প্রচণ্ডভাবে ঘৃণা করি সেইসব অমানুষদের : প্রিয়তি

প্রকাশ : ১২ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৬:৪১ | আপডেট : ১২ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৯:৩২

নিজস্ব প্রতিবেদক

রিকশাওয়ালার ওপর চড়াও হওয়া সেই নারীর চরম সমালোচনা করেছেন মিস আয়ারল্যান্ডখ্যাত বাংলাদেশি মডেল ও অভিনেত্রী মাকসুদা আক্তার প্রিয়তি। মঙ্গলবার ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া সেই ভিডিও দেখে ইতোমধ্যে অনেকে বিরুপ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। সেই নারী একটি রাজনৈতিক দলের হওয়ায় তাকে দল থেকে বহিস্কারও করা হয়েছে। এরপরও সমালোচনা থামছে। বুধবার প্রিয়তি তার ফেসবুকে একটি স্ট্যাটার্স লিখেছেন। প্রিয়তির লেখা সেই স্ট্যাটার্স প্রতিদিনের সংবাদের পাঠকের উদ্দেশে হুবুহু তুলে ধরা হলো-

কোন গরীব, দিনমজুর, নিরীহ, অসহায় মানুষকে শারীরিক নির্যাতনতো দূরে থাক, কেউ একটা গালি দিতে দেখলেও আমার গায়ে এসে লাগে। আমি প্রচণ্ডভাবে ঘৃণা করি সেইসব অমানুষদের। কতোটা নির্দয়ী, পাশবিক, অসুখী হৃদয় হলে এই ধরনের অমানবিক কাজ করতে পারে?
এক রিক্সাওয়ালাকে এক মহিলা মারধোর করার যেই ভিডিওটি ভাইরাল হয়েছে, সেই জায়গায় যদি তিনি মহিলা না হয়ে কোন ছেলে/ পুরুষ মানুষ হতো, তাহলে ততোক্ষণে গনপিটুনিতে মনে হয় হাড্ডি- মাংস এক হয়ে যেতো। মহিলা হওয়াতে উনার নিচু ব্যাবহারের কারণে কিছু বাজে শব্দ শুনে রেহাই পেয়েছেন।
তবে আমার একটা প্রশ্ন ছিল, 
আপনারা কি অস্বীকার করতে পারবেন, প্রতিদিন কোথাও না কোথাও, কেউ না কেউ, কোন না কোন কারণে রিকশাওয়ালার গায়ে হাত তুলছেন না? গালি দিচ্ছেন না? পুরুষ অনুপাত মহিলা এর অংকটা না হয় আপনাদের উপরই ছেড়ে দিলাম। তো, ঐগুলোর কেন ভিডিও হয়না? সমানে কেন ভাইরাল হয়না? বলতে পারেন? এতো ছিঃ ছিঃ কি শুধুই ঐ মহিলার জন্যে নাকি সমাজের যে কিছু মজ্জাগত সমস্যা রয়েছে যে, দিন কে দিন আপনারা (একটা অংশ) এমন ব্যাবস্থা নিজেদের সুবিধার্তে তৈরি করে নিয়েছেন যে, তারা নিচু শ্রেণীর মানুষ (রিকশাওয়ালা, দিনমজুর, ড্রাইভার, বাসার কাজের লোক ...) তাদের গায়ে হাত তোলা-ই যায়, তাতে আপনাদের অধিকার রয়েছে এবং গালি দেয়া-ও জায়েজ আছে। আজকের ঐ ভাইরাল ভিডিও এর ঘটনা কি তার প্রতিফলন নয়? 
কারা মূলত করে আসছে এতদিন? কারা দিনকে দিন সমাজে অভ্যস্ত করছে এইধরনের অমানবিক অসামাজিক কাজ? 
কারা মিঃ ? 
যেই মহিলা প্রকাশ্যে রিকশাওয়ালাকে পিটাতে পারে, তিনি ঘরে গিয়ে কাজের মেয়েকেও পিটাতে একটুও হাত কাঁপবে না, আবার একই ভাবে যেই লোক বাইরে রিকশাওয়ালাকে বা গরীব অসহায় মানুষকে মারধোর করে আসে, গালাগালি করে আসে, সে ঘরে এসে নিজের বউয়ের উপর গায়ে হাত তুলতে বা নিজের মা কে গালি দিতে বিন্দুমাত্র দ্বিধাবোধ করবে না।
এইখানে যেইগুলো বড় অভাব সেইগুলো হচ্ছে, সামাজিক মূল্যবোধ সামাজিক শিক্ষা, সভ্যতা, সম্মান এবং শ্রেণী বিদ্বেষ আচরনকে প্রশয় দেয়া। অপরাধ তো অপরাধ ই, অন্যায় তো অন্যায় ই , সেইখানে লিঙ্গের বৈষ্যমতা নয় বরং তার মূল উৎপত্তি স্থল কোথায় তা বের করুন, উপড়ে ফেলুন। শুধুমাত্র একজনকে ভাইরাল করলেই কি আপনার সামাজিক দায়িত্ব পালন করা হয়ে গেলো?

আমি বিশ্বাস করি, আজও ভালো মানুষ এর সংখ্যা বেশী যার কারণে তাই এখনো কোথাও অন্যায় হলে মানুষই এগিয়ে আসে। 
শুভ বুদ্ধির উদয় হোক।
মানবতার জয় হোক।

পিডিএসও/রিহাব