আ. লীগে দুই চৌধুরীর লড়াই, বিএনপির প্রার্থী ইলিয়াসপত্নী

ছাড় দিতে নারাজ জাতীয় পার্টি

প্রকাশ : ১৭ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০১৮, ১৩:১৩

মুহাজিরুল ইসলাম রাহাত, সিলেট

প্রবাসী অধ্যুষিত বিশ্বনাথ ও বালাগঞ্জ উপজেলার রাজনৈতিক অঙ্গন একাদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে এখন উৎসব মুখর। সিলেট-২ (বিশ্বনাথ ও বালাগঞ্জ) উপজেলার একাংশ নিয়ে গঠিত এ আসন। এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী সাবেক এমপি শফিকুর রহমান চৌধুরী ও যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর মধ্যে চলছে স্নায়ুযুদ্ধ। দুইজনই নিজ এলাকায় গড়ে তুলেছেন আলাদা আলাদা বলয়। আওয়ামী লীগের দ্বন্দ্ব কাজে লাগিয়ে এ আসনটি আবারো নিজেদের দখলে রাখতে চায় জাতীয় পার্টি (জাপা)। অপরদিকে এক সময় সিলেট-২ প্রভাবশালী বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী দীর্ঘদিন ধরে ‘নিখোঁজ’ থাকায় তার পরিবারের প্রতি মানুষের যে সহানুভূতি, এটিকে কাজে লাগিয়ে নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার চেষ্টা করছেন তার সহধর্মিণী তাহসিনা রুশদীর লুনা।

বিএনপির একমাত্র প্রার্থী হিসেবে তাহসিনা রুশদীর লুনার জন্য মাঠে ব্যাপকভাবে কাজ করছেন বিএনপি, স্বেচ্ছাসেবক দল, যুবদল, ছাত্রদলের সর্বস্তরের নেতাকর্মী। দলে বিরোধ থাকলেও ইলিয়াস-লুনার প্রশ্নে এখানে বিএনপি ঘরানার সবাই একজোট। এ কারণে এখানে লুনার প্রার্থিতাও শতভাগ নিশ্চিত। তিনি নিজেও রাজনীতির মাঠে পুরো সরব রয়েছেন। এছাড়া এ আসনে দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশীর তালিকায় রয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহ-সম্পাদক হুমায়ুন কবীর। ২০ দলীয় জোটের শরিক খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মুনতাসির আলী।

জানা যায়, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির যুগ্ম মহাসচিব ইয়াহইয়া চৌধুরী এহিয়া এ আসন থেকে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি এবারও এ আসন থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান। সে লক্ষ্যে তিনি এলাকায় গণসংযোগ করছেন। দশম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ‘রানিং’ সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান চৌধুরী মনোনয়ন পেলেও দলের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেন নিজের আসন। নবম সংসদ নির্বাচনে বিএনপির তৎকালীন জনপ্রিয় ও হেভিওয়েট প্রার্থী এম ইলিয়াস আলীকে হারিয়ে নতুন চমকের জন্ম দিয়েছিলেন শফিকুর রহমান চৌধুরী। সেই নির্বাচনে ইলিয়াসের চেয়ে ৩ হাজার ১৭৪ ভোট বেশি পেয়ে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন আওয়ামী লীগের এই নেতা। নৌকা প্রতীকে নিয়ে শফিকুর রহমান চৌধুরী পান ১ লাখ ৮ হাজার ২৮০ ভোট। আর ধানের শীষ প্রতীকে এম ইলিয়াস আলী পান ১ লাখ ৫ হাজার ১০৬ ভোট। এ আসনে ৩ লাখ ২২ হাজার ৪২৮ জন ভোটার রয়েছেন। এর মধ্যে নারী ১ লাখ ৫৯ হাজার ৭২৩ এবং পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৬২ হাজার ৭০৫ জন।

সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, দশম জাতীয় সংসদ নির্বচনে দল আমাকে মনোনয়ন দিয়ে ছিল। কিন্তু দলের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে আমি জাতীয় পার্টির প্রার্থীকে আসনটি ছেড়ে দেই। এবার আমি দলীয় মনোনয়ন চাইব।

যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর অনুসারী এক আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী এ এলাকায় দলীয় প্রচারণার পাশাপাশি বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। এলাকায় তার পক্ষে ব্যাপক সাড়া রয়েছে। আশা করি দলের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে মূল্যায়ন করবেন।

তাহসিনা রুশদীর লুনা বলেন, দলের হাইকমান্ডের নির্দেশে আমি মাঠে কাজ করছি। দলীয় কর্মসূচির পাশাপাশি সামাজিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ করছি। এলাকার মানুষজন আমার সঙ্গে রয়েছেন। দলীয় মনোনয়ন পেলে স্বামীর আসন পুনরুদ্ধার করতে পারব বলে আমি আশাবাদী।

জাতীয় পার্টির যুগ্ম মহাসচিব সংসদ সদস্য ইয়াহইয়া চৌধুরী এহিয়া বলেন, নির্বাচন জোটগত হোক আরা না হোক আমি এ আসনে প্রার্থী হব। দলের চেয়ারম্যানের নির্দেশে আমি এলাকায় গণসংযোগ করছি। এলাকায় ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। ইনশাআল্লাহ এবারও এ আসনটি দলকে উপহার দিতে পারব বলে আমি আশাবাদী।

সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক নাসির উদ্দিন খান বলেন, এই আসনটি দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের। এখানে শাহ আজিজ, আশরাফ আলী, ইনাম আহমদ চৌধুরী সংসদ সদস্য ছিলেন এই আসনে। দশম সংসদ নির্বাচনে জোটের স্বার্থে এ আসনটি শরিকদের ছেড়ে দেন প্রধানমন্ত্রী। সে সময় সাবেক সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন। এ কারণে এবার নেতাকর্মীর চাওয়া এই আসনটি যাতে জোটের জন্য না ছেড়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে দেওয়া হয়।

সিলেট জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কাসেম বলেন, সিলেটের ছয়টি আসনের মধ্যে এটি গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের আসা একাদশ নির্বাচনের আগে ‘নিখোঁজ’ বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী ফিরে আসবেন। নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছেন তার সহধর্মিণী লুনা। যদি ইলিয়াস আলী ফিরে না আসেন তাহলে লুনা এই আসনে নির্বাচন করবেন। এমনটি চাওয়া কেন্দ্রেরও। আর তাকে বিজয়ী করতেই নেতাকর্মীরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

পিডিএসও/রিহাব