আমার সংগীত জীবনের পথচলায় আমার বাবা-মা সব সময়ই আমার পাশে ছিলেন এবং এখনো আছেন। আমার মায়ের লেখা অনেক গান আছে। মায়ের লেখা গান নিয়ে আমার গাওয়া এবং বিশিষ্ট শিল্পী যারা গেয়েছেন সেই হিট গানগুলো নিয়ে একটি অ্যালবাম করার পরিকল্পনা করছি। এটা আমার মায়ের প্রতি, মায়ের লেখা গানের প্রতি ভালোলাগা ও ভালোবাসা থেকেই করব। কারণ এখন পূর্ণাঙ্গ অ্যালবাম কেউ শুনেন না। কিন্তু আমার মায়ের গানগুলো সংরক্ষণ করার জন্যই আমি তা করব। আমার মায়ের জন্য সবাই দোয়া করবেন, মা যেন সবসময় ভালো থাকেন, সুস্থ থাকেন। কারণ মায়ের কারণেই আজকের এই সুন্দর পৃথিবী দেখা।

বুবলী : মায়ের কথা বলতে গেলে সবার আগে আমার নানুর কথা ভীষণ মনে পড়ে। বিশেষত রোজার মাস এলে নানুর কথা যেন একটু বেশিই মনে পড়ে। কারণ নানুর সঙ্গে থেকে থেকেই আমি নামাজ পড়া শিখেছি, রোজা রাখতে শিখেছি। সেই নানু যখন আমাদের সবাইকে ছেড়ে চলে গেলেন তখন আমার আম্মুকে দেখেছি তিনি কতটা কষ্ট পেয়েছেন। সত্যি বলতে কী, মা এমন একজন মানুষ প্রতিটি মানুষ তার মনের ভেতরে শ্রদ্ধার স্থানে রেখে দেন। আমার আজকের অবস্থানের পেছনে আম্মুরই অবদান সবচেয়ে বেশি। আমি যখন সিনেমাতে কাজ শুরু করি তখন পরিবার থেকে প্রতিবন্ধকতা ছিল। বিশেষ করে আম্মুর মত ছিল না। কিন্তু আমি আম্মুকে কথা দিয়েছিলাম যে, আমি এমন কিছু করব না যার জন্য তোমাকে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে। আলহামদুলিল্লাহ আমি আম্মুকে দেওয়া কথা রেখেছি, এটাই আমার ভালোলাগা।

মেহজাবিন চৌধুরী : আমার আম্মু মিসেস গাজালা চৌধুরী। আমার জীবনে চলার পথের প্রতিটি পদক্ষেপে আম্মু আমাকে সাহস জুগিয়েছেন। অভিনয় জীবনের আজকের সাফল্যের পেছনেও আম্মু আমার সঙ্গে ছিলেন। যে কারণে আমি আজকের মেহজাবিন হতে পেরেছি। না জেনে না বুঝে আম্মুকে কষ্ট দিয়েছি। তবে তাকে অনেক বেশি কষ্ট দিইনি আমি। তারপরও আম্মুর কাছে সরি। আম্মু প্রায়ই তার শরীরের নানা সমস্যা নিয়ে কথা বলেন। এসব কথা যখন শুনি তখন মনে হয় নিজের শরীরটা কেটে যদি আম্মুকে দিয়ে দিতে পারতাম, তাতেও যদি আম্মু পুরোপুরি সুস্থ থাকতেন আমি শান্তি পেতাম।

পূজা চেরি : মা আমার কাছে অনেক কিছু। আমি যেখানেই যাই মা আমার সঙ্গে থাকেন এবং নিজেকে সেভ ফিল করি। টেনশনের কিছু হলে খারাপ ভালো মিলিয়ে পাশ থেকে অনেকেই অনেক কথা বলে, তবে খারাপ কথাটাই বেশি কানে লাগে। তবে মা সব সময় পাশে থেকে মাথায় হাত বুলিয়ে বলেন কোনো টেনশন করবে না আমি পাশে আছি। তখন মনে হয় কোনো টেনশন নেই। অনেকে মা দিবসে মাকে অনেক ভালোবাসি বলে। কিন্তু আমি বলব না! কারণ, মাকে আমি সব সময়ই ভালোবাসি। তোমার জন্য মা ভালোবাসা সব সময় মনের মধ্যে আছে।

পিডিএসও/তাজ