সবুজ ঘাসে স্মৃতির আয়োজন

প্রকাশ : ১৫ জুন ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ১৫ জুন ২০১৭, ১৩:২৫

তহিদুল ইসলাম, জাবি

সবুজ ঘাসের চাদরের ওপর ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে ছোট ছোট জটলা। খুনসুটি আর গল্প সমানতালে। তবে দিনের আলো মিলিয়ে যেতেই এসবও যেন বিদায় নিচ্ছে। ক্রমান্বয়ে সবার চোখেমুখে বাড়ছে গম্ভীরতার ছাপ। শুরু অপেক্ষার পালা। নির্দিষ্ট সময় হতেই শুরু বাহারি সব খাবাবের আয়োজন। চিত্রটি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের শিক্ষার্থীদের ইফতারির পূর্ব মুহূর্তের।

রমজানে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়েই বিভিন্ন সংগঠন, শিক্ষার্থীদের ছোট দল, সাবেক কিংবা বহিরাগতরা এমন ইফতারির আয়োজন করে। তবে বড় আয়োজনটি হয় কেন্দ্রীয় খেলার মাঠেই। বাদ যায় না বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র, আবাসিক হল, টারজান পয়েন্ট, পরিবহন চত্বরসহ বিভিন্ন স্থানও। মনোরম পরিবেশ ও হাতের নাগালেই ইফতার সামগ্রী থাকায় শিক্ষার্থীদের প্রথম পছন্দ কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ। কখনো বিভাগের বন্ধুরা, কখনো সংগঠনের আয়োজনে আবার কখনো বন্ধুত্বের গন্ডি পেরিয়ে সিনিয়র-জুনিয়র চলে আয়োজন। সাবেক শিক্ষার্থীদের অনেকেই পুরনো স্মৃতিতে ফিরে যেতে এমন আড্ডায় জমায়েত হতে চলে আসেন ক্যাম্পাসে।

সম্প্রতি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী নিহতের জেরে সৃষ্ট অস্থিতিশীলতায় ১১ দিন বন্ধ থাকার পর গত ৮ জুন আবাসিক হলগুলো খুলে দিয়েছে প্রশাসন। এতে যেসব শিক্ষার্থী পার্শ্ববর্তী এলাকায় থেকে গিয়েছিলেন তারা ছাড়াও বাড়ি চলে যাওয়া শিক্ষার্থীদের একটা অংশ টিউশনি কিংবা অন্য পেশাগত কারণে ফের হলে উঠেছেন। ফলে কিছুটা হলেও সরগরম হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাস। আর এসব শিক্ষার্থীই আয়োজন করছেন এমন ইফতার ও ইফতার পূর্ব আড্ডার।

ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে ইফতার সামগ্রীর পসরা নিয়ে বসেন দোকানিরা। বিশেষ করে ক্যাম্পাসের ডেইরি গেট, প্রান্তিক গেট, বটতলা ও আবাসিক হলগুলোর দোকানে মূলত ইফতার সামগ্রী বিক্রি হয়। স্থায়ী দোকানদারদের সঙ্গে কিছু খন্ডকালীন বিক্রেতাও ইফতার সামগ্রী নিয়ে বসেন। ক্রেতাদের সামনে পেয়াজু, বেগুনি, ছোলা, জিলাপি ইত্যাদি হরেক রকমের ইফতার সামগ্রীর পসরা নিয়ে হাজির হন তারা। তবে এবার কিছুদিন হল বন্ধ থাকার কারণে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাওয়ায় বিক্রিও কমে গেছে বলে জানান ডেইরি গেটের এক দোকানি।

এদিকে অনেকেই অসচেতনতাবশত ইফতার শেষে খাবারের বর্জ্য ফেলে রেখে যান যা পরিবেশ ও সৌন্দর্য নষ্ট করছে। রোকনুজ্জামান রাজু নামে এক শিক্ষার্থী সেটা মনে করিয়ে দিয়ে বলছিলেন, ‘আমরা যারা ক্যাম্পাসে আছি তাদের কাছে সবুজের এই ক্যাম্পাসে বন্ধুদের সঙ্গে ইফতারের মুহূর্তটা অসাধারণ। বন্ধুদের সঙ্গে ইফতারে জমায়েত হওয়া পরিবারের অপূর্ণতা কিছুটা হলেও ঘুচিয়ে দেয়। তবে আমরা অনেকেই ইফতার শেষে জায়গাটা পরিষ্কার করতে ভুলে যাই। আমাদের জায়গাটা তো আমাদেরকেই পরিষ্কার করতে হবে।

পিডিএসও/হেলাল