চাঁদপুর-৫ আসন : ভোটযুদ্ধে ২ পীর

প্রকাশ : ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৬:০১

মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্, হাজীগঞ্জ (চাঁদপুর) প্রতিনিধি

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি) আসনে অংশগ্রহণ করা ৬টি দলের মধ্যে ভোট যুদ্ধে নেমেছেন ৪ পীরের দল। তাদের মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও জাকের পার্টির প্রতিনিধি নির্বাচনে অংশ নিলেও সরাসরি ভোট যুদ্ধে নেমেছেন দুই পীর। 

তারা হলেন- ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ এর চেয়ারম্যান ও ধেররা দরবার শরীফের পীর আল্লামা সৈয়দ বাহাদুর শাহ্ মোজাদ্দেদী এবং বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও বদরপুর দরবার শরীফের পীর আল্লামা আবু সুফিয়ান খাঁন আবেদী আল কাদেরী।
 
অন্য দুই পীরের প্রার্থীরা হলেন- ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, চরমোনাই মনোনিত হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী হাফেজ মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন প্রধানীয়া ও জাকের পার্টি আটরশির (ফরিদপুর) পীর মনোনিত গোলাপ ফুল প্রতীকের প্রার্থী ওবায়েদ মোল্লা।
 
এ ছাড়া নির্বাচনে অংশ নেয়া অন্য রাজনৈতিক দল দুটি হলো, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। যদিও এ আসনে মূলত ভোটযুদ্ধে লড়াই হবে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও বর্তমান সংসদ সদস্য মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম বীরউত্তম এবং বিএনপির প্রার্থী ইঞ্জি. মমিনুল হকের মধ্যে।

ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ, আহলে সুন্নাত ওয়াল জমা’আতের আদর্শবাহী বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন কর্তৃক নিবন্ধিত একটি ইসলামী রাজনৈতিক দল। কুরআন-সুন্নাহর আলোকে সুন্নী মতাদর্শ ভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা বাস্তবায়নে জন্য ১৯৯০ সালে প্রতিষ্ঠা লাভ করে ‘ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ’। দলটির বর্তমান চেয়ারম্যান হলেন, আল্লামা সৈয়দ বাহাদুর শাহ্ মোজাদ্দেদী এবং দলের নির্বাচনী প্রতীক ‘চেয়ার’। আল্লামা সৈয়দ বাহাদুর শাহ্ মোজাদ্দেদী হাজীগঞ্জ পৌরসভাধীন ধেররা দরবার শরীফের বর্তমান পীর।

জানা যায়, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ মহাজোটের সঙ্গে রয়েছে। তবে ধর্মভিত্তিক শরীক দলগুলোর মধ্যে একটি দলের জন্য দুইটি আসনে ছাড় দিয়েছে আওয়ামী লীগ। এর বাইরে যে ধর্মভিত্তিক দলগুলো ১৪ দলীয় জোট বা মহাজোটের সঙ্গে রয়েছে, তারা আর কোনো আসন পায়নি। যার ফলে ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ নিজস্ব প্রতীকে ‘চেয়ার’ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে।

অপর দিকে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট দলটিও আহলে সুন্নাত ওয়াল জমা’আতের আদর্শবাহী বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন কর্তৃক নিবন্ধিত একটি ইসলামী রাজনৈতিক দল। কুরআন-সুন্নাহর আলোকে সুন্নী মতাদর্শ ভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা বাস্তবায়নে জন্য ১৯৯০ সালে প্রতিষ্ঠা লাভ করে ‘ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ’। দলটির বর্তমান চেয়ারম্যান হলেন আল্লামা এম. এ মান্নান এবং দলের নির্বাচনী প্রতীক মোমবাতি। 

বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের প্রতিনিধি হিসেবে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য আল্লামা আবু সুফিয়ান খাঁন আবেদী আল কাদেরী নির্বাচনে চাঁদপুর-৫ আসনে অংশ নিচ্ছেন। তিনি হাজীগঞ্জ পৌরসভাধীন বদরপুর দরবার শরীফের বর্তমান পীর।

জাতীয় পার্টির নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত জাতীয় জোটের অন্যতম শরিক দল ‘বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট’। আবার আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের অন্যতম শরীক দল জাতীয় পার্টি। 

সূত্র জানায়, মহাজোট থেকে ২৬টি আসন পেয়েছে জাতীয় পার্টি। দলটির মনোনয়ন জটিলতা, পার্টির মহাসচিব রদবদল, দলের চেয়ারম্যান এরশাদের অসুস্থতাসহ দলীয় অভ্যন্তরীন বিভিন্ন সমস্যার কারণে এখন পর্যন্ত জাতীয় পার্টি শরীকদের সঙ্গে আসন ভাগাভাগি হয়নি। যার ফলে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট নিজস্ব প্রতীকে ‘মোমবাতি’ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে।

এদিকে আহলে সুন্নাত ওয়াল জমা’আতের আদর্শবাহী দুটি রাজনৈতিক দল একই নির্বাচনী এলাকায় এবং এক সঙ্গে নির্বাচনে অংশ নেয়ায় আহলে সুন্নাত ওয়াল জমা’আতের অনুসারী সাধারণ ভক্ত মহলে দেখা দিয়েছে নানান প্রতিক্রিয়া। 

এ ছাড়াও নির্বাচনী মাঠে রয়েছে আহলে সুন্নাত ওয়াল জমা’আতের আদর্শবাহী অন্যতম রাজনৈতিক দল জাকের পার্টি। যার প্রতীক ‘গোলাপ ফুল’। এ দলের প্রতিনিধি হিসেবে ওবায়েদ মোল্লা এ আসনে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। যার ফলে আহলে সুন্নাত ওয়াল জমা’আতের অনুসারী সাধারণ ভক্তরা কার পক্ষ নিবেন এবং কোন প্রার্থীকে ভোট দিবেন? এ নিয়ে রয়েছেন দ্বিধা-দ্বন্ধে। তবে নিজ নিজ দরবার শরীফের মুরিদ ও অনুসারী তাদের প্রার্থীর পক্ষেই গণসংযোগসহ প্রচার-প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন।

ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ এর উপজেলা সভাপতি জাকির হোসেন মিয়াজী জানান, আল্লামা সৈয়দ বাহাদুর শাহ মোজাদ্দেদী সর্বমহলের কাছে একজন গ্রহনযোগ্য ব্যক্তি। আমরা জয়ের লক্ষে নির্বাচন করছি। ইনশাআল্লাহ্ আমরা লক্ষ্য-উদ্দেশ্যে পৌঁছাতো পারবো। আমরা অনেক সাড়া পাচ্ছি। ভোটাররা আমাদের আশা এবং প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। ইতোমধ্যে আমরা গণসংযোগসহ প্রচার প্রচারণা শুরু করেছি।

বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট হাজীগঞ্জ উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আব্দুর রাহীম জানান, নির্বাচনের উদ্দেশ্য হলো- আমরা দীর্ঘদিন ধরে আহলে সুন্নাত ওয়াল জমা’আতের মতাদর্শের রাজনীতি করে আসছি। আমাদের লোকগুলো যেন, আমাদের নিজস্ব মার্কায় এবং আমাদের মতাদর্শের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারে। মূল কথা হচ্ছে, আমাদের নিজেদের ভোটটাকে সংরক্ষণ করার উদ্দেশ্যে এ নির্বাচন।

পিডিএসও/অপূর্ব