দুই যুগে সানী-মৌসুমীর বিবাহিত জীবন

প্রকাশ : ০২ আগস্ট ২০১৮, ১২:৪২

বিনোদন প্রতিবেদক

১৯৯৫ সালের ২ আগস্ট ভালোবেসে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন চলচ্চিত্রের অন্যতম সফল জুটি এবং সুখী তারকা দম্পতি ওমর সানী ও মৌসুমী। দেখতে দেখতে আজ তারা বিবাহিত সুখী জীবনের দুই যুগে পদার্পণ করছেন।

১৯৯৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত রায়হান মুজিব পরিচালিত ‘আত্ম অহংকার’ সিনেমায় ভালোবেসে গানে গানে ওমর সানী মৌসুমীর উদ্দেশে বলেছিলেন ‘আমার একদিকে পৃথিবী, একদিকে ভালোবাসা, আমি তোমার কাছে আসব আর তোমাকেই ভালোবাসব’। গানের এ কথারই প্রমাণ দিয়েছিলেন ওমর সানী মৌসুমীকে ভালোবেসে বিয়ে করে আজ থেকে ২৩ বছর আগে। সুখে-দুঃখে ভালোবেসে দুজন দুজনার হয়ে দেখতে দেখতে দাম্পত্য জীবনের ২৩টি বছর পার করেছেন তারা দুজন।

২৩ বছর পেরিয়ে আজ তারা ২৪ বছরে পা রাখছেন। ওমর সানী ও মৌসুমীর সুখের সংসার আলোকিত করে দুই সন্তানও এসেছে। একজন ছেলে ফারদিন ও অন্যজন মেয়ে ফাইজা। ফারদিন রাজধানীর উত্তরায় ‘মেরিমন্টানা’ নামের একটি রেস্টুরেন্ট পরিচালনা করছেন বেশ দায়িত্ব নিয়ে। রেস্টুরেন্ট ব্যবসায় নিজেদের ছেলের সাফল্যে বেশ আনন্দিত ওমর সানী-মৌসুমী। পাশাপাশি ফারদিন একজন নির্মাতা হিসেবেও কাজ করেন।

নিজের জীবনে মৌসুমীর ভূমিকা এবং মৌসুমী প্রসঙ্গে ওমর সানী বলেন, ‘মৌসুমী আমার জীবনের আলো, আমার সুখে-দুঃখে পথচলার সঙ্গী, এক কথায় মৌসুমীই আমার জীবনের সব। আমার জীবনে নানা সময়ে নানা বিষয় নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্ব থাকলেও মৌসুমী তার জীবনে সব সময়ই সব ব্যাপারে বেশ ভালোভাবে সুদূরপ্রসারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা আমাকে অবাক করেছে, মুগ্ধ করেছে। সে একজন নায়িকা হিসেবে, স্ত্রী হিসেবে, মা হিসেবে, সমাজসেবক হিসেবে একজন সফল মানুষ।

আমি বলব, এ দেশে শাবানা ম্যাডামের পর মৌসুমী একজন সর্বোপরি সফল নায়িকা। আল্লাহ যেন তাকে সব সময় ভালো রাখেন, সুস্থ রাখেন এবং আমরা যেন সারাটি জীবন আমাদের দুই সন্তান, পরিবারের সবাইকে সঙ্গে নিয়ে সুখে-দুঃখে বাকিটা জীবন পার করে দিতে পারি, এই দোয়াই করি।’

মৌসুমী বলেন, ‘আমার জীবনে সানীর ভূমিকা কী, এটা যদি অল্প কথায় বলতে হয়, তাহলে খুব অবিচার করা হয়ে যায়। তার পরও যদি বলি বলতে হয়, আমার সুন্দর এই জীবনের জন্য কৃতজ্ঞ আল্লাহর কাছে, আমার বাবা-মায়ের কাছে, তারপরই সানীর কাছে। বিশেষ করে আমার বাবার মৃত্যুর পর সানী আমাদের পুরো পরিবারে যে ভূমিকা রেখে আসছে, তার কোনো তুলনাই হয় না। সংসার জীবনে ঝগড়া হওয়াটাই স্বাভাবিক। কিন্তু তারপর যে মধুর সময় আসে তা যেন জীবনের অন্যতম অংশ।

আজকের বিশেষ এ দিনেই নয়, আমৃত্যু যেন আমরা দুজন দুজনার হয়ে থাকতে পারি এই দোয়া চাই। আর আমাদের জন্য সব সময় যারা পাশে থেকেছেন, ছায়ার মতো তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা।’

উল্লেখ্য, এবারের ঈদে মৌসুমীকে দেখা যাবে শ্রাবণ চক্রবর্তী দিপুর নির্দেশনায় ‘কাঁদে মন কাঁদে ভালোবাসা’ টেলিছবিতে। এরই মধ্যে ওমর সানী-মৌসুমী কলকাতা থেকে ‘নোলক’ চলচ্চিত্রের কাজ শেষ করে ঢাকায় ফিরেছেন।

 পিডিএসও/তাজ