শিবিরকর্মী সন্দেহে ১৩ শিক্ষার্থীকে পুলিশে দিলো ছাত্রলীগ

প্রকাশ : ০৯ আগস্ট ২০১৭, ১৩:০৩ | আপডেট : ০৯ আগস্ট ২০১৭, ১৩:২৫

রাবি প্রতিনিধি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সোহরাওয়ার্দী হল থেকে শিবিরের ১৩ নেতাকর্মীকে বেধড়ক পিটিয়ে পুলিশে দিলো ছাত্রলীগ। অবস্থা গুরুতর হওয়া এদের মধ্যে ১২ জনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত হলের বিভিন্ন কক্ষে অভিযান চালিয়ে তাদের পুলিশে দেন তারা। এ সময় উগ্র মতাদর্শের বই, শিবিরের নথি, দুটি কম্পিউটারসহ নগদ ১৯ হাজার টাকা জব্দ করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন—নৃ-বিজ্ঞান বিভাগ চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আশিকুল হাসান নাফিস, ফারসি ভাষা ও সাহিত্য মাস্টার্সের শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম, আইন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী রাকিব আহমেদ, বোটানি চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান, পরিসংখ্যান চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী শরীফুল ইসলাম, জোহা হল শাখা শিবিরের সেক্রেটারি ও ইসলামের ইতিহাস বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী জাকির হোসেন, পরিসংখ্যান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী শাহানুর আলম হিমেল, ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সাহেব রানা, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুর রাকিব, আরবি সাহিত্য বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী নাবিউল ইসলাম, অলিউল ইসলাম, আবু জাফর ও দ্বিতীয় বর্ষের গোলাম রাব্বানী। এদের মধ্যে আবু জাফরকে আজ সকাল ৬টায় শহীদ সোহরাওয়ার্দী হল থেকে গ্রেফতার করা হয়। 

ছাত্রলীগ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া ও সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু রাত ১২টার দিকে হলের ১৪৩ নম্বর কক্ষে সাহেব রানাকে শিবিরকর্মী সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। জিজ্ঞাসাবাদে সে শিবিরের সাথে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন কক্ষে অভিযান চালিয়ে উগ্র মতাদর্শের বই, রিপোর্ট বই, ডায়েরি, অর্থ বিভাগের ১৯ হাজার টাকা ও শিবিরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতকর্মীর নামের তালিকাসহ বিভিন্ন ডকুমেন্ট উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়াও অভিযানের সময় তাদের বেধড়ক মারধর করেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। পরে ভোর ৪টার দিকে মতিহার থানা পুলিশের কাছে তাদেরকে হস্তান্তর করে ছাত্রলীগ।

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু বলেন, গোয়েন্দা ও প্রশাসনের কাছ থেকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা সোহরাওয়ার্দী হলের সাহেব রানা ও নাবিউলকে জিজ্ঞাসাবাদ করি। জিজ্ঞাসাবাদে তারা শিবিরের সাথে সম্পৃক্ততা থাকার কথা স্বীকার করেন। পরে তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে আমরা হলের বেশ কয়েকটি কক্ষে অভিযান চালিয়ে ১২ জন ও সকালে আরও একজনকে পুলিশে সোপর্দ করি।

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বলেন, সিলেটে দুই ছাত্রলীগ নেতার উপর শিবিরের হামলার সমুচিত জবাব দেয়ার জন্য আমরা এ অভিযান চালিয়েছি। দেশকে ধ্বংস করার জন্য তারা যে পাঁয়তারা করছে তা কখনও বাস্তবায়িত হতে দেয়া হবে না। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ এসব অপশক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) মাহবুব হোসেন বলেন, অভিযান চালানোর সময় আমরা হলে উপস্থিত ছিলাম কিন্তু হল প্রশাসনের অনুমতি না থাকায় আমরা অভিযানে অংশ নেইনি। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা রাতে ১৩ জন শিবিরের নেতাকর্মীকে আটক করে আমাদের হাতে সোপর্দ করেছে। গ্রেফতার কৃতদের অধিকাংশই শিবিরের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। এদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় আমরা তাদেরকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং একজনকে থানায় পাঠিয়েছি। দ্রুত তদন্ত করে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়াও তাদের বিরুদ্ধে মামলার প্রক্রিয়া চলেেছ বলে জানান তিনি।

পিডিএসও/হেলাল