নীলফামারী-২

আ.লীগে নূরসহ ৪ জন, বিএনপি জোটে প্রার্থী জট

প্রকাশ : ১৯ নভেম্বর ২০১৮, ০৯:৪৮

ওয়ালি মাহমুদ সুমন

নীলফামারীর চারটি আসনের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জেলার সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত নীলফামারী-২ আসন। সদর উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এ আসনটি।

গত নির্বাচনের তুলনায় নীলফামারী-২ আসনে এবার ভোটার বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ৩৫ হাজার। এবার ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৯ হাজার ৮৮০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৫৪ হাজার ৫৭৯ জন আর নারী ভোটার রয়েছেন ১ লাখ ৫৪ হাজার ২৪৫ জন।

অষ্টম জাতীয় সংসদ থেকে টানা তিন মেয়াদে নীলফামারী-২ আসনে সংসদ সদস্য হিসেবে রয়েছেন আসাদুজ্জামান নূর। দশম সংসদের সরকার আমলে হয়েছেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী। এর আগে সপ্তম সংসদে জাতীয় পার্টির আহসান আহমেদ হাছান এবং ষষ্ঠ সংসদে ছিলেন বিএনপির দেওয়ান নূর-উন-নবী আহমেদ। অষ্টম ও নবম সংসদে ভোটে নির্বাচিত হলেও বিএনপি জোটবিহীন দশম সংসদে প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় একমাত্র প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হন সংস্কৃতি বিষয়কমন্ত্রী দেশবরেণ্য সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আসাদুজ্জামান নূর।

একাদশ নির্বাচনকে ঘিরে সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরের আসনে (নীলফামারী-২) আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছেন আরো তিনজন। তারা হলেন কেন্দ্রীয় মৎস্য লীগের সহ-সভাপতি নূরে আলম সিদ্দিক রবু ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের দফতর উপকমিটির সদস্য মেহেদী হাসান। এছাড়া বর্তমান জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীনও আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। তবে মনোনয়ন লাভের প্রত্যাশায় ২০০১ সালে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত হন তিনি।

এদিকে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটে দলীয় মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন তিনজন। তারা হলেন রংপুর বিভাগীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা কমিটির সম্পাদক শামসুজ্জামান জামান ও যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী আখতারুজ্জামান জুয়েল এবং জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মনিরুজ্জামান মন্টু।

নীলফামারী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কামাল আহমেদ জানান, আসাদুজ্জামান নূর আমাদের অভিভাবক। তিনি নীলফামারীর জন্য অনেক কাজ করেছেন। তিনি যত দিন আছেন, তত দিন তার প্রতি সম্মান জানিয়ে কেউ তার প্রতিপক্ষ হবে না বলে আমরা মনে করি। তার বিকল্প কেউ হতে পারে না। কিন্তু এবার জয়নাল আবেদীনসহ আরো দুজন ধৃষ্টতা দেখালেন কীভাবে তা জানা নেই। ১৯৯৯ সালে জয়নাল আবেদীনকে চাঁদাবাজিসহ নানা অভিযোগে আওয়ামী লীগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। পরে ২০০১ সালে বহিষ্কার করা হয় তাকে।

নীলফামারী জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওয়াদুদ রহমান বলেন, নীলফামারীর রাস্তাঘাট, ব্রিজ কালভার্ট, স্কুল-কলেজের ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। উত্তরা ইপিজেডসহ সর্বশেষ একটি সরকারি মেডিকেল কলেজও স্থাপিত হলো একমাত্র আওয়ামী লীগ সরকার ও আসাদুজ্জামান নূরের অবদান। পশ্চাদপদ উত্তরের জেলা নীলফামারীকে আধুনিক জেলায় রূপান্তরিত করেছেন।

জেলা আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহিদ মাহমুদ বলেন, নূর ভাই দলমত নির্বিশেষে সবার জন্য কাজ করে চলেছেন। বিরোধী দলের নেতাকর্মীরাও এটা মেনে নেবেন। আসাদুজ্জামান নূর আমাদের অবিভাবক। জেলার উন্নয়নের কান্ডারি। নীলফামারী-২ আসনে তার কোনো বিকল্প প্রার্থী নেই আওয়ামী লীগে।

নীলফামারী জেলা জাতীয় পার্টির সম্পাদক সাজ্জাদ পারভেজ বলেন, নীলফামারী-২ আসনে জোটগত কারণে আমরা দলীয় কোনো প্রার্থী নির্ধারণ করিনি। তবে আলাদাভাবে জাতীয় পার্টি নির্বাচন করলে সেক্ষেত্রে এ আসনের প্রার্থী দেওয়া হবে।

সংসদ সদস্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেন, নীলফামারীর আপামর মানুষের প্রতি আমি চিরকৃতজ্ঞ। তারা আমাকে যে ভালোবাসা দিয়েছেন তাদের এই ঋণ আমি শোধ করতে পারব না। যত প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম তা পূরণ করে যাচ্ছি তবে এখনো শেষ হয়নি। পর্যায়ক্রমে শেষ করা হবে। তিনি আরো বলেন, নেত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা আমাদের সবশেষ একটি মেডিকেল কলেজ উপহার দিয়েছেন। জননেত্রী আমাদের কথা মনে রেখেছেন বলেই নীলফামারীর অভাবনীয় উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে। আমাদের ভাগ্যের ও দেশের পরিবর্তনের জন্য জননেত্রী শেখ হাসিনাকে আবারো ক্ষমতায় বসাতে হবে, এজন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে বিএনপি জোটে প্রার্থী হতে চান জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান জামান। জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান চৌধুরী শামীম বলেন, নীলফামারীতে বিএনপি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। বেড়েছে ভোটার, কর্মী ও নেতার সংখ্যা। সাংগঠনিকভাবেও এখানে দলটি অনেক শক্তিশালী। আমরা চাই এবার এ আসনে জোটগতভাবে মনোনয়ন দেওয়া হোক বিএনপির প্রার্থীকে। কারণ অতীতে জামায়াত প্রার্থী নির্বাচন করলেও বিজয়ী হতে পারেনি। এবার সাধারণ মানুষও চান বিএনপির প্রার্থী।

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান জামান বলেন, সারা দেশে বিএনপির গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচন এলে সেটি বোঝা যাবে। এই সরকার দুর্নীতি, হত্যা, খুন, গুমের কারণে মানুষ তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। উন্নয়নের নামে নিজেদের পকেট ভারী করেছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। যার প্রভাব পড়েছে এখানেও। এখানে ধানের শীষ প্রার্থীকে বিপুল ভোটে জনগণ নির্বাচিত করবে বলে জানান বিএনপির এই প্রার্থী।

নীলফামারী সদর আসন আবারো জামায়াতকে দেয়া হবে মন্তব্য করে জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মনিরুজ্জামান মন্টু বলেন, নীলফামারী-২ আসন থেকে জামায়াতের প্রার্থী দেওয়া হয়। এবার জোটগতভাবে তাই হবে। তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে এই আসনে জামায়াতের প্রার্থী বিজয়ী হবে। প্রতিকূল পরিবেশ থাকলেও জামায়াতের ভোট বেড়েছে আগের চেয়ে বেশি।

আগামীকাল থাকছে নীলফামারী-৩ আসনের খবর

পিডিএসও/হেলাল