এবার কাঁকন বিবি শিমলা!

প্রকাশ : ২১ জুলাই ২০১৮, ১২:২৮

বিনোদন প্রতিবেদক

বীর মুক্তিযোদ্ধা কাঁকন বিবি। মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্য পেয়েছিলেন ‘বীরপ্রতীক’ খেতাব। কিন্তু ১৯৯৬ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে বীরপ্রতীক খেতাবে ভূষিত করলেও তা গেজেট আকারে প্রকাশিত না হওয়ায় নামের পাশে এই খেতাবটি জোটেনি এই মুক্তিযোদ্ধার। সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার জিরারগাঁও গ্রামের বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা কাঁকন বিবি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গত ২১ মার্চ ইন্তেকাল করেন।

১৯৭১ সালে ৩ মাস বয়সী মেয়ে সখিনাকে রেখে মুক্তিযুদ্ধে যান কাঁকন বিবি। প্রথমে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে গুপ্তচরের কাজ করলেও পরবর্তী সময়ে সম্মুখযুদ্ধে অংশ নেন তিনি। পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে আটক হয়ে নির্যাতনের শিকারও হয়েছেন এই যোদ্ধা। এবার তাকে নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ করছেন পরিচালক শহীদুল হক খান।

সম্প্রতি এফডিসিতে ছবিটির মহরত অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই চলচ্চিত্রে কাঁকন বিবি চরিত্রে অভিনয় করবেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী শিমলা। এ ছবিতে অভিনয় প্রসঙ্গে গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী শিমলা বলেন, ‘এমন একটি ছবিতে অভিনয় করব, তা কখনোই ভাবিনি। এটা আমার ভাগ্য যে কাঁকন বিবি চরিত্রে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। কাঁকন বিবির মতো চরিত্রের জন্য একজন অভিনেত্রীকে বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হয়। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে এর আগে অনেক ছবি দেখেছি, কিন্তু এই ছবির চরিত্র আর গল্প একেবারেই অন্য রকম মনে হচ্ছে।

শিমলা আরো বলেন, ছবিতে আমি তিনটি গেটআপ নিয়ে দর্শকদের সামনে উপস্থিত হব। প্রথমে আমি একজন কিশোরী, তারপর তরুণী এবং শেষে আমি বৃদ্ধ কাঁকন বিবি। আমি এরই মধ্যে নিজের চরিত্র নিয়ে গবেষণা করছি।

শিমলার অভিনীত সর্বশেষ মুক্তি পাওয়া ছবি ‘নেকাব্বরের মহাপ্রয়াণ’ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মাসুদ পথিকের এই ছবিতে আমার চরিত্রটি ছিল খুব চমৎকার। নির্মলেন্দু গুণের কবিতা থেকে ছবির চিত্রনাট্য করা হয়েছে। আমার সহশিল্পী ছিলেন জুয়েল, তিনি থিয়েটার করেন। আমার চরিত্রের নাম ফাতেমা। এটা আমার জীবনের অন্যতম সেরা একটি কাজ। ছবিটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে কয়েকটি বিভাগে পুরস্কার জিতেছে।

সম্প্রতি বলিউডে যে ছবির কাজ করেছেন, সে ছবি নিয়ে নিয়ে শিমলা বলেন, ছবির নাম ‘সফর’। আমার অংশের শুটিং শেষ, ডাবিংয়ের কাজ বাকি আছে। আমার চরিত্রটি খুব চ্যালেঞ্জিং। এ ছবিতে আমার চরিত্রটি স্মৃতিশক্তি লোপ পাওয়া একটি মেয়ের। ছয় মাস পর আবার স্মৃতিশক্তি ফিরে পায়। মেয়েটা কথা বলে কম, অভিব্যক্তি দিয়ে অনেক কিছু বোঝাতে হয়। অভিনয়ের অনেক সুযোগ ছিল। মেয়েটার ওপরই গল্প।

প্রথমবারের মতো বলিউডের ছবিতে কাজ করেছেন শিমলা। ওখানে কেমন লেগেছে জানতে চাইলে এই অভিনেত্রী বলেন, চলচ্চিত্রের এত বড় বাজারের ছবিতে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি, এটা বাংলাদেশের চলচ্চিত্রশিল্পীদের জন্য সম্মানের। ইউনিটের সবাই আমাকে সহযোগিতা করেছেন। তা ছাড়া শুটিংয়ের আগে তিন মাস হিন্দি ভাষার ওপর প্রশিক্ষণ নিয়েছি। ছবিটি পরিচালনা করেছেন অর্পণ রায় চৌধুরী। তিনি ভারতের একজন স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাতা। এটি তার প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য ছবি।

পিডিএসও/তাজ