কোরবানির পর সেইগুলো নিয়ে গরুর জন্য কাঁদতাম : প্রিয়তি

প্রকাশ : ২৪ আগস্ট ২০১৮, ১৭:০৫

বিশেষ প্রতিবেদক

পরবাসে ঈদ মানে মন খারাপের দিন, একাকীত্ব আর নিঃসঙ্গতায় পুরোপুরি গ্রাস করার দিন। সরকারি ছুটির দিন না থাকাতে অনেক সময় না চাইলেও কাজ করতে হয়, আবার অনেক সময় মন খারাপ লাগবে বলে কাজ করে ব্যস্ত থাকেনও কেউ কেউ।

জানালেন আয়ারল্যান্ডে বসবাসরত বাংলাদেশি মডেল ও অভিনেত্রী মাকসুদা আক্তার প্রিয়তি। ঈদ নিয়ে প্রিয়তির সঙ্গে কথা হয় প্রতিদিনের সংবাদের পক্ষ থেকে। অনেক ব্যস্ততার মাঝেও দূর পরবাস থেকে তিনি পাঠকদের জন্য ঈদের স্মৃতি শেয়ার করেছেন। 

প্রিয়তি বলেন, ছোটবেলায় কোরবানি ঈদের গরুকে যা দিয়ে সাজানো হতো, কোরবানির পর সেইগুলো নিয়ে গরুর জন্য কাঁদতাম ২/৩ সপ্তাহ।
ঈদে বাবা-মায়ের থেকে জামা পাওয়ার পর অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতাম আমার তৃতীয় ভাবী রাখি ও চতুর্থ ভাবী মুন্নীর পাঠানো উপহার এর জন্য। উনারা আমার জন্য চুড়ি, গলার মালা, কানের দুল, লিপিস্টিক, নেইল পালিশ পাঠাতেন। আর বোঝেনই তো ছোট্ট মেয়েদের এই গুলো কতোটা পছন্দের। কি যে খুশী হতাম!! বে-নি-আ-স-হ-ক-লা সেজে থাকতাম।

ঈদে ঘুরাঘুরি ও সেলামি প্রসঙ্গে প্রিয়তি বলেন, ঈদে এবাড়ি ওবাড়ি ঘুরতে যাওয়ার সঙ্গে বাড়তি যোগ হতো ঈদের সেলামি। প্রথম ঈদের সেলামি ঠিক কতো বছর বয়সে আর কতো ছিলো তা সঠিক মনে নেই। প্রথম দিকে ৫/১০ টাকার বেশি ছিলো না। আর দেশ ছাড়ার সময় তা ছিলো ৫০/১০০ টাকা। একান্নবর্তী পরিবারে আমার জন্ম তাই দেশে ঈদের আনন্দও ছিলো পরম সুখের। আমরা ৬ ভাই ২ বোন। ভাইয়েরা আমার থেকে বয়সে অনেক বড়ো। আমার জন্মের আগেই কয়েক ভাইয়ের বিয়ে হয়ে যায়। তাদের সন্তানরাও বড় বড়। সুতরাং পরিবারের সদস্যদের সংখ্যাও বড়। বাবা ছিলেন পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। বাবার ওপর ছিলো বাড়তি চাপ। আমার মনে আছে। প্রতি বছর দুই ঈদে নতুন জামা কেনা হতো না। রোজার ঈদের জামা কোরবানির ঈদের জন্য যত্ন করে রেখে দেয়া হতো। 

সব মিলিয়ে ছোটোবেলার ঈদ কখনো ভুলার নয়। এখনো মাঝে মাঝে মন চায় দেশে ফিরে এসে ঈদের আনন্দ ভাগ করি। 

পিডিএসও/রি