এবারের লাক্স সুপারস্টার হলেন মিম মানতাশা

প্রকাশ : ১২ মে ২০১৮, ২০:০৬ | আপডেট : ১২ মে ২০১৮, ২০:১৪

অনলাইন ডেস্ক

এবার লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার নির্বাচিত হয়েছেন মিম মানতাশা। ১২ হাজার প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে তিনি এই মুকুট জিতলেন। বিচারক ও দর্শকের ভোটের পাশাপাশি সামগ্রিক পারফরমেন্সের বিচারে এবারের আসরের সেরার মুকুট পরলেন তিনি। এছাড়া প্রতিযোগিতায় প্রথম রানার আপ হয়েছেন সারওয়াত আজাদ বৃষ্টি, দ্বিতীয় রানার আপের পুরস্কার উঠেছে সামিয়া অথৈর হাতে। শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের হল অব ফেমে তারকাবহুল জমকালো অনুষ্ঠানে তাকে বিজয়ীর মুকুট পরিয়ে দেন আরেক লাক্স-চ্যানেল আই তারকা বিদ্যা সিনহা মিম। 
খেতাব জয়ী মানতাশা পুরস্কার হিসেবে পেয়েছেন ৫ লাখ টাকা। একটি ব্র্যান্ড নিউ গাড়ির চাবিও দেওয়া হয়েছে তাকে। এর বাইরে চ্যানেল আই থেকে নির্মিতব্য একটি বিশেষ নাটকে তাহসান খানের বিপরীতে অভিনয়ের সুযোগ পাচ্ছেন তিনি। আর পুরস্কার হিসেবে বৃষ্টিকে দেওয়া হয়েছে ৪ লাখ টাকার চেক। আর অথৈ পেয়েছেন ৩ লাখ টাকা। চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।
প্রতিযোগিতা চূড়ান্ত পর্বে এবারের আসরের প্রধান ৩ বিচারক সাদিয়া ইসলাম মৌ, তাহসান খান ও আরিফিন শুভর সঙ্গে বিশেষ বিচারক হিসেবে প্যানেলে ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, নাট্যব্যক্তিত্ব আলী যাকের ও অভিনেত্রী রুমানা রশিদ ঈশিতা।     
এদিকে 'দেখিয়ে দাও অদেখা তোমায়'-প্রতিপাদ্য নিয়ে অনুষ্ঠিত এবারের আসরে আরও ৩টি গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। মোস্ট কনফিডেন্ট অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন পূজা, মোস্ট এন্টারটেইনিং অ্যাওয়ার্ড  পান তাইবা, মোস্ট স্টাইলিশ অ্যাওয়ার্ড উঠেছে সেরা পাঁচের ইশরাত জাহানের হাতে। পুরস্কারগুলো তুলে দেন নাট্যব্যক্তিত্ব সারা যাকের, অভিনেতা ফেরদৌস ও পারসোনার ব্যবস্থাপনা পরিচালক কানিজ আলমাস খান।
অনুষ্ঠানের শুরুতে শীর্ষ ৫ প্রতিযোগী মিম মানতাশা, সারওয়াত আজাদ বৃষ্টি, সামিয়া অথৈ, ইশরাত জাহিন ও নাবিলা আফরোজকে নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র দেখানো হয়। এরপর এবারের লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার প্রতিযোগিতার টাইটেল ট্র্যাক ‘তুমি অদম্য, অজেয়’- গানের সঙ্গে পারফর্ম করেন তারা। এরপর সাদিয়া ইসলাম মৌ, তাহসান ও আরিফিন শুভ তিনটি মিউজিক্যাল কোরিওগ্রাফির সঙ্গে পারফর্ম করেন। নিজের গানের সঙ্গে পারফর্ম করেন তাহসান, পরে মৌ ও তার দলের কোরিওগ্রাফিতে নারী শক্তির জাগরণের কথা তুলে ধরা হয়।

দীর্ঘ ৩ মাসের পথপরিক্রমার পর প্রায় ১২ হাজার প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে সেরার মঞ্চে এসে দাঁড়ান ৫ তরুণী। চূড়ান্ত পর্বে তারা মুখোমুখি হন কঠিন সব প্রশ্নের। তাদের প্রশ্ন করা হয়, প্রতিবার ঘুরালে হাজার টাকার নোট দেয় এমন মেশিন পেলে কত টাকা দিয়ে কিনবেন? পুরুষের কোন ভূমিকাটি তাকে সম্পূর্ণ মানুষ করে তোলে, ২০৩০ সালের মধ্যে নারীর হাতে পৃথিবীর ক্ষমতায়ন গেলে তখন পরিস্থিতি কী হবে? সুপার হিরোদের মতো ক্ষমতা পেলেই বা তারা কী করবেন?
এরপর নিজেদের সম্পর্কে কাগজে লেখেন ৫ প্রতিযোগী, সেই কাগজ যায় বিচারকদের কাছে। লেখাগুলো পড়ে শোনান তারা। মিউজিক্যাল কোরিওগ্রাফির সঙ্গে এই ৫ প্রতিযোগীর পারফরমেন্স মুগ্ধ করে মিলনায়তনে উপস্থিত দর্শককে। বিচারকার্যের মধ্যে চলে লাক্স-চ্যানেল আই তারকাদের মনোমুগ্ধকর নৃত্য পরিবেশনা। মঞ্চে আসেন মেহজাবীন চৌধুরী, জাকিয়া বারী মম, মিম, সামিয়া সাঈদরা। তাদের নাচের মুদ্রায় আলোকিত হয়ে ওঠে মঞ্চ।
লাক্স-চ্যানেল আই প্রতিযোগিতার প্ল্যাটফর্মে এসে সেরার মুকুট জেতা হয়নি, কিন্তু অভিনয়-মডেলিংয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন এমন কয়েকজন তারকার পারফরমেন্সও ছিল এই মঞ্চে। মাঝে আসাদুজ্জামান নূর দেশভাগ নিয়ে একটি কবিতা আবৃত্তি করেন।
প্রসঙ্গত লাক্স-আনন্দধারা ফটোজেনিক প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ১৯৯৫ সালে বাংলাদেশে এই প্রতিযোগিতার শুরু হয়। এরপর নানা পথপরিক্রমায় এই প্রতিযোগিতায় যুক্ত হয় চ্যানেল আই ও ইউনিলিভার বাংলাদেশ। ফলে ২০০৫ সালে এই প্রতিযোগিতার নাম হয় 'লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার'। 
প্রথমবার বিজয়ীর মুকুট পরেন শানারৈ দেবী শানু। এর পর সেরার মুকুট পরেন জাকিয়া বারী মম, বিদ্যা সিনহা মিম, ইসরাত জাহান চৈতি, মেহজাবিন চৌধুরী, মাহবুবা ইসলাম রাখি, সামিয়া সাঈদ ও নাদিয়া আফরিন মীম। অবশ্য মাঝে ২০১৪ সালের পর ৪ বছর থমকে ছিল এই প্রতিযোগিতা। 

পিডিএসও/মুস্তাফিজ