মইনুল-কনকের ভালোবাসার ৩৫ বছর

প্রকাশ : ০৪ জুলাই ২০১৮, ১৬:৫৭

বিনোদন প্রতিবেদক

বাংলাদেশে শ্রোতা দর্শকের কাছে কনকচাঁপা এক আরাধ্য সংগীতশিল্পীর নাম। সেই কনকচাঁপার অনুপ্রেরণা তার স্বামী মইনুল ইসলাম খান। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ভালোবাসা, বোঝাপড়া আর ধৈর্যের মধ্য দিয়ে সংসার জীবন হয়ে ওঠে সুখের, আনন্দের, যেন তারই প্রমাণ মিলে মইনুল ইসলাম খান ও কনকচাঁপার সংসারে। ভালোবাসায় ভরপুর এই সংসারের বয়স প্রায় ৩৫ বছর।

কনকচাঁপার কাছে বাবা-মায়ের একজন মইনুলই হচ্ছেন তার পৃথিবী। এই পৃথিবীতেই তিনি তার দুই সন্তান, দুই নাতি-নাতনিকে নিয়ে সুখের স্বর্গ গড়েছেন। নিজের জীবনে এই মহান মানুষটির ভূমিকা প্রসঙ্গে কনকচাঁপা বলেন, স্বামীর ভালোবাসা, প্রেম একটি সুন্দর সংসার গড়ে তোলার জন্য খুব প্রয়োজন। একটি সুখী দম্পতি তখনই সফল, যখন তারা নিজে সুখে থেকে তাদের চারপাশ ভালো রাখে। আমাদের দুজনের মধ্যেই সেই চেষ্টাটা আছে। আছে আমাদের পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, ভালোবাসা, বিশ্বাস আর ধৈর্য।

আমরা দুজনই একই পেশার মানুষ হলেও আমাদের মধ্যে নেই কোনো ব্যক্তিত্বের দ্বন্দ্ব। আমার জন্য কখনো তিনি এক পা এগিয়ে এলে, আমি তারচেয়ে বেশি পা ফেলে হাতে হাত রেখে এগিয়ে গিয়েছি। পরিশেষে আমাকে বলতেই হয় তাকে পেয়ে আমি শতভাগ সুখী।

তিনি আরো বলেন, স্টেজ শোর সময় অনেকেই স্টেজকে ছুঁয়ে স্টেজে ওঠেন। অবশ্যই সেটা যার যার ভালোলাগার বিষয়। আমিও স্টেজে ওঠার আগে এর প্রতি সম্মান নিয়েই উঠি। কিন্তু আমি সব সময়ই আমার স্বামীকে সালাম করে স্টেজে উঠি। কারণ আমার কাছে তিনিই আমার সবচেয়ে বড় শ্রদ্ধার জায়গা।

কনকচাঁপা প্রসঙ্গে মইনুল ইসলাম খান বলেন, কনক আমার জীবনে শতভাগ পরিপূর্ণতা এনে দিয়েছে। দুজন এক পেশার মানুষ হয়ে ৩৫টি বছর সুখে শান্তিতে একই ছাদের নিচে বসবাস করা কোনো সহজ কথা নয়। আমি আমার সংগীত জীবনে অনেক সেক্রিফাইস করেছি। আমার যখন কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকার কথা, তখন তার সাফল্যের জন্য সময় দিয়েছি আমি। আমি চাইলেই নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকতে পারতাম।

কিন্তু আমি নিজের কথা না ভেবে শুধুই কনকের কথা ভেবেছি। কারণ সে আমার অর্ধাঙ্গিনী। তার সাফল্যই আমার সাফল্য। কনক জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হয়েছে বেশ কয়েকবার। তা আমার জন্য অনেক আনন্দ বয়ে নিয়ে এসেছে। আমি শিল্পী কনকচাঁপা এবং ব্যক্তি কনকচাঁপাকে অনেক সম্মান করি।

পিডিএসও/তাজ